একজন এসপির মহানুভবতার গল্প - দৈনিক বরিশাল ২৪ দৈনিক বরিশাল ২৪একজন এসপির মহানুভবতার গল্প - দৈনিক বরিশাল ২৪

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১২, ২০১৯ ৯:২৩ অপরাহ্ণ
A- A A+ Print

একজন এসপির মহানুভবতার গল্প

অনলাইন নিউজ: বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন শান্তি চৌধুরী। সত্তর পেরিয়েছেন আরো দু’ এক বছর আগে। তার শরীর জুড়ে বলিরেখা। কথা অস্পষ্ট। চোখেও ঝাপসা দেখেন তিনি।

প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় প্রচণ্ড রোদের মধ্যে পিচঢালা পথে শুয়ে ভিক্ষা করছিলেন শান্তি। এ সময় যানজট নিরসনে রাস্তায় কাজ করছিলেন গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। হঠাৎ করেই ভিক্ষুক শান্তি চৌধুরীর দিকে দৃষ্টি পড়ে তার।

এর পরের গল্প মানবতার। শান্তি চৌধুরীর কাছে এগিয়ে যান শামসুন্নাহার। জানতে চান জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কেন তাকে ভিক্ষা করতে হচ্ছে? কিছু সময় নীরব থাকেন শান্তি। পরে একের পর এক বলতে থাকেন তার জীবনের নানা ঘটনা।

শান্তির কথা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এসপি। পরম দরদ ও যত্মে পুলিশের একটি গাড়িতে করে এসপি তাকে পাঠিয়ে দেন গাজীপুর সদরের মণিপুর এলাকার গিভেন্সি গ্রুপের প্রতিষ্ঠিত বয়স্ক ও পুর্নবাসন কেন্দ্রে। অবশেষে এই বৃদ্ধার ঠাঁই হয় বৃদ্ধাশ্রমে।

গাজীপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার সমকালকে বলেন, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কদুরখালী এলাকার ননী চৌধুরীর স্ত্রী শান্তি চৌধুরী। স্বামী প্রয়াত হয়েছেন বহু আগেই। শান্তি চৌধুরীর অর্থবিত্ত যা ছিল সব কিছু একদিন দিয়ে দেন মেয়ের জামাইকে।

শর্ত ছিল জীবনের শেষ দিনগুলো যেন শান্তি চৌধুরী মেয়ের কাছে শান্তিতে থাকতে পারেন। কিন্তু তা আর হয়নি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে শান্তি চৌধুরীর শেষ দিনগুলো কাটছিল পিচঢালা পথে শুয়ে ভিক্ষা করে। দ্বিতীয় একটা পক্ষ শান্তিকে দিয়ে ভিক্ষা করাতো।

শান্তি চৌধুরী পুলিশকে জানিয়েছেন, তার একটি ছেলে আছে। নাম লিটন চৌধুরী। পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে থাকেন তিনি। প্রায় ১০ বছর আগে একমাত্র মেয়ে বাপ্পী চৌধুরীর স্বামী বাবুল মল্লিককে জমাজমি যা ছিল সব বিক্রি করে টাকা দিয়ে দেন। শর্ত ছিল জীবনের শেষ দিনগুলো তাদের সান্নিধ্যে থাকবেন। সহায় সম্বল সব নেওয়ার পর বাড়ি থেকে শান্তিকে বের করে দেওয়া হয়। বেঁচে থাকার তাগিদে চলে আসেন গাজীপুর। বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি।

পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, এক সময় তার সব ছিল। এখন কিছুই নেই। তবে ছেলে মেয়ে আছে। তারা তাকে ঠাঁই দেয়নি।

জয়দেবপুর থানার ওসি জাবেদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, পুলিশ সুপারের মহানুভবতায় বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই হয়েছে শান্তি চৌধুরীর। এখন হয়তো তিনি কিছুটা শান্তি পাবেন। পুলিশের গাড়িতে করে শান্তিকে প্রথমে তার কাছে পাঠিয়ে দেন। পরে তিনি শান্তিকে ওই বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে আশ্রয় করে দেন।

দৈনিক বরিশাল ২৪

একজন এসপির মহানুভবতার গল্প

সোমবার, আগস্ট ১২, ২০১৯ ৯:২৩ অপরাহ্ণ

অনলাইন নিউজ: বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন শান্তি চৌধুরী। সত্তর পেরিয়েছেন আরো দু’ এক বছর আগে। তার শরীর জুড়ে বলিরেখা। কথা অস্পষ্ট। চোখেও ঝাপসা দেখেন তিনি।

প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় প্রচণ্ড রোদের মধ্যে পিচঢালা পথে শুয়ে ভিক্ষা করছিলেন শান্তি। এ সময় যানজট নিরসনে রাস্তায় কাজ করছিলেন গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। হঠাৎ করেই ভিক্ষুক শান্তি চৌধুরীর দিকে দৃষ্টি পড়ে তার।

এর পরের গল্প মানবতার। শান্তি চৌধুরীর কাছে এগিয়ে যান শামসুন্নাহার। জানতে চান জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কেন তাকে ভিক্ষা করতে হচ্ছে? কিছু সময় নীরব থাকেন শান্তি। পরে একের পর এক বলতে থাকেন তার জীবনের নানা ঘটনা।

