বড়লেখার ঐতিহ্যবাহী দৌলতপুর গ্রামের ইতিবৃত্ত... - দৈনিক বরিশাল ২৪ দৈনিক বরিশাল ২৪বড়লেখার ঐতিহ্যবাহী দৌলতপুর গ্রামের ইতিবৃত্ত... - দৈনিক বরিশাল ২৪

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৭, ২০২০ ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
A- A A+ Print

বড়লেখার ঐতিহ্যবাহী দৌলতপুর গ্রামের ইতিবৃত্ত…

কাজী রমিজ উদ্দীন::

মৌলভী বাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার ৩ নং নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ১২ টি মৌজা,১৫ টি গ্রামের মধ্যে  ছোট একটি মৌজা ও গ্রামের সুপরিচিত নাম হলো পশ্চিম দৌলতপুর বা দৌলতপুর।দৌলতপুরের আয়তন ৪৮৫ একর ভূমি।
লোক সংখ্যাপ্রায় ৫৫১ জন।পূর্বে  চরিয়া মৌজা (মেদা,চাড়ুয়া বিল),দক্ষিণে পকুয়া মৌজা,পশ্চিমে সুনাই নদী ও উত্তরে ইটাউরী মৌজার মধ্যবর্তী মৌজাই হলো পশ্চিম দৌলতপুর।পশ্চিম দৌলতপুর মৌজা বা গ্রামের উত্তরাংশে (লাতু-জলঢুপ) সড়ক বিদ্যমান। ঐ সড়কের সুনাই নদীর উপর নির্মিত কানলী সেতুর পূর্বাংশে পশ্চিম দৌলতপুর মৌজা বিধায় কানলী সেতুটি দৌলতপুর মৌজাস্থ দৌলতপুর বাজার ভেদ করে দুইভাগে বিভক্ত করে এবং উভয় অংশই পশ্চিম দৌলতপুর মৌজাস্থ দৌলতপুর বাজার হিসেবে সু-পরিচিতি রয়েছে।
এতে সেতুর উভয় পার্শ্বে দৌলতপুর বাজারের সৌন্দর্য্য মানুষ কে হাতছানি দিয়ে ডাকে।  সেতুর পূর্বাংশে অটোরিক্সা ষ্ট্যান্ড থাকায় এখান থেকে উপজেলা সদর বড়লেখা ও বিয়ানীবাজারে মানুষ  যাতায়াত করে থাকে।প্রায় একশত বছর পূর্বে ২৩/২/১৯২৫ সনে তারিখে রেজিষ্ট্রি দলিলমুলে দৌলতপুর গ্রামের বংশভূত পূর্ব পুরুষরা হাট বাজারের সুবিধার্থে পশ্চিম দৌলতপুর মৌজার উত্তর পশ্চিমাংশে নিজেদের ভুমি পশ্চিম দৌলতপুর মৌজাস্থ দৌলতপুর বাজার নামে ৩৫ শতক,ঈদগাহ নামে ১৩ শতক দৌলতপুর  বাজার ও ঈদগাহ নামে দান করেন ।
দৌলতপুর বাজারে আগত জনসাধারনের সুবিধার্থে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পরবর্তীতে দৌলতপুর গ্রামের বংশভূতরা দৌলতপুর মৌজাস্হ দৌলতপুর বাজার মসজিদ,দৌলতপুর বাজার শাহী ঈদগাহ,পরগনাহী দৌলতপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা প্রতিষ্টা লাভ করে।
পরবর্তীতে এলাকাবাসী নিত্য ব্যবহার্য্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র ক্রয় বিক্রয় করিতে থাকিলে ধীরে ধীরে বহু দোকানপাঠ গড়ে উঠে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বাজারে রুপান্তরিত হয়। ফলশ্রুতিতে দৌলতপুর গ্রামটি একটি আদর্শ এবং ঐতিহ্যবাহী গ্রামে পরিগনিত হয়।
দৌলতপুর বাজার রক্ষনাবেক্ষন ও ব্যবসায়ি সমিতি পরিচালনার জন্যে  ১৬ই মার্চ ১৯৮২ ইংরেজী  এলাকার বিশিষ্ট মুরুব্বি জনাব মোঃ নেকদিল হোসেন (বিহাইডহর),জনাব আব্দুন নুর (বিহাইডহর),জনাব মোঃতইর আলী(কবিরা), হাজী মোঃমনোহর আলী(ইটাউরী), মৌলভী আব্দুল আহাদ(ইটাউরী), আব্দুল খালিক(ইটাউরী), রেজান আলী(কান্দিগ্রাম), রহমান আলী(কান্দীগ্রাম), মোঃইনসান আলী(পকুয়া) জনাব ফরিজ আলী(দৌলতপুর),ইছরাব আলী(পকুয়া,)হাজী নিমার আলী(সুফিনগর), হাজী মুহিব আলী(সুফিনগর), কাজী মাওলানা একেএমএ শাকুর(চরিয়া), হাজী হাছন আলী(পকুয়া), মনজ্জির আলী(দৌলতপুর), কাজী মাওলানা আফসার উদ্দীন,জনাব শফিকুল হক কুনু(ইটাউরী), হাজী মকদ্দছ আলী(কবিরা), সৈয়দ সামছুল হক (ইটাউরী), কমর উদ্দীন(কান্দিগ্রাম) গং নিয়ে সর্ব প্রথম এক সভা অনুষ্টিত হয়।
  ২০ শে এপ্রিল ১৯৮২ সনে দৌলতপুর বাজার পরিচালনা কমিটি দুই বছর মেয়াদে সুফিনগর গ্রামের  হাজী নিমার আলীর প্রস্তাবে মোঃইনছান আলী(পকুয়া) কে সভাপতি এবং  ইটাউরী গ্রামের  হাজী মনোহর আলীর প্রস্তাবে আমার পিতা কাজী মাওলানা আফসার উদ্দীন(দৌলতপুর) কে সেক্রেটারী পদে মনোনিত করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৪-১৯৮৬ সনে  মাওলানা সৈয়দ আতাউর রহমান(ইটাউরী) কে সভাপতি এবং জনাব কাজী  মাওলানা একেএমএ শাকুর(চরিয়া) কে সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৬-১৯৯২ ইং সনে  আব্দুশ শহিদ(চেয়ারম্যান,নিজ বাহাদুরপুর) কে সভাপতি এবং কাজী মাওলানা আফসার উদ্দীন  (দৌলতপুর) কে সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।অতঃপর ১৯৯২-১৯৯৬ ইং সনে  আমান উল্লাহ(কান্দিগ্রাম) কে সভাপতি এবং  হাজী আব্দুল হান্নান(দৌলতপুর) কে সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন।১৯৯৬-১৯৯৮ সনে জনাব সামছুল ইসলাম ইজ্জাই(চেয়ারম্যান,নিজ বাহাদুরপুর) কে সভাপতি এবং জনাব হাজী আব্দুল হান্নান (দৌলতপুর) কে সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮-২০০২ ইং সনে জনাব আব্দুল আহাদ নুরু (দৌলতপুর) সভপতি কে এবং জনাব আব্দুল আহাদ মানিক( দৌলতপুর) কে সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২-২০০৫ ইং সনে  আব্দুল আহাদ মানিক(দৌলতপুর) কে সভাপতি এবং নুরুল হক (দৌলতপুর) কে সেক্রেটারী দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে দীর্ঘদিন দৌলতপুর বাজার পরিচালনা কমিটি না থাকায় গত ২২ শে নভেম্বর ২০২০ সনে জনাব মো শামীম উদ্দীন(ইউ/পি সদস্য,২ নং ওয়ার্ড) সভাপতি এবং জনাব এমরানুল হক (বাবু) (চরিয়া) কে সেক্রেটারী করে মোট ২৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি এক বছরের জন্য মনোনিত করা হয়।
এলাকার অতি প্রাচীন  দৌলতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৮৩০ খ্রীঃ প্রতিষ্টা লাভ করে এবং দৌলতপুর গ্রাম সহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের ছেলে মেয়েরা ঐ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এছাড়া দৌলতপুর হাছিব আলী একাডেমী শিক্ষা বিস্তারে অগ্রনী ভুমিকা পালন করছে।এমন কি এলাকাবাসীর পরামর্শ ও সহযোগিতায় দৌলতপুর গ্রামের কৃতি সন্তান আমার বংশীয় দাদা মরহুম মাওলানা মোঃমছদ্দর আলী সাহেব দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিলে ১৯৫০ সনে পশ্চিম দৌলতপুর মৌজাস্হ ভুমিতে পরগনাহী দৌলতপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা প্রতিষ্টা করেন।
এলাকাবাসীর সুবিধার্থে ১৯৭২ সনে পশ্চিম দৌলতপুর মৌজাস্থ দৌলতপুর বাজারে একটি ডাকঘর স্থাপনকালে বড়লেখা উপজেলার অর্ন্তগত গ্রাম না হওয়া সত্বেও বিয়ানী বাজার উপজেলাধীন কাংলী গ্রামের নাম অনুসারে কানলী পোস্ট অফিস নামকরণ করা হয়ে ছিলো। দৌলতপুর বাজার পোষ্ট অফিস নামকরণ করার দাবীতে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর  পর মহামান্য হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী দৌলতপুর বাজার -৩২৫৩, পোস্ট অফিস নামে স্বীকৃতি লাভ করে।বিগত ২০১৩ সালে দৌলতপুর গ্রামবাসী বাংলাদেশ ডাক বিভাগের নামে তিন শতক ভুমি দান করিলে বর্তমানে দৌলতপুর বাজার-৩২৫৩,ডাকঘরটি নিজস্ব ভুমিতে সরকারীভাবে ভবন নির্মিত হয়ে ডাক বিভাগের কার্যক্রম চলছে।
উল্লেখ্য যে,পশ্চিম দৌলতপুর মৌজাস্থ দৌলতপুর বাজার বর্তমান আর,এস জরিপে বাংলাদেশ সরকারের ১ নং খতিয়ানে দৌলতপুর বাজার হিসাবে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।দৌলতপুর বাজার কে কানলী বাজার বা দৌলতপুর বাজার পোষ্ট অফিস কে কানলী পোস্ট অফিস প্রতিষ্টায় ব্যর্থ সুযোগ সন্ধানীরা দৌলতপুর বাজারের সুনাম ক্ষুন্ন করার ইন্দন করছে। দৌলতপুর বাজারের পশ্চিম পার্শ্ব দিয়া সুনাই নদী প্রবাহমান এবং পার্শ্ববর্তী মৌজার নদী ভাংগনের পলিভরাট ভূমি বর্তমানে নদী ভাঙ্গনে বিলিন হওয়া পলিভরাট ভূমি পশ্চিম দৌলতপুর মৌজা সাথে একত্রিত করে পুরানো ঐতিহ্যবাহী দৌলতপুর বাজারের নতুন নামকরণের অপচেষ্টা করায় দৌলতপুর বাজার কেন্দ্রীক এলাকাবাসী ২০১৩ সালে মৌলভী বাজার সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করিলে বর্তমানে মামলা ডায়েরী অবস্হায় রয়েছে।
পশ্চিম দৌলতপুর মৌজা বা দৌলতপুর গ্রাম ছোট হলেও তার পরিধি বিশাল,এই গ্রামে দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্টান থেকে শত শত ছাত্র-দেশী-বিদেশে উচ্চ পদে চাকুরীরত।দৌলতপুর গ্রামের সন্তান বিদেশের মাঠিতে উচ্চ শিক্ষা আরোহণ করছে, পিএইচডি(ডক্টর অব ফিলোসফি) ডিগ্রি অর্জনের বিদেশ পড়ালেখা করছে।এ গ্রামে কৃতি ছাত্র মেডিক্যাল কলেজে পড়ালেখা করছে।
দৌলতপুর গ্রামে একটি জামে মসজিদ সহ ৩ টি পাঞ্জেগানা মসজিদ রয়েছে।একটি সার্বজনীন কবরস্থান রয়েছে,সেখানে চিরনিদ্রায় শয়িত আছেন স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদ ডাক্তার আব্দুন নূর সহ গ্রামের অসংখ্য গন্যমান্য মানুষ। এছাড়াও দৌলতপুর বাজার ক্রিকেট ক্লাবের মাধ্যমে বড়লেখা উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী উপজেলায় খেলাধুলায় সক্রিয় অংশ গ্রহনের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করছে।
২০০০ সালে দৌলতপুর দিশারী সমাজ কল্যাণ পরিষদের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে,বৃত্তি প্রদান করে শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছে এবং ২০০৪ সালে পূর্ব সিলেটের মধ্যে ঐতিহাসিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করে যুগান্তকারী ইতিহাস সৃষ্টি করে।
এ গ্রামে অসংখ্য গুণী ব্যক্তিবর্গের জন্ম হয়েছে। এ পর্যন্ত যে সব গুণীব্যক্তিবর্গ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন তন্মধ্যে অন্যতম ১৯৭১ সালে রাজাকারের যোগসূত্রে পাকহানাদার বাহিনী শহীদ ডাক্তার  আব্দুন নুর কে ধরে নিয়ে শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঁশে নির্মম ভাবে শহীদ করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিলদার(অবঃ) মোঃ রফিক উদ্দীন,মাস্টার তৈয়ব আলী,মাস্টার ইনজাদ আলী, মাস্টার ওয়ারিছ আলী, মাস্টার মোঃমখদ্দছ আলী, সাবেক ইউপি সদস্য  হাজী সমজিদ আলী।
মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী, রাজনীতিক ইসলাম উদ্দীন,৪ নং উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন নিকাহ রেজিষ্ট্রার (আমার পিতা মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দৌলতপুর বাজার কমিটি,দৌলতপুর বাজার মসজিদ কমিটি,দৌলতপুর বাজার শাহী ঈদগাহ কমিটির গুরুত্বপুর্ন দায়িত্বে ছিলেন)কাজী মাওলানা আফসার উদ্দীন,সাবেক ইউপি সদস্য  নুরুল হক,নিজ বাহাদুর পুর ইউনিয়ন সহ ৫ টি ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার  মাওঃ কাজী একেএমএ শাকুর(চরিয়ার কাজী সাব) সহ নাম অজানা অসংখ্য গুনিজনের বিয়োগ হয়েছে।
এ পর্যন্ত যে সব গুণী দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সুনাম অর্জন করছেন। তারা হলেন।১৯৭১ সালের রনাঙ্গনের বীরমুক্তিযোদ্ধা সাবেক ইউপি সদস্য রফিক উদ্দীন পংকি,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান,সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান  প্রফেসর  আব্দুল কুদ্দুস,সিলেট জল্লারপাড়ের হোমিও ডাক্তার জনাব অধ্যাপক আব্দুল হক,সোনালী ব্যাংকের প্রাক্তন ম্যানেজার,দৌলতপুর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি নাজমুল হক টুনু,অধ্যাপক ডাঃ জনাব নজমুল হক,৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ঘোলষা নিবাসী মোঃ শাহাব উদ্দীন,বড়লেখার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ বর্তমান পৌরসভা হাটবন্দ নিবাসী জনাব আবুল হোসেন গিয়াস, সাবেক প্রধান শিক্ষক মাওলানা  আব্দুস সবুর,ফেঞ্চুগন্জ সার কারখানার সাবেক কর্মকর্তা জনাব হাজী ইলিয়াস আলী,ডাক্তার মোঃ ফাহাদ হাসান সহ আরো অনেকে রয়েছে।
দৌলতপুর গ্রামের কৃতি সন্তানরা প্রবাসে বসে দৌলতপুর ওয়েলফেয়ার সোসাইটি মাধ্যমে দৌলতপুর এলাকায় নানাবিদ সামাজিক কাজ সহ গ্রামের উন্নয়ণে অসামান্য  অবধান রাখছে।
তথ্যসুত্রঃদৌলতপুর বাজার ডাকঘরের মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের কপি,দৌলতপুর বাজার পরিচালনা কমিটির ১৯৮২-২০০৫ সনের রেজুলেশন কপি, সংশ্লিষ্ট মামলার কপি,২৩/২/১৯২৫ সনের রেজিষ্ট্রিকৃত দলিল,লোক সমাজে প্রচলিত জনশ্রুতি মৌখিক থেকে নেয়া।
লেখকঃ কাজী রমিজ উদ্দীন, সদস্য-বড়লেখা প্রেসক্লাব,মৌলভী বাজার।
দৈনিক বরিশাল ২৪

বড়লেখার ঐতিহ্যবাহী দৌলতপুর গ্রামের ইতিবৃত্ত…

শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০২০ ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

কাজী রমিজ উদ্দীন::

মৌলভী বাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার ৩ নং নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ১২ টি মৌজা,১৫ টি গ্রামের মধ্যে  ছোট একটি মৌজা ও গ্রামের সুপরিচিত নাম হলো পশ্চিম দৌলতপুর বা দৌলতপুর।দৌলতপুরের আয়তন ৪৮৫ একর ভূমি।
লোক সংখ্যাপ্রায় ৫৫১ জন।পূর্বে  চরিয়া মৌজা (মেদা,চাড়ুয়া বিল),দক্ষিণে পকুয়া মৌজা,পশ্চিমে সুনাই নদী ও উত্তরে ইটাউরী মৌজার মধ্যবর্তী মৌজাই হলো পশ্চিম দৌলতপুর।পশ্চিম দৌলতপুর মৌজা বা গ্রামের উত্তরাংশে (লাতু-জলঢুপ) সড়ক বিদ্যমান। ঐ সড়কের সুনাই নদীর উপর নির্মিত কানলী সেতুর পূর্বাংশে পশ্চিম দৌলতপুর মৌজা বিধায় কানলী সেতুটি দৌলতপুর মৌজাস্থ দৌলতপুর বাজার ভেদ করে দুইভাগে বিভক্ত করে এবং উভয় অংশই পশ্চিম দৌলতপুর মৌজাস্থ দৌলতপুর বাজার হিসেবে সু-পরিচিতি রয়েছে।
এতে সেতুর উভয় পার্শ্বে দৌলতপুর বাজারের সৌন্দর্য্য মানুষ কে হাতছানি দিয়ে ডাকে।  সেতুর পূর্বাংশে অটোরিক্সা ষ্ট্যান্ড থাকায় এখান থেকে উপজেলা সদর বড়লেখা ও বিয়ানীবাজারে মানুষ  যাতায়াত করে থাকে।প্রায় একশত বছর পূর্বে ২৩/২/১৯২৫ সনে তারিখে রেজিষ্ট্রি দলিলমুলে দৌলতপুর গ্রামের বংশভূত পূর্ব পুরুষরা হাট বাজারের সুবিধার্থে পশ্চিম দৌলতপুর মৌজার উত্তর পশ্চিমাংশে নিজেদের ভুমি পশ্চিম দৌলতপুর মৌজাস্থ দৌলতপুর বাজার নামে ৩৫ শতক,ঈদগাহ নামে ১৩ শতক দৌলতপুর  বাজার ও ঈদগাহ নামে দান করেন ।
দৌলতপুর বাজারে আগত জনসাধারনের সুবিধার্থে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পরবর্তীতে দৌলতপুর গ্রামের বংশভূতরা দৌলতপুর মৌজাস্হ দৌলতপুর বাজার মসজিদ,দৌলতপুর বাজার শাহী ঈদগাহ,পরগনাহী দৌলতপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা প্রতিষ্টা লাভ করে।
পরবর্তীতে এলাকাবাসী নিত্য ব্যবহার্য্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র ক্রয় বিক্রয় করিতে থাকিলে ধীরে ধীরে বহু দোকানপাঠ গড়ে উঠে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বাজারে রুপান্তরিত হয়। ফলশ্রুতিতে দৌলতপুর গ্রামটি একটি আদর্শ এবং ঐতিহ্যবাহী গ্রামে পরিগনিত হয়।
দৌলতপুর বাজার রক্ষনাবেক্ষন ও ব্যবসায়ি সমিতি পরিচালনার জন্যে  ১৬ই মার্চ ১৯৮২ ইংরেজী  এলাকার বিশিষ্ট মুরুব্বি জনাব মোঃ নেকদিল হোসেন (বিহাইডহর),জনাব আব্দুন নুর (বিহাইডহর),জনাব মোঃতইর আলী(কবিরা), হাজী মোঃমনোহর আলী(ইটাউরী), মৌলভী আব্দুল আহাদ(ইটাউরী), আব্দুল খালিক(ইটাউরী), রেজান আলী(কান্দিগ্রাম), রহমান আলী(কান্দীগ্রাম), মোঃইনসান আলী(পকুয়া) জনাব ফরিজ আলী(দৌলতপুর),ইছরাব আলী(পকুয়া,)হাজী নিমার আলী(সুফিনগর), হাজী মুহিব আলী(সুফিনগর), কাজী মাওলানা একেএমএ শাকুর(চরিয়া), হাজী হাছন আলী(পকুয়া), মনজ্জির আলী(দৌলতপুর), কাজী মাওলানা আফসার উদ্দীন,জনাব শফিকুল হক কুনু(ইটাউরী), হাজী মকদ্দছ আলী(কবিরা), সৈয়দ সামছুল হক (ইটাউরী), কমর উদ্দীন(কান্দিগ্রাম) গং নিয়ে সর্ব প্রথম এক সভা অনুষ্টিত হয়।
  ২০ শে এপ্রিল ১৯৮২ সনে দৌলতপুর বাজার পরিচালনা কমিটি দুই বছর মেয়াদে সুফিনগর গ্রামের  হাজী নিমার আলীর প্রস্তাবে মোঃইনছান আলী(পকুয়া) কে সভাপতি এবং  ইটাউরী গ্রামের  হাজী মনোহর আলীর প্রস্তাবে আমার পিতা কাজী মাওলানা আফসার উদ্দীন(দৌলতপুর) কে সেক্রেটারী পদে মনোনিত করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৪-১৯৮৬ সনে  মাওলানা সৈয়দ আতাউর রহমান(ইটাউরী) কে সভাপতি এবং জনাব কাজী  মাওলানা একেএমএ শাকুর(চরিয়া) কে সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৬-১৯৯২ ইং সনে  আব্দুশ শহিদ(চেয়ারম্যান,নিজ বাহাদুরপুর) কে সভাপতি এবং কাজী মাওলানা আফসার উদ্দীন  (দৌলতপুর) কে সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।অতঃপর ১৯৯২-১৯৯৬ ইং সনে  আমান উল্লাহ(কান্দিগ্রাম) কে সভাপতি এবং  হাজী আব্দুল হান্নান(দৌলতপুর) কে সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন।১৯৯৬-১৯৯৮ সনে জনাব সামছুল ইসলাম ইজ্জাই(চেয়ারম্যান,নিজ বাহাদুরপুর) কে সভাপতি এবং জনাব হাজী আব্দুল হান্নান (দৌলতপুর) কে সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮-২০০২ ইং সনে জনাব আব্দুল আহাদ নুরু (দৌলতপুর) সভপতি কে এবং জনাব আব্দুল আহাদ মানিক( দৌলতপুর) কে সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২-২০০৫ ইং সনে  আব্দুল আহাদ মানিক(দৌলতপুর) কে সভাপতি এবং নুরুল হক (দৌলতপুর) কে সেক্রেটারী দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে দীর্ঘদিন দৌলতপুর বাজার পরিচালনা কমিটি না থাকায় গত ২২ শে নভেম্বর ২০২০ সনে জনাব মো শামীম উদ্দীন(ইউ/পি সদস্য,২ নং ওয়ার্ড) সভাপতি এবং জনাব এমরানুল হক (বাবু) (চরিয়া) কে সেক্রেটারী করে মোট ২৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি এক বছরের জন্য মনোনিত করা হয়।
এলাকার অতি প্রাচীন  দৌলতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৮৩০ খ্রীঃ প্রতিষ্টা লাভ করে এবং দৌলতপুর গ্রাম সহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের ছেলে মেয়েরা ঐ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এছাড়া দৌলতপুর হাছিব আলী একাডেমী শিক্ষা বিস্তারে অগ্রনী ভুমিকা পালন করছে।এমন কি এলাকাবাসীর পরামর্শ ও সহযোগিতায় দৌলতপুর গ্রামের কৃতি সন্তান আমার বংশীয় দাদা মরহুম মাওলানা মোঃমছদ্দর আলী সাহেব দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিলে ১৯৫০ সনে পশ্চিম দৌলতপুর মৌজাস্হ ভুমিতে পরগনাহী দৌলতপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা প্রতিষ্টা করেন।
এলাকাবাসীর সুবিধার্থে ১৯৭২ সনে পশ্চিম দৌলতপুর মৌজাস্থ দৌলতপুর বাজারে একটি ডাকঘর স্থাপনকালে বড়লেখা উপজেলার অর্ন্তগত গ্রাম না হওয়া সত্বেও বিয়ানী বাজার উপজেলাধীন কাংলী গ্রামের নাম অনুসারে কানলী পোস্ট অফিস নামকরণ করা হয়ে ছিলো। দৌলতপুর বাজার পোষ্ট অফিস নামকরণ করার দাবীতে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর  পর মহামান্য হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী দৌলতপুর বাজার -৩২৫৩, পোস্ট অফিস নামে স্বীকৃতি লাভ করে।বিগত ২০১৩ সালে দৌলতপুর গ্রামবাসী বাংলাদেশ ডাক বিভাগের নামে তিন শতক ভুমি দান করিলে বর্তমানে দৌলতপুর বাজার-৩২৫৩,ডাকঘরটি নিজস্ব ভুমিতে সরকারীভাবে ভবন নির্মিত হয়ে ডাক বিভাগের কার্যক্রম চলছে।
উল্লেখ্য যে,পশ্চিম দৌলতপুর মৌজাস্থ দৌলতপুর বাজার বর্তমান আর,এস জরিপে বাংলাদেশ সরকারের ১ নং খতিয়ানে দৌলতপুর বাজার হিসাবে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।দৌলতপুর বাজার কে কানলী বাজার বা দৌলতপুর বাজার পোষ্ট অফিস কে কানলী পোস্ট অফিস প্রতিষ্টায় ব্যর্থ সুযোগ সন্ধানীরা দৌলতপুর বাজারের সুনাম ক্ষুন্ন করার ইন্দন করছে। দৌলতপুর বাজারের পশ্চিম পার্শ্ব দিয়া সুনাই নদী প্রবাহমান এবং পার্শ্ববর্তী মৌজার নদী ভাংগনের পলিভরাট ভূমি বর্তমানে নদী ভাঙ্গনে বিলিন হওয়া পলিভরাট ভূমি পশ্চিম দৌলতপুর মৌজা সাথে একত্রিত করে পুরানো ঐতিহ্যবাহী দৌলতপুর বাজারের নতুন নামকরণের অপচেষ্টা করায় দৌলতপুর বাজার কেন্দ্রীক এলাকাবাসী ২০১৩ সালে মৌলভী বাজার সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করিলে বর্তমানে মামলা ডায়েরী অবস্হায় রয়েছে।
পশ্চিম দৌলতপুর মৌজা বা দৌলতপুর গ্রাম ছোট হলেও তার পরিধি বিশাল,এই গ্রামে দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্টান থেকে শত শত ছাত্র-দেশী-বিদেশে উচ্চ পদে চাকুরীরত।দৌলতপুর গ্রামের সন্তান বিদেশের মাঠিতে উচ্চ শিক্ষা আরোহণ করছে, পিএইচডি(ডক্টর অব ফিলোসফি) ডিগ্রি অর্জনের বিদেশ পড়ালেখা করছে।এ গ্রামে কৃতি ছাত্র মেডিক্যাল কলেজে পড়ালেখা করছে।
দৌলতপুর গ্রামে একটি জামে মসজিদ সহ ৩ টি পাঞ্জেগানা মসজিদ রয়েছে।একটি সার্বজনীন কবরস্থান রয়েছে,সেখানে চিরনিদ্রায় শয়িত আছেন স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদ ডাক্তার আব্দুন নূর সহ গ্রামের অসংখ্য গন্যমান্য মানুষ। এছাড়াও দৌলতপুর বাজার ক্রিকেট ক্লাবের মাধ্যমে বড়লেখা উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী উপজেলায় খেলাধুলায় সক্রিয় অংশ গ্রহনের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করছে।
২০০০ সালে দৌলতপুর দিশারী সমাজ কল্যাণ পরিষদের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে,বৃত্তি প্রদান করে শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছে এবং ২০০৪ সালে পূর্ব সিলেটের মধ্যে ঐতিহাসিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করে যুগান্তকারী ইতিহাস সৃষ্টি করে।
এ গ্রামে অসংখ্য গুণী ব্যক্তিবর্গের জন্ম হয়েছে। এ পর্যন্ত যে সব গুণীব্যক্তিবর্গ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন তন্মধ্যে অন্যতম ১৯৭১ সালে রাজাকারের যোগসূত্রে পাকহানাদার বাহিনী শহীদ ডাক্তার  আব্দুন নুর কে ধরে নিয়ে শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঁশে নির্মম ভাবে শহীদ করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিলদার(অবঃ) মোঃ রফিক উদ্দীন,মাস্টার তৈয়ব আলী,মাস্টার ইনজাদ আলী, মাস্টার ওয়ারিছ আলী, মাস্টার মোঃমখদ্দছ আলী, সাবেক ইউপি সদস্য  হাজী সমজিদ আলী।
মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী, রাজনীতিক ইসলাম উদ্দীন,৪ নং উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন নিকাহ রেজিষ্ট্রার (আমার পিতা মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দৌলতপুর বাজার কমিটি,দৌলতপুর বাজার মসজিদ কমিটি,দৌলতপুর বাজার শাহী ঈদগাহ কমিটির গুরুত্বপুর্ন দায়িত্বে ছিলেন)কাজী মাওলানা আফসার উদ্দীন,সাবেক ইউপি সদস্য  নুরুল হক,নিজ বাহাদুর পুর ইউনিয়ন সহ ৫ টি ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার  মাওঃ কাজী একেএমএ শাকুর(চরিয়ার কাজী সাব) সহ নাম অজানা অসংখ্য গুনিজনের বিয়োগ হয়েছে।
এ পর্যন্ত যে সব গুণী দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সুনাম অর্জন করছেন। তারা হলেন।১৯৭১ সালের রনাঙ্গনের বীরমুক্তিযোদ্ধা সাবেক ইউপি সদস্য রফিক উদ্দীন পংকি,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান,সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান  প্রফেসর  আব্দুল কুদ্দুস,সিলেট জল্লারপাড়ের হোমিও ডাক্তার জনাব অধ্যাপক আব্দুল হক,সোনালী ব্যাংকের প্রাক্তন ম্যানেজার,দৌলতপুর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি নাজমুল হক টুনু,অধ্যাপক ডাঃ জনাব নজমুল হক,৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ঘোলষা নিবাসী মোঃ শাহাব উদ্দীন,বড়লেখার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ বর্তমান পৌরসভা হাটবন্দ নিবাসী জনাব আবুল হোসেন গিয়াস, সাবেক প্রধান শিক্ষক মাওলানা  আব্দুস সবুর,ফেঞ্চুগন্জ সার কারখানার সাবেক কর্মকর্তা জনাব হাজী ইলিয়াস আলী,ডাক্তার মোঃ ফাহাদ হাসান সহ আরো অনেকে রয়েছে।
দৌলতপুর গ্রামের কৃতি সন্তানরা প্রবাসে বসে দৌলতপুর ওয়েলফেয়ার সোসাইটি মাধ্যমে দৌলতপুর এলাকায় নানাবিদ সামাজিক কাজ সহ গ্রামের উন্নয়ণে অসামান্য  অবধান রাখছে।
তথ্যসুত্রঃদৌলতপুর বাজার ডাকঘরের মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের কপি,দৌলতপুর বাজার পরিচালনা কমিটির ১৯৮২-২০০৫ সনের রেজুলেশন কপি, সংশ্লিষ্ট মামলার কপি,২৩/২/১৯২৫ সনের রেজিষ্ট্রিকৃত দলিল,লোক সমাজে প্রচলিত জনশ্রুতি মৌখিক থেকে নেয়া।
লেখকঃ কাজী রমিজ উদ্দীন, সদস্য-বড়লেখা প্রেসক্লাব,মৌলভী বাজার।
প্রকাশক: মোসাম্মাৎ মনোয়ারা বেগম। সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা। সম্পাদক : শামিম আহমেদ যুগ্ন-সম্পাদক : মো:মনিরুজ্জামান। প্রধান উপদেষ্টা: মোসাম্মৎ তাহমিনা খান বার্তা সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম ।
প্রধান কার্যালয় : রশিদ প্লাজা,৪র্থ তলা,সদর রোড,বরিশাল।
সম্পাদক: 01711970223 বার্তা বিভাগ: 01764- 631157
ইমেল: sohelahamed2447@gmail.com
  করোনায় আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া   আধুনিক বরিশাল গড়ার কারিগর শওকত হোসেন হিরোন’র কথা   চরফ্যাশনে জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত তরমুজ চাষি   ভোলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ফেরি কলমীলতায় আগুন, পুড়ে গেছে মালবাহী ৮ টি ট্টাক   ঝড়ে আগুন উড়ে গেছে টিন, ঝরে পড়েছে আম   করোনায় আরো ৫৩ জনের মৃত্যু   এমপি আসলামুল হক আর নেই   নায়িকার নখের আঁচড়ে আহত শাকিব খান   ‘একাত্তরের বীরশ্রেষ্ঠরা বাংলাদেশের চিরকালের নায়ক’   ‘আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও বেওয়ারিশ হাসপাতাল বানিয়ে দিন’   ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে স্বাবলম্বী হতে চায় তানিয়া, সহযোগিতা করলেন ডিসি জসীম উদ্দিন   এসএসসি’র সেন্টার প্রাপ্তির দাবী নিয়ে বাবুগঞ্জের সাধারণ মানুষ শিক্ষা বোর্ডের দুয়ারে   ‘আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও একটা বেওয়ারিশ হাসপাতাল বানিয়ে দিন’   ‘কাজ না থাকলেও বোর্ডে যাই, আড্ডা-টাড্ডা মারি’   বরিশালে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বঙ্গবন্ধুর মানব লোগো’র প্রদর্শন   করোনা প্রতিরোধে কুষ্টিয়ায় এসপি খাইরুল আলমের নেতৃত্বে মাস্ক বিতরণ   বরিশালে করোনা প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট; ৫৫০০টাকা জরিমানা   চলে গেলেন ভাষা সৈনিক ইউসুফ কালু   শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের শ্রদ্ধা নিবেদন   আসুন, সব ভেদাভেদ ভুলে সোনার বাংলা গড়ি: প্রধানমন্ত্রী