নিজস্ব প্রতিবেদক: এক সময়ে বরিশাল জেলায় থানা পুলিশের নাম শুনলে উপজেলা অঞ্চলে ভ্রুরুতে ভাজ খেয়ে যেতো। বর্তমান বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ প্রাণঘাতী করোনা সংক্রমন কালে সেই পুলিশই মানুষের জন্য মানবতার সবচেয়ে বড় ফেরিওয়ালা হয়ে সমাজের সর্বত্র বিরাজমান রয়েছেন।
এমনই একজন পুলিশ কর্মকর্তা বরিশাল জেলার বানারীপাড়া থানার উপ-সহকারি পুলিশ পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। তিনি এ থানায় যোগদান করার পর থেকেই একের পর এক অবাক করা মানবিক অনেক বিষয়ে একের পর এক জন্ম দিয়ে চলছেন।
এর ফলে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে এ জেলায়। করোনাকালের শুরুর প্রথমদিক থেকেই অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য প্রদান, রাস্তা পরিস্কার, গ্রামের মেঠোপথে ছোট আকারের পুল নির্মাণ, ভবঘুরে মানুষদের স্বরুপে ফিরিয়ে আনা।
স্থানীয় মাদক সেবীদের নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করানো, নিজ রেশনের সবটুকু অসহায় বৃদ্ধকে দিয়ে দেয়া, দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ অর্থের যোগান দেয়া, পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে সহায়তা করা, মানতা স¤প্রদায়ের কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে সন্ধ্যার পরে লেখা পড়ার ব্যবস্থা করা।
স্কুল ড্রেস বানিয়ে দেয়া,পবিত্র রমজান মাসে অসহায় পরিবারের মধ্যে ইফতার সামগ্রী উপহার দেয়া, তার নিজ গ্রাম পটুয়াখালীর বাড়ি মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি ইউনিয়নের দেউলি গ্রামে নিজ সম্পত্তিতে গণ কবরস্থানের জন্য দান করা এবং তার পিতা কেমিষ্ট মরহুম ইসমাইল হোসেন সিকদারের নামে ফাউন্ডেশন করে বিভিন্ন স্থানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদানসহ জন হিতৈষী মানবিক কাজ করে যাচ্ছেণ বরিশাল
জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা।
তার এই মানবিকতা কাজের এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে মানবিকতার এই মানুষটি নতুন করে আবারো অবাক করা একটি বিষয়ের জন্মদিয়ে বরিশাল জেলা পুলিশকে নিয়ে এসেছেন জনতার সামনের কাতারে।
জেলার বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের তালাপ্রসাদ গ্রামের হাত ও পা বিকলঙ্গ প্রতিবন্ধী মো. নবুয়তকে ৬০টি দেশী মুরগীর বাচ্চা ও মা মুরগী উপহার দিয়েছেন। এলাকাবাসী জানান, এএসআই জাহিদুল ইসলামের এই মানবিক কাজের ফলে বিকালঙ্গ প্রতিবন্ধি নবুয়ত অনেকটা নতুন করে স্বাবলম্বী হয়ে বেচে থাকতে পারবেন।