শান্তির কথা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এসপি। পরম দরদ ও যত্মে পুলিশের একটি গাড়িতে করে এসপি তাকে পাঠিয়ে দেন গাজীপুর সদরের মণিপুর এলাকার গিভেন্সি গ্রুপের প্রতিষ্ঠিত বয়স্ক ও পুর্নবাসন কেন্দ্রে। অবশেষে এই বৃদ্ধার ঠাঁই হয় বৃদ্ধাশ্রমে।

গাজীপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার সমকালকে বলেন, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কদুরখালী এলাকার ননী চৌধুরীর স্ত্রী শান্তি চৌধুরী। স্বামী প্রয়াত হয়েছেন বহু আগেই। শান্তি চৌধুরীর অর্থবিত্ত যা ছিল সব কিছু একদিন দিয়ে দেন মেয়ের জামাইকে।

শর্ত ছিল জীবনের শেষ দিনগুলো যেন শান্তি চৌধুরী মেয়ের কাছে শান্তিতে থাকতে পারেন। কিন্তু তা আর হয়নি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে শান্তি চৌধুরীর শেষ দিনগুলো কাটছিল পিচঢালা পথে শুয়ে ভিক্ষা করে। দ্বিতীয় একটা পক্ষ শান্তিকে দিয়ে ভিক্ষা করাতো।

শান্তি চৌধুরী পুলিশকে জানিয়েছেন, তার একটি ছেলে আছে। নাম লিটন চৌধুরী। পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে থাকেন তিনি। প্রায় ১০ বছর আগে একমাত্র মেয়ে বাপ্পী চৌধুরীর স্বামী বাবুল মল্লিককে জমাজমি যা ছিল সব বিক্রি করে টাকা দিয়ে দেন। শর্ত ছিল জীবনের শেষ দিনগুলো তাদের সান্নিধ্যে থাকবেন। সহায় সম্বল সব নেওয়ার পর বাড়ি থেকে শান্তিকে বের করে দেওয়া হয়। বেঁচে থাকার তাগিদে চলে আসেন গাজীপুর। বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি।

পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, এক সময় তার সব ছিল। এখন কিছুই নেই। তবে ছেলে মেয়ে আছে। তারা তাকে ঠাঁই দেয়নি।

জয়দেবপুর থানার ওসি জাবেদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, পুলিশ সুপারের মহানুভবতায় বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই হয়েছে শান্তি চৌধুরীর। এখন হয়তো তিনি কিছুটা শান্তি পাবেন। পুলিশের গাড়িতে করে শান্তিকে প্রথমে তার কাছে পাঠিয়ে দেন। পরে তিনি শান্তিকে ওই বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে আশ্রয় করে দেন।

প্রকাশক: মোসাম্মাৎ মনোয়ারা বেগম। সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা। সম্পাদক : শামিম আহমেদ যুগ্ন-সম্পাদক : মো:মনিরুজ্জামান। প্রধান উপদেষ্টা: মোসাম্মৎ তাহমিনা খান বার্তা সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম ।
প্রধান কার্যালয় : রশিদ প্লাজা,৪র্থ তলা,সদর রোড,বরিশাল।
সম্পাদক: 01711970223 বার্তা বিভাগ: 01764- 631157
ইমেল: sohelahamed2447@gmail.com
  বিভিন্ন দাবিতে ২০ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করবে বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারি সমিতি ফেডারেশন   বিশ্বকাপ বাছাইয়ে রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা   বরিশাল মহানগরীর পলাশপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত   এসএসসি পরীক্ষার শুরুর দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে   আমাদের প্রধান লক্ষ্য শিক্ষার মান উন্নয়ন : গণশিক্ষা উপদেষ্টা   ঢাকাস্থ বরিশাল জেলা সমিতির ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত   আগামী নির্বাচন পৃথিবীতে নজির সৃষ্টি করবে, আশা জাতিসংঘ মহাসচিবের   চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পরিবারে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ   জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য হলেন ফ্যাসিবাদবিরোধী নেতা ইকবাল হোসেন তাপস   আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন মাহমুদউল্লাহ   ডিপিএলের তিন ম্যাচেই ব্যাটিং বিপর্যয়, তামিমের সেঞ্চুরি   শিক্ষার ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষা   বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে ইফতার ও দোআ মাহফিল অনুষ্ঠিত   নজির আহাম্মদ সওঃ স্মৃতি ক্রিকেট টুর্ণামেন্টে সহিদ স্মৃতি একাদশ জয়ী   জাপা নেতা তাপসের পিতার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করল জাতীয় পার্টি   মিথ্যা ইতিহাস স্বর্ণখচিত অক্ষরে লেখার চেয়ে সত্যি ইতিহাস কয়লার কালি দিয়ে লেখাও উত্তম   দেশের সব মসজিদে এক পদ্ধতিতে তারাবি পড়ার আহ্বান   নোমান ভাইয়ের অবদান আজও দরকার ছিল: আমীর খসরু   বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের জানাজায় লাখো মানুষের ঢল   নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক করে নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র আত্মপ্রকাশ