দৈনিক বরিশাল ২৪বিএনপির বাঁধভাঙা ভোটের জোয়ার কোথায় গেলো? | দৈনিক বরিশাল ২৪

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২০ ৪:৩১ অপরাহ্ণ
A- A A+ Print

বিএনপির বাঁধভাঙা ভোটের জোয়ার কোথায় গেলো?

ইকবাল হোসেন তাপসঃ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, এবারের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নাকি শতবর্ষের সেরা নির্বাচন হয়েছে। কিছু মানুষ আছেন যারা নিজেদেরকে অন্য মানুষের হাসির খোরাক বানাতে পছন্দ করেন। হানিফ সাহেবদের মতো সিনিয়র রাজনীতিবিদদের মুখ থেকে এমন হাস্যকর দলকানা মন্তব্য হয়তো কোনো সচেতন মানুষই আশা করেন না।

আওয়ামী লীগ হয়তো শতবর্ষের ঘোরে রয়েছে এবং সেই ঘোরের মাঝে তারা সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের অবস্থানের কথা বেমালুম ভুলে আছে। এটা সত্যি যে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী চাতুর্যের কাছে বিএনপি নাবালক শিশু মাত্র। পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম, জনাব জাফর উল্লাহ সাহেবকে নাকি ইভিএম মেশিন চিনতেই পারেনি। স্যাটেলাইট টেলিভিশনের কল্যাণে আরো দেখলাম, ইভিএম মেশিন ড. কামাল হোসেনকেও নাকি চিনতে গড়িমসি করছে। তবে ইভিএম বিতর্কের বছরের সেরা কৌতুক ছিল- ইভিএম মালিক সিইসি কে.এম নূরুল হুদা সাহেবকেও চিনতে না পারাটা। তবে তুমুল বিতর্কের মাঝেও মন্দের ভালো এটাই যে, ইভিএম মেশিন সাহেব অন্তত সহজ-সরল সাধারণ ভোটার চিনতে খুব একটা ঝামেলা করেননি।

তবে এই ইভিএম ভোটে সাধারণ মানুষ একটা জিনিস বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে, আসলে মেশিনের কোন দোষ নেই। দোষ যদি কিছু থাকে তবে সেটা ইভিএম মেশিন পরিচালনাকারীদের। মনে রাখা উচিৎ ইভিএম একধরনের কাঁচামাল, যা দিয়ে ইলেকশন নামক ব্যধির ভালো ঔষধ তৈরি করা নির্ভর করে এর ব্যবহারকারীর ওপর। আমি ইভিএম পদ্ধতিকে মোটেও খারাপ বলতে চাই না। তবে নির্বাচন কমিশন জনগনের মধ্যে ইভিএম মেশিনের ভীতি দূর করতে পারেনি, কিংবা ইভিএম ভোটিংয়ের গুরুত্ব সঠিকভাবে প্রচার করতে সফলতা দেখাতে পারেনি। ইভিএম পদ্ধতির প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে নির্বাচন কমিশন যে ব্যর্থ হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ এবং প্রিসাইডিং ও পুলিং অফিসারদের উদাসীনতার পাশাপাশি সরকার দলীয় প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আনুগত্য ইভিএম পদ্ধতি গ্রহণযোগ্যতাকে আরো বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ইভিএমের সুফলগুলোকেও সন্দেহের মাঝে ঠেলে দিয়েছে। এবারের ডিসিসি নির্বাচনে হারজিতের কথা যদি বলি তাহলে বলতে হবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কৌশল ও চাতুর্যের কাছে হেরে গিয়েছে বিএনপি। যেমন বিগত দিনেও সকল আন্দোলনে তারা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশলের কাছে মার খেয়েছে। বিভিন্ন সময় আন্দোলন জমিয়ে তুলতে তারা যেভাবে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, একইভাবে ডিসিসি নির্বাচনেও তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনতে।

বিএনপি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সমাবেশে দাবি করে আসছে তাদের নাকি শতকরা ৮০% জনসমর্থন রয়েছে। আমি যদি এর অর্ধেকও ধরি তবে সেই পার্সেন্টেজ দাঁড়ায় ৪০ শতাংশ। তাহলে তাদের সেই ভোটাররা ভোটের দিন কোথায় লুকিয়ে ছিল? তারা কেন্দ্রে যায়নি কেন? কেন তারা বিএনপিকে ভোটের জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়নি? নির্বাচনে উত্তর এবং দক্ষিণের প্রায় সবগুলো কেন্দ্রের চিত্রই ছিল অভিন্ন। অনেক কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিত এতটাই কম ছিল যে, ভোট গ্রহণকারী সংশ্লিষ্টদের ভোট কক্ষের বাইরে এসে রোদ পোহাতেও দেখা গেছে।

আমি বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ পরিমাণে চেষ্টা করেছে যাতে বিএনপি তাদের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না আনতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। কারণ, কেউই চাইবে না প্রতিপক্ষের বাক্স ভোটে ভরে যাক। কিন্তু বিএনপি কেন তাদের ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে পারেনি। বাংলাদেশের অতীত নির্বাচনী ইতিহাসের দিকে আলোকপাত করলে দেখা যায়, সব সরকারের আমলে সব নির্বাচনেই প্রশাসন সবসময় সরকারি দলের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। ইসি এবং প্রশাসন সরকারি দলের নানা অনিয়ম দেখেও না দেখার ভান করে থাকে, এই রেওয়াজ এদেশে বহুদিনের এক অলঙ্ঘনীয় সংস্কৃতিতে পরিনত হয়েছে।

তবে আমার প্রশ্ন হলো- বিএনপির বাঁধভাঙা ভোটের জোয়ার কোথায় গেলো? কোথায় গেলো তাদের কর্মী-সমর্থকদের সেই ভোট উৎসবের উচ্ছ্বাস? বিএনপি তাদের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে না পারার দায়ভার কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপাতে পারবে না। এই অপচেষ্টা করলেও সেটা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বকেই প্রকাশ করবে। আওয়ামী লীগ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার নির্বাচনী রীতিনীতি বজায় রেখেই প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করার কৌশলগত আচরণ করছে, যা এদেশের নির্বাচনী মাঠে চলনসই আচরণ হিসেবেই ধরা হয়।

তবে বিএনপি এই কৌশলের কাছে বারবার ধরা খেয়ে নাস্তানাবুদ হয়ে চলছে। এর পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তবে আজকে সেই আলোচনায় যাচ্ছি না। আমার প্রশ্ন অন্য জায়গায়। বেশ কয়েকবার দেশশাসন করা বৃহৎ রাজনৈতিক দলটি আজ লেজেগোবরে অবস্থা কেন? নির্বাচনে নেমে তারা ভোটকেন্দ্রে যায় না! হরতাল ডেকে তারা রাস্তায় নামে না! বিএনপি হয়তো বলবে তাদের নেত্রী জেলে। তারা টানা এক যুগ ক্ষমতার বাইরে। কিন্তু এর চেয়েও চরমতম আর ভয়াবহ দুঃসময় পার করে এসেছে আওয়ামী লীগ। ৭৫ পরবর্তী সময়ে দলের হাল ধরার মতোই কেউ ছিল না। তবুও তারা ২১ বছর পরে ঠিকই ক্ষমতায় এসেছিল।

এবার যদি ভোটের হিসাবে আসি তাহলে দেখতে পাই, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৪,৫৩,১৯৪ জন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস সাহেবের নৌকায় প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৪,২৪,৫৯৫টি। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ টানা একযুগ ক্ষমতায় আর এতো সুযোগ-সুবিধায় থাকার পরেও তাদের প্রাপ্ত ভোটের পার্সেন্টেজ মাত্র ১৭.৩০ শতাংশ। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩০,১০,২৭৩ জন। এরমধ্যে উত্তরের আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম সাহেব ৪,৪৭,২১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ী আতিকুল ইসলাম সাহেবের পাওয়া ভোটের শতকরা হিসাব যদি করি তাহলে দেখা যায়, তার নৌকায় ভোট পড়েছে মোট ভোটের মাত্র ১৪.৮৫ শতাংশ।

পূর্বের জরিপ অনুসারে এদেশে আওয়ামী লীগের যদি ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোটও থাকে তথাপিও আওয়ামী লীগের ভান্ডারে ভোট জমা পড়েছে উত্তর ঢাকায় ১৪.৮৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ ঢাকায় ১৭.৩০ শতাংশ। তাহলে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় আওয়ামী লীগের ভোটেই পাশ করেছে নৌকা। সেখানে সাধারণ নির্দলীয়-নিরপেক্ষ মানুষ কিংবা ফ্লোটিং ভোটের দরকার হয়নি আওয়ামী লীগের। দেশের সর্বমোট জনসাধারণের মোট কত শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন? এবার সেই হিসেবটা এই নির্বাচন থেকে হয়তো মিলিয়ে নিতে পেরেছে রাজনৈতিক মেধা ও প্রজ্ঞায় অত্যন্ত অভিজ্ঞ সুপ্রাচীন দল আওয়ামী লীগ। ইভিএমের মাধ্যমে নিজেদের বাস্তবিক অবস্থান নির্ণয়ের একটা এসিড টেস্ট হয়তো করতে পেরেছে এই ডিজিটাল ডিসিসি নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

সবিশেষ বলতে চাই, শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া দেশে সুশাসন ও গণতন্ত্র কখনো প্রতিষ্ঠিত হয় না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় শক্তিশালী বিরোধী দল একটি অপরিহার্য অংশ। তাই দেশ ও জনগণের স্বার্থেই বিএনপিকে লেজেগোবরে অবস্থা থেকে বের হয়ে পুনরায় সংগঠিত ও শক্তিশালী হয়ে রাজনীতির আসল ট্রাকে ফিরে আসা জরুরি। তা না হলে টানা ৩ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ ক্রমান্বয়ে স্বেচ্ছাচারী, অহংকারী এবং বেপরোয়া হয়ে উঠবে। সেটা হবে সুশাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং দেশ ও জাতির জন্য এক অশনিসংকেত।

লেখকঃ ইকবাল হোসেন তাপস
বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও  যুগ্ম মহাসচিব, জাতীয় পার্টি

 বরিশাল ক্রাইম নিউজ ডট কম

বিএনপির বাঁধভাঙা ভোটের জোয়ার কোথায় গেলো?

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০ ৪:৩১ অপরাহ্ণ

ইকবাল হোসেন তাপসঃ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, এবারের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নাকি শতবর্ষের সেরা নির্বাচন হয়েছে। কিছু মানুষ আছেন যারা নিজেদেরকে অন্য মানুষের হাসির খোরাক বানাতে পছন্দ করেন। হানিফ সাহেবদের মতো সিনিয়র রাজনীতিবিদদের মুখ থেকে এমন হাস্যকর দলকানা মন্তব্য হয়তো কোনো সচেতন মানুষই আশা করেন না।

আওয়ামী লীগ হয়তো শতবর্ষের ঘোরে রয়েছে এবং সেই ঘোরের মাঝে তারা সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের অবস্থানের কথা বেমালুম ভুলে আছে। এটা সত্যি যে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী চাতুর্যের কাছে বিএনপি নাবালক শিশু মাত্র। পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম, জনাব জাফর উল্লাহ সাহেবকে নাকি ইভিএম মেশিন চিনতেই পারেনি। স্যাটেলাইট টেলিভিশনের কল্যাণে আরো দেখলাম, ইভিএম মেশিন ড. কামাল হোসেনকেও নাকি চিনতে গড়িমসি করছে। তবে ইভিএম বিতর্কের বছরের সেরা কৌতুক ছিল- ইভিএম মালিক সিইসি কে.এম নূরুল হুদা সাহেবকেও চিনতে না পারাটা। তবে তুমুল বিতর্কের মাঝেও মন্দের ভালো এটাই যে, ইভিএম মেশিন সাহেব অন্তত সহজ-সরল সাধারণ ভোটার চিনতে খুব একটা ঝামেলা করেননি।

তবে এই ইভিএম ভোটে সাধারণ মানুষ একটা জিনিস বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে, আসলে মেশিনের কোন দোষ নেই। দোষ যদি কিছু থাকে তবে সেটা ইভিএম মেশিন পরিচালনাকারীদের। মনে রাখা উচিৎ ইভিএম একধরনের কাঁচামাল, যা দিয়ে ইলেকশন নামক ব্যধির ভালো ঔষধ তৈরি করা নির্ভর করে এর ব্যবহারকারীর ওপর। আমি ইভিএম পদ্ধতিকে মোটেও খারাপ বলতে চাই না। তবে নির্বাচন কমিশন জনগনের মধ্যে ইভিএম মেশিনের ভীতি দূর করতে পারেনি, কিংবা ইভিএম ভোটিংয়ের গুরুত্ব সঠিকভাবে প্রচার করতে সফলতা দেখাতে পারেনি। ইভিএম পদ্ধতির প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে নির্বাচন কমিশন যে ব্যর্থ হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ এবং প্রিসাইডিং ও পুলিং অফিসারদের উদাসীনতার পাশাপাশি সরকার দলীয় প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আনুগত্য ইভিএম পদ্ধতি গ্রহণযোগ্যতাকে আরো বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ইভিএমের সুফলগুলোকেও সন্দেহের মাঝে ঠেলে দিয়েছে। এবারের ডিসিসি নির্বাচনে হারজিতের কথা যদি বলি তাহলে বলতে হবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কৌশল ও চাতুর্যের কাছে হেরে গিয়েছে বিএনপি। যেমন বিগত দিনেও সকল আন্দোলনে তারা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশলের কাছে মার খেয়েছে। বিভিন্ন সময় আন্দোলন জমিয়ে তুলতে তারা যেভাবে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, একইভাবে ডিসিসি নির্বাচনেও তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনতে।

বিএনপি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সমাবেশে দাবি করে আসছে তাদের নাকি শতকরা ৮০% জনসমর্থন রয়েছে। আমি যদি এর অর্ধেকও ধরি তবে সেই পার্সেন্টেজ দাঁড়ায় ৪০ শতাংশ। তাহলে তাদের সেই ভোটাররা ভোটের দিন কোথায় লুকিয়ে ছিল? তারা কেন্দ্রে যায়নি কেন? কেন তারা বিএনপিকে ভোটের জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়নি? নির্বাচনে উত্তর এবং দক্ষিণের প্রায় সবগুলো কেন্দ্রের চিত্রই ছিল অভিন্ন। অনেক কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিত এতটাই কম ছিল যে, ভোট গ্রহণকারী সংশ্লিষ্টদের ভোট কক্ষের বাইরে এসে রোদ পোহাতেও দেখা গেছে।

আমি বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ পরিমাণে চেষ্টা করেছে যাতে বিএনপি তাদের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না আনতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। কারণ, কেউই চাইবে না প্রতিপক্ষের বাক্স ভোটে ভরে যাক। কিন্তু বিএনপি কেন তাদের ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে পারেনি। বাংলাদেশের অতীত নির্বাচনী ইতিহাসের দিকে আলোকপাত করলে দেখা যায়, সব সরকারের আমলে সব নির্বাচনেই প্রশাসন সবসময় সরকারি দলের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। ইসি এবং প্রশাসন সরকারি দলের নানা অনিয়ম দেখেও না দেখার ভান করে থাকে, এই রেওয়াজ এদেশে বহুদিনের এক অলঙ্ঘনীয় সংস্কৃতিতে পরিনত হয়েছে।

তবে আমার প্রশ্ন হলো- বিএনপির বাঁধভাঙা ভোটের জোয়ার কোথায় গেলো? কোথায় গেলো তাদের কর্মী-সমর্থকদের সেই ভোট উৎসবের উচ্ছ্বাস? বিএনপি তাদের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে না পারার দায়ভার কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপাতে পারবে না। এই অপচেষ্টা করলেও সেটা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বকেই প্রকাশ করবে। আওয়ামী লীগ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার নির্বাচনী রীতিনীতি বজায় রেখেই প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করার কৌশলগত আচরণ করছে, যা এদেশের নির্বাচনী মাঠে চলনসই আচরণ হিসেবেই ধরা হয়।

তবে বিএনপি এই কৌশলের কাছে বারবার ধরা খেয়ে নাস্তানাবুদ হয়ে চলছে। এর পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তবে আজকে সেই আলোচনায় যাচ্ছি না। আমার প্রশ্ন অন্য জায়গায়। বেশ কয়েকবার দেশশাসন করা বৃহৎ রাজনৈতিক দলটি আজ লেজেগোবরে অবস্থা কেন? নির্বাচনে নেমে তারা ভোটকেন্দ্রে যায় না! হরতাল ডেকে তারা রাস্তায় নামে না! বিএনপি হয়তো বলবে তাদের নেত্রী জেলে। তারা টানা এক যুগ ক্ষমতার বাইরে। কিন্তু এর চেয়েও চরমতম আর ভয়াবহ দুঃসময় পার করে এসেছে আওয়ামী লীগ। ৭৫ পরবর্তী সময়ে দলের হাল ধরার মতোই কেউ ছিল না। তবুও তারা ২১ বছর পরে ঠিকই ক্ষমতায় এসেছিল।

এবার যদি ভোটের হিসাবে আসি তাহলে দেখতে পাই, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৪,৫৩,১৯৪ জন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস সাহেবের নৌকায় প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৪,২৪,৫৯৫টি। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ টানা একযুগ ক্ষমতায় আর এতো সুযোগ-সুবিধায় থাকার পরেও তাদের প্রাপ্ত ভোটের পার্সেন্টেজ মাত্র ১৭.৩০ শতাংশ। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩০,১০,২৭৩ জন। এরমধ্যে উত্তরের আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম সাহেব ৪,৪৭,২১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ী আতিকুল ইসলাম সাহেবের পাওয়া ভোটের শতকরা হিসাব যদি করি তাহলে দেখা যায়, তার নৌকায় ভোট পড়েছে মোট ভোটের মাত্র ১৪.৮৫ শতাংশ।

পূর্বের জরিপ অনুসারে এদেশে আওয়ামী লীগের যদি ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোটও থাকে তথাপিও আওয়ামী লীগের ভান্ডারে ভোট জমা পড়েছে উত্তর ঢাকায় ১৪.৮৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ ঢাকায় ১৭.৩০ শতাংশ। তাহলে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় আওয়ামী লীগের ভোটেই পাশ করেছে নৌকা। সেখানে সাধারণ নির্দলীয়-নিরপেক্ষ মানুষ কিংবা ফ্লোটিং ভোটের দরকার হয়নি আওয়ামী লীগের। দেশের সর্বমোট জনসাধারণের মোট কত শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন? এবার সেই হিসেবটা এই নির্বাচন থেকে হয়তো মিলিয়ে নিতে পেরেছে রাজনৈতিক মেধা ও প্রজ্ঞায় অত্যন্ত অভিজ্ঞ সুপ্রাচীন দল আওয়ামী লীগ। ইভিএমের মাধ্যমে নিজেদের বাস্তবিক অবস্থান নির্ণয়ের একটা এসিড টেস্ট হয়তো করতে পেরেছে এই ডিজিটাল ডিসিসি নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

সবিশেষ বলতে চাই, শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া দেশে সুশাসন ও গণতন্ত্র কখনো প্রতিষ্ঠিত হয় না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় শক্তিশালী বিরোধী দল একটি অপরিহার্য অংশ। তাই দেশ ও জনগণের স্বার্থেই বিএনপিকে লেজেগোবরে অবস্থা থেকে বের হয়ে পুনরায় সংগঠিত ও শক্তিশালী হয়ে রাজনীতির আসল ট্রাকে ফিরে আসা জরুরি। তা না হলে টানা ৩ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ ক্রমান্বয়ে স্বেচ্ছাচারী, অহংকারী এবং বেপরোয়া হয়ে উঠবে। সেটা হবে সুশাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং দেশ ও জাতির জন্য এক অশনিসংকেত।

লেখকঃ ইকবাল হোসেন তাপস
বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও  যুগ্ম মহাসচিব, জাতীয় পার্টি

সম্পাদক ও প্রকাশক : খন্দকার রাকিব ।
ফকির বাড়ি, ৫৫৪৫৪ বরিশাল।
মোবাইল: ০১৭২২৩৩৬০২১
ইমেইল : rakibulbsl@gmail.com, barisalcrimenews@gmail.com
  পেন্সিল পাবলিকেশনস এর বইয়ের মোড়ক উন্মোচন   বরিশালে ভিজিডির চাল বিতরণ   ভোলাটাটে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলিসহ ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব   ঐতিহাসিক ৭ মার্চের দিনে পরীক্ষা বরিশালে রুটিন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ   ঋতুরাজকে বরণে চট্টগ্রামে বর্ণিল আয়োজন   মিনহাজুল ইসলামের ডাকে নীলফামারীতে হাজার হাজার দর্শক   বাগেরহাট-৪ আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন ফরাজী মনির   সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট সংবাদ হিসেবে প্রকাশ উচিত নয়: তথ্যমন্ত্রী   বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি খোরশেদ আলমকে বদলি   পিরোজপুরে সামাজিক বনায়নে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন   ফাগুনের রঙে বরিশালে বসন্ত বরণ   ইঁদুর থেকে ছড়াচ্ছে ‘লাসা’ জ্বর, নাইজেরিয়ায় ৭০ জনের মৃত্যু   রাঙ্গামাটিতে নৌকাডুবিতে নিহত তিন , নিখোঁজ তিন শিশু   বরিশালে নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিলের সভাপতি হলেন তুষার-সম্পাদক রিপন   ভোলায় আলু চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য   ভালোবাসা অটুট থাকুক মানুষের কল্যাণে,মুছে যাক হিংসা প্রতিহিংসা   ফুলে ফুলে সিক্ত হলেন রংপুরের কৃতিসন্তান বিশ্বজয়ী আকবর আলী   এক মানবিক পুলিশের নাম শওকত হোসেন   মাধ্যমিক স্তরের ৪০ লাখ শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাবেন বিকাশে   চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল, গানপাউডার ও জিহাদি বইসহ শিবিরের ১৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার