মাশরাফি বিন মুর্তজা সর্বকালের সেরা অধিনায়ক : মোজাম্মেল হক

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল এর জনপ্রিয় ক্রিকেটার সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা সর্বকালের সেরা অধিনায়ক বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় এর সহকারি কমিশনার মো: মোজাম্মেল হক অপু চৌধুরী। বাংলাদেশ দলের এই ক্রিকেটারকে নিয়ে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ দৈনিক বরিশাল ২৪.কম’-এ লিখেছেন তিনি । তার লেখাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল:
বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা পেস বোলার,
ম্যাশ যখন জাতীয় দলে হঠাৎ করেই ঢুকে পড়লেন তখন আমি ক্লাস টেন এ পড়ি, তার কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে, আরো কিছু দিন আগে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে হারিয়েছে, তার আগে আইসিসি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
যার সবকিছুই করেছে ৮০-৯০ দশকের আকরাম-বুলবুল-নান্নু-সুজন-এনামুল-পাইলট দের প্রজন্ম।
একবিংশ শতাব্দী তে আমরা যখন বিশ্বাস করতে শুরু করলাম ফুটবল-হকি নয় বরঞ্চ নিজেদেরকে ক্রিকেট প্লেয়িং ন্যাশন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব তখন আমাদের নতুন বাংলাদেশের নতুন ক্রিকেট দল এর খেলোয়াড়রা আসতে শুরু করল
প্রথমেই আসল বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান আশরাফুল, তার ছয় মাসের মাথায় আসল সর্বকালের সেরা পেসার মাশরাফি।
মাশরাফি যখন আসল তখন আমরা যারা কিশোর তাদের কি অনুভূতি, ঐ গতির বোলার তখন ভারতেও নাই, ভারত নাকি মাশরাফিকে চেয়েছে আমাদের কাছে।
তারপর একে একে আসল অলোক কাপালি, রাজিন সালেহ, শাহরিয়ার নাফিস,আফতাব, নাফিস ইকবালরা ধরে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটকে তারা এগিয়ে নিয়ে যাবেন, নেতৃত্ব দিবেন, কিন্তু দার্ভাগ্য নিজেদের সামর্থ্য অনুসারে পারফর্ম না করা আর আইসিএল কেলেংকারি ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটকে পিছিয়ে নিতে চাইল, ২০১২ সালে স্পট ফিক্সিং দিল আরো বড় ধাক্কা।
ঐ সময় মাশরাফিও ঢাকা ডায়নামাইটস এর অধিনায়ক হিসেবে বড় অংকের অর্থ প্রাপ্তির অফার পেয়েছিলেন, কিন্তু তার সততা, তার বিশ্বস্ততা তখন অন্য তারকা ক্রিকেটারদের, তরুন ক্রিকেটারদেের সৎ পথে থাকার জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, বাংলাদেশের ক্রিকেটও দেশী বিদেশী চক্রান্তের হাত থেকে সে যাত্রায় বেচে গিয়েছিল।
কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বারংবার ইনজুরি, নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সাকিব, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, তামিম এর মত তরুণ ক্রিকেটারদের ভয়ডরহীন মনোভাব আর নিজের অসাধারণ সততা, দেশপ্রেম নেতৃত্ব দিয়ে যে দলটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঝেমধ্যে জিতত তাও দেশের মাটিতে সেই ক্রিকেট দলটিকে দেশে বিদেশে সবযায়গায় জিততে শিখিয়েছেন, বড় দলের সাথেও একটা ম্যাচ হারলেও এখন সমালোচনা হয়, কি কি করলে আমরা জিততে পারতাম তা বলা হয়।
আমরা যারা নব্বই দশকের ক্রিকেট পাগল দর্শক তারা জানি বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম এর মিনোজ থেকে মাইটি হয়ে ওঠার পিছনে মাশরাফির কি অবদান।
মাশরাফির ক্যারিয়ার উইকেট এর হিসাব দিয়ে করলে হবে না, ২০১৯ বিশ্বকাপের উইকেট এর সংখ্যা দিয়ে করলেও হবে না। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে করলেও হবে না।
একজন ব্যতিক্রম বাঙ্গালি হিসেবে সততা, দেশপ্রেম, মানবিকতাবোধই তাঁকে কিংবদন্তীতে পরিনত করতে যথেষ্ট।
আজ নিশ্চিতভাবেই বিশ্বমঞ্চে মাশরাফির শেষ ম্যাচ, যদি কোনো কারনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও শেষ ম্যাচ হয় তা হবে বাংলাদেশের মানুষদের জন্য ভিষণ দুঃখের দিন। বিদায় মাশরাফি Thank you for everything
লেখক: মো: মোজাম্মেল হক অপু চৌধুরী, সহকারি কমিশনার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়।