মো: জিহাদ রানা ও সোহেল আহমেদ:বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক বক্তব্যে বরিশাল মেট্রোপলিট পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার বলেছেন, আপনার অশোভনীয় আচারণের দ্বারা জনগণ, সমাজ,রাষ্ট্রের কোন ক্ষতি হলে, সেজন্য আল্লাহর দরবারেও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ইসলাম একটি অত্যন্ত বিজ্ঞান সম্মত ধর্ম, সেখানে মানব কল্যাণের সকল ধারণা স্পষ্ট দেয়া আছে।

গতকাল শুক্রবার বরিশাল নগরের ৯৬৭ টি মসজিদে এক যোগে “মুসলিম গোরস্থান রোড জামে মসজিদ” এ বক্তব্য প্রদানের সময় বিএমপি কশিশনার বলেন, জা

 

 

মা কাপড় ছাড়া যেমন খালি গায়ে বের হওয়া যায় না; করোনা যতদিন আছে, জনগণের কথা চিন্তা করে,সমাজের কথা চিন্তা  করে মাস্ক পরিধান করাকেও অনুষঙ্গ গ্রহণ করে সামাজিক আন্দোলনে রুপ দান করতে হবে। তবে মাস্ক এমনভাবে পরতে হবে যাতে ত্বকের সঙ্গে একেবারে লেগে থাকে। কোনো কারণেই মাস্ক এবং ত্বকের মাঝে কোনো ফাঁক রