বিশেষ প্রতিনিধি: বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস সংক্রমনের মুখে দীর্ঘদিনের ভালবাসা. স্নেহের মায়া-মমতার বন্ধন মুহুর্তের মধ্যে ভুলে গিয়ে গর্ভধারীনি মা-জন্মদাতা পিতা এমনকি আদরের পিসিকেও রাস্তা,জঙ্গলে ও বাসস্টান্ডে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার মত ঘটনার অনেক শিরোনাম হয়েছে স্যোসাল মিডিয়া ও সংবাদ পত্রে।

অন্যদিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী নতুন করে আরো একটি ঘটনার জন্ম দিয়ে তারা প্রমান করেছে মানুষ শুধু মানুষের জন্য নয়। মানুষ কখনো পশু প্রার্ণীর জন্য পশে এসে দাঁড়াতে পারে এমন একটি ঘটনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ঐ তিন শিক্ষার্থী।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পৌর সদরের শাওড়া মহল­ায় ঈগল পাখি ছোবল মেরে একটি বিড়াল ছানা নিয়ে যায়। তিন তরুনের ধাওয়া খেয়ে রাক্ষুসে ঈগল বিড়াল ছানাটিকে একই এলাকার একটি দীঘির পারে সুউচ্চ গাছের মাথায় রেখে দেয়।

বিড়াল ছানাটির প্রান সংকটে পরে যায়। এ সময় তিন তরুন বিড়ালটিকে বাঁচাতে ৯৯৯ কল করে ফায়ার সার্ভিস কর্ম দের সহযোগীতা কামনা করা হয়। তিন তরুনের ডাকে সাড়া দিয়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনা স্থলে পৌছে বিড়াল ছানাটি গাছ থেকে উদ্ধার করে প্রান রক্ষা করে। বিড়াল ছানাটির প্রান রক্ষা করতে পেরে উৎফুল­ স্থানীয় তিন তরুন তরুনী।

স্থানীয়রা জানান, গৌরনদী পৌর সভার শাওড়া মহল­ার কলেজ হোস্টেলের পশ্চিম পাশ থেকে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬ টার দিকে একটি ঈগল পাখি বিড়াল ছানাকে ছোবল মেরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

ওই পথ দিয়ে হেটে যাচ্ছিল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র ফকরুল আবেদীন তানভীর, শ্রাবনী ও অনিক । তারা বিষয়টি দেখে ঈগল পাখিটিকে ধাওয়া করলে ঈগল পাখি বিড়াল ছানাটিকে
পাশ্ববর্তী বিশাল দিঘীর পারে একটি বড় রেন্ট্রি গাছের সুউচ্ছে ডালে রেখে দেন।

এ সময় তরুনরা ঢিল ছুড়ে ডাক চিৎকার দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে রাক্ষুসে ঈগল বিড়াল ছানা রেখে সটকে পরে। গাছ থেকে বিড়াল ছানাটির নেমে আসার মত অবস্থা ছিল না। এবং কোন রকম পা ফসকে নিচে পরে গেলে অবদারিত পানিতে ডুবে মৃত্যু।

জীবন সংকটে পরে বিড়াল ছানাটি। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে জড়ো হয় শতাধিক মানুষ। স্থানীয়দের সহায়তায় তরুনরা গাছে উঠে ছানাটিকে উদ্ধারের চেষ্ট করে ব্যার্থ হন। তরুন ফকরুল আবেদীন বলেন, ঈগল ছানাটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে বিকেল ৬টার দিকে ৯৯৯ কল করে ফায়ার সার্ভিস কর্মী বাহিনীর সাহায্য চাই।

রাত সাড়ে ৭টার দিকে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের গাড়ি নিয়ে দমকল কর্মীরা ছুটে আসেন এবং আধা ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে বিড়াল ছানাটি উদ্ধার করে প্রান রক্ষা করেন।

গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের ইনচার্চ আব্দুস সালাম বলেন, মানুষই হোক আর পশুই হোক প্রতিটি প্রাণীর জীবন রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব তাই সেই দায়িত্ববোধ থেকেই বিড়াল ছানাটির প্রান রক্ষ করেছি। তবে এ জন্য ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন তরুন তরুনী ।

যারা ৯৯৯ কল করেছে। চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করে বিড়ালটি পোষার জন্য তরুন ফকরুল আবেদীন তানভীর
বাসায় নিয়ে যান। কিছুটা ক্ষত থাকলেও বর্তমানে বর্তমানে বিড়াল ছানাটি অনেকটাই সুস্থ্য আছে ।