অনলাইন নিউজ: করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে রাজধানীর মালিবাগের স্কুল সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিশুদের স্কুলে ডেকে এনে ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছে। শনিবার সকাল থেকে চলে প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এই ভর্তি প্রক্রিয়া।
অনলাইনে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন কাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। কিন্তু সন্তানের ভর্তির প্রয়োজনে তারা প্রতিবাদ করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, অবৈধ এই কাজে প্রতিষ্ঠানের গেটে কড়া পাহারা বসানো হয়েছিল। পরীক্ষার সময় হয়ে এলে একে একে আসতে থাকেন অভিভাবকরা। এরপর সন্তানকে ভেতরে পাঠিয়ে গেটের বাইরে তারা অবস্থান করেন। এ সময় কয়েকজন অভিভাবক জানান, অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু তাদের স্কুলে আসতে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
নামপ্রকাশ না করে এক অভিভাবক বলেন, তিনি তার বাচ্চাকে নার্সারিতে ভর্তি করার জন্য নিয়ে এসেছেন। অনলাইনে আবেদন করেছেন। আরও দু’একটি প্রতিষ্ঠানে তিনি আবেদন করেছেন। ওইসব প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা তো নেয়নি, বরং অনলাইনে টাকা জমা নেয়ার ব্যবস্থা করেছে। আরেকজন অভিভাবক বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ চাইলে তারা উপেক্ষা করতে পারেন না। কেননা, ভর্তির সময় পার করা সম্ভব নয়।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস ও ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু শিশুদের স্কুলে ডেকে এনে ইংলিশ মিডিয়াম শাখায় প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছে।
অবশ্য এই ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হামিদা আলী। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট শাখা প্রধান এই আয়োজন করেছেন। তিনি আমাদের জানাননি। এখন দুঃখপ্রকাশ ছাড়া আর বিকল্প দেখছি না। কেননা, গুলি তো ছোড়া হয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক যুগান্তরকে বলেন, ‘সরকারের নির্দিষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম চলবে না। কিন্তু যে অভিযোগ এসেছে তাতে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করব। পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক নেয়া হবে ব্যবস্থা।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।