মো: জিহাদ রানা: জনবান্ধব পুলিশ গঠনে “জনতাই পুলিশ,পুলিশই জনতা” , “মুজিব বর্ষের মূলমন্ত্র -কমিউনিটি পুলিশিং সর্বত্র ” এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সম্প্রীতির বাংলাদেশকে আরও মজবুত করার লক্ষে্য কমিউনিটি পুলিশিং সেবাকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশালের অশ্বিনী কুমার হল প্রাঙ্গণে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ‘কমিউনিটি পুলিশিং ডে’র উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যকালে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বিএমপি কমিশনার বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশ ফোরাম সহ বরিশালের আপামর জনগণকে অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা চিত্তে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়ে বক্তব্যে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের ঊষালগ্নেই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন – “তোমরা ব্রিটিশ পুলিশ নও, তোমরা পাকিস্তানের পুলিশ নও, তোমরা হবে আমার স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের পুলিশ ।

তিনি বলেন, আমার দূর্ভাগ্য যে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি যুবক ছিলাম না, কিশোর ছিলাম না, আমি যুদ্ধে যেতে পারিনি। মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণের মতো মহিমান্বিত, সম্মানিত মর্যাদার আর কিছু হতে পারে না। যার ডাকে সাড়া দিয়ে, যেই চেতনা নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম, সেই চেতনা, সেই অসাম্প্রদায়িক বাংলা গড়ার আহ্বান মুছে যায় নি।

সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্প্রীতির বাংলাদেশকে আরও মজবুত করার জন্য যদি সত্যি সত্যি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মানুষ হই, যদি মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানাতে চাই, সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভাবশিষ্য হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ভাবশিষ্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষ তথা একটি মহান পেশার মানুষ হিসেবে জনগণের প্রতি আস্থার প্রতীক হিসেবে আমরা প্রতিটি নাগরিক স্ব-স্ব অবস্থান থেকে একেকজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কাজ করে এই দেশকে আরও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড.মোঃ ছাদেকুল আরেফিন বলেন,  জনগণের সাথে সরাসরি কাজ করে একমাত্র পুলিশ বাহিনী। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ হিসেবে পুলিশ বাহিনীর অত্যন্ত বড় ত্যাগ রয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিং এর কনসেপ্ট এর যথাযথ ব্যবহারে পুলিশ ও জনতার মাঝে একটি আস্থার সেতু নির্মাণ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সহায়তা করবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিএমপি প্রলয় চিসিম বলেন, সবাই বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে। অতিদ্রুত সময়ে এই বাংলাদেশ সকল দেশকে পিছনে ফেলে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমাদের সামনে অনেক মেগা প্রজেক্ট রয়েছে। সেই লক্ষে পৌঁছাতে বাংলার সমাজের প্রতিটি মানুষকে আইন মান্যকারী সুনাগরিক হয়ে ধৈর্য ও শৃঙ্খলার সাথে এগিয়ে যেতে হবে। সেন্স অব সিকিউরিটি যেনো আমাদের জনগণের মধ্যে কাজ করে সেই মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তাহলেই আমরা শীর্ষে এগিয়ে যেতে পারবো।

এ-সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, শহিদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত প্রেসক্লাব সভাপতি জনাব মানবেন্দ্র বটব্যল, সিও র্যাব ০৮ আতিকা ইসলাম ,উপ -পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহ, উপ পুলিশ কমিশনার দক্ষিণ বিএমপি মোঃ মোকতার হোসেন পিপিএম-সেবা,উপ -পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক বিএমপি মোঃ জাকির হোসেন মজুমদার পিপিএম,উপ -পুলিশ কমিশনার উত্তর বিএমপি মোঃ খাইরুল আলম,উপ -পুলিশ কমিশনার বিএমপি সাপ্লাই এন্ড লজিস্টিকস খান মুহাম্মদ আবু নাসের, উপ -পুলিশ কমিশনার বিএমপি গোয়েন্দা শাখা মোঃ মনজুর রহমান পিপিএম বার,একে এম জাহাংগীর(বিজ্ঞ পিপি)জেলা ও দায়রা জজ আদালত বরিশাল, এ্যাড আফজালুর করিম সভাপতি বার কাউন্সিল গোরাচাঁদ সড়ক বরিশাল,গাজি নাইমুল ইসলাম লিটু প্যানেল মেয়র, প্রফেসর ইমানুল হাকিম সাবেক অধক্ষ বি এম কলেজ, ডাঃ এস এম রিয়াজুল ইসলাম মোল্লা, মোঃ কামাল চৌধুরী সভাপতি বন্দর থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি, রিফাত জাহান তাপসী সভাপতি এয়ারপোর্ট থানা কমিউনিটি পুলিশিং।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সুশীল সমাজের সর্বস্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ।