সোহেল আহমেদ, দৈনিক বরিশাল২৪.কমঃ কোন উপসর্গ  ছাড়াও মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ মহামারী প্রতিরোধে ওষুধ আবিস্কারে প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। দেশে গত কয়েক দিনে হতাশাজনকভাবে করোনায় আক্রান্ত্রের মানুষের সংখ্যা আশংকা জনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরমধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে সাভাবিক জীবনে ফিরে এসছে। কিন্তু একবার করোনায় আক্রান্ত হলে আর ভয় নেই, দ্বিতীয়বার কেউ আক্রান্ত যে হবেনা এমন ধারনা ছিলো মানুষের। কিন্তু সে ধারনাও ভূল প্রমানিত হচ্ছে।

স্বাস্থ সুরক্ষায় নানা প্রতিকুলতা থাকা সত্তেও চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে এবার দ্বিতীয়বার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সাহসী তরুণ চিকিৎসক ডা. শিহাব উদ্দিন। বরিশাল বিভাগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা চিকিতসকদের মধ্যে ডা. শিহাব অন্যতম করেনা যোদ্ধা। সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় সেবা দিতে গিয়ে মৃত্যুভয় করেননি ৩৯তম বিসিএস ক্যাডারপ্রাপ্ত এই চিকিৎসক।

মানুষের সেবায় নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে করতে হঠাৎ একদিন নিজের শরীরে ধরা পরে করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাসের উপস্থিতি। এরপর নিজেকে আইসোলেশনে রেখে কখনো হাসপাতালে কখনো বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। সেরেও উঠেছেন অল্প সময়ের মধ্যে। তারপর আবার কর্মস্থলে যোগদানের মধ্য দিয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।

জানাযায়, ২০ এপ্রিল ডা. শিহাব উদ্দিনের করোনা পজেটিভ ধরা পরে। সবার জীবনকে সুস্থ রাখতে গিয়ে নিজেই হবেন নিশ্চিত মৃত্যুর পথযাত্রী, এ বাস্তবতাকি কেউ মেনে নিতে পারে? করোনা পজেটিভের প্রথম রিপোটটি পেয়ে ডা. শিহাব কিছুটা ভেঁঙে পড়লেও দেশ এবং দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে মানুসিকভাবে চাঙা হয়ে উঠলেন। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি হন।

করোনা থেকে সুস্থ হয়ে এই রোগেই আক্রান্ত রোগীদের প্লাজমা দেওয়ার মনস্ত করেন ডা. শিহাব। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৬ মে একজন মাকে বাঁচাতে ছুটে যান রাজধানীতে। প্লাজমা দিয়ে ওইদিন রাতেই বরিশালে ফিরে আসেন তিনি। আগের মতই রোগীদের সেবা দিতে দিতে হঠাত জ্বর-সর্দি-কাশিসহ নিজের শরীরে করোনার উপসর্গ দিয়েছে বলে অনুভব করেন। ফলে ৩০ মে পূণরায় করোনার টেস্টের করে জানতে পারেন তিনি ২য়বার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

ঢাকা থেকে বাবুগঞ্জে আসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া এক রোগীকে চিকিতসা দিতে গিয়ে তার সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছিলো। পরবর্তি তে টেস্ট রিপোর্টে  তা্যই সত্ইযি হলো। বরিশালের চিকিতাসেবায় আশার আলো ডা. শিহাবের দ্বিতীয়বার করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় মানুষের মধ্যে অনেক দিনের ধারনার ভুল প্রমানিত হলো। প্রথমবারের মত এবারও করোনায় পরে মনের ভেতর ভয়কে প্রশ্রয় দিলেন না। বললেন সুস্থ্য হয়ে আবারও দেশসেবায় কাজ করবেন। কারো মধ্যে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে, তা গোপন না করে হাসপাতালে চিকিতসা নেয়ার আহবান জানান জীবন যুদ্ধে হার না মানা ডা. শিহাব।

সঠিক স্বাস্থবিধি মেনে চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি ও মনোবল চাঙা থাকায় করোনায় কিছুতেই কাবু হননি বরিশালের করোনা যোদ্ধা ডা. শিহাব। ফলে অনেকটা অলৌকিকভাবেই মাত্র সাত দিনের মাথায় তিনি সু্স্থ হয়ে ওঠেন। গত ২৭ এপ্রিল তার করোনার ১ম রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। একই দিন তার ফলোআপ রিপোর্টও নেগেটিভ আসে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক চিকিৎসকসহ স্বাস্থকর্মী যেখানে মৃত্যুর সাথে লড়ছে সেখানে সাত দিনের এতো অল্পসময়ে একজন করোনা যোদ্ধার জয়ে বিস্মিত সহকর্মীরা। অনুপ্রানিত পরিবার ও তার স্বজনরা।

ডা: শিহাব ২০১৯ সালে বিসিএস স্বাস্থ বিভাগে ক্যাডারপ্রাপ্ত হন। এরপরে তিনি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থমেপ্লেক্স এ যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই আন্তরিকতার সাথে সাধরণ মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে উপজেলাবাসীর কাছে একজন তরুণ মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার বাড়ি বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বকশিরচর গ্রামে। ছয় সদস্যর পরিবারে ডাক্তার শিহাব সবার ছোট।

করোনা জয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দৈনিক বরিশাল২৪.কম-কে ডা. শিহাব বলেন, করোনা পজেটিভ হওয়ার পরে মানুষকে প্রথমত মানুসিক শক্তিবৃদ্ধি করতে হবে, সঠিক নির্দেশনা মেনে চলতে পারলে অবশ্যই করোনা থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করে বরিশালসহ দেশবাসীকে করোনা বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করেন সদ্য করোনাজয়ী তরুণ ডা: শিহাব উদ্দিন।

জানতে চাইলে বরিশাল সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন দৈনিক বরিশাল২৪.কম-কে বলেন, প্রথমবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে ডা. শিহাব ঢাকায় সাবেক এক এমপির স্ত্রীর জন্য প্লাজমা দিতে যান। এরপর আবার তার করোনা আমরা উদ্ভিগ্ন। করোনায় আক্রান্ত ব্যাক্তি  সুস্থ হওয়ার পরে আবারও আক্রান্ত হতে পারে এটা দেশের মধ্যে প্রথম কোন ঘটনা উল্লেখ করে তিনি ডা. শিহাব উদ্দিন এর সুস্থ্তায় দোয়া কামনা করেন।