মোঃইবাদুর রহমান জাকির, সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের হাসপাতা’লে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ করো’না রোগীরই অক্সিজেন সাপোর্ট লাগছে। যারা শ্বা’সক’ষ্টে ভুগছেন তাদেরই প্রয়োজন পড়ছে অক্সিজেনের। দিতেও হচ্ছে ওই সাপোর্ট।
একই সঙ্গে হার্টের সমস্যা, অ্যাজমা সহ নানা রোগে আ’ক্রান্ত রোগীর বেলায়ও অক্সিজেন সাপোর্ট প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু সিলেটে এরই মধ্যে সংকট শুরু হয়েছে অক্সিজেনের।
সরকারি কিংবা বেসরকারি সব হাসপাতা’লেই চলছে এই সংকট। দিন দিন সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। এদিকে অক্সিজেন সাপোর্ট বাড়াতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক দফা স্বাস্থ্য দপ্তরে চিঠি দিয়েছে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলছেন তারা। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানিয়েছেন, অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ছে। কোভিড রোগী যারাই হাসপাতা’লে আসছেন তাদের কারো না কারো অক্সিজেন সাপোর্ট লাগছে।
এ ছাড়া আইসিইউতেও সাপোর্ট দিতে হয়। ফলে অক্সিজেনের সংকট চাহিদা বাড়ছে। সোমবারও অক্সিজেনের সংকট কা’টাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পত্র দিয়েছেন বলে জানান তিনি। এদিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে করো’নাভাই’রাস সংক্রমণের শুরুতেই বড় ১০০টি ও ছোটে আরো ১০০টি সিলিন্ডার সংগ্রহ করে রাখা হয়েছিলো।
ফলে অক্সিজেনের ঘাটতি ছিল না সিলেটের সরকারি হাসপাতা’লে। কিন্তু গত মা’র্চ মাস থেকে করো’না সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় অক্সিজেনের চাহিদা আগের চেয়ে বেড়েছে কয়েকগুণ। সিলেটের আইসোলেশন সেন্টার শহীদ শামসুদ্দিন আহম’দ হাসপাতাল। এই হাসপাতা’লে করো’না রোগী এবং উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগী বেশি।
বলতে গেলে ঠাঁই হচ্ছে না এই হাসপাতা’লে। সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহম’দ হাসপাতা’লের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুশান্ত কুমা’র মহাপাত্র জানিয়েছেন, তার হাসপাতা’লে করো’না রোগীদের অন্যতম চিকিৎসা হচ্ছে অক্সিজেন সাপোর্ট। যারাই ভর্তি হচ্ছে তাদের অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। অক্সিজেন ছাড়া এখন আর তেমন চিকিৎসা নেই।
তার হাসপাতা’লে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি বড় অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন হচ্ছে। ছোট সিলিন্ডারও লাগছে ৫০-৬০টি। তিনি জানান, একজন রোগীকে বড় সিলিন্ডার দিয়ে ৪-৫ ঘণ্টা সাপোর্ট দেয়া সম্ভব হচ্ছে। আর ছোট সিলিন্ডার দিয়ে সাপোর্ট দেয়া যায় ১ ঘণ্টা। এখনো অক্সিজেন ব্যবস্থা স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সিলেটে বেসরকারি ভাবে নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মাউন্ট এডোরা হাসপাতা’লে করো’না রোগীদের চিকিৎসা প্রদান শুরু হয়েছে। এই দুটি হাসপাতা’লে রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে। তবে নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের পরিচালক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতা’লে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অক্সিজেন তৈরি হয়।
এ কারণে তাদের অক্সিজেন সংকট নেই। তবে আগের চেয়ে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে হাসপাতা’লে ৩১ জন করো’না রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অধিকাংশেরই অক্সিজেন সাপোর্ট প্রয়োজন হচ্ছে।
রোববার থেকে সিলেটে কোভিড চিকিৎসা শুরু করেছে মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল। ওই হাসপাতা’লে রোগীদের অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হচ্ছে। অ’ভিযোগ উঠেছে অক্সিজেনের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন অক্সিজেন সংকটের কথা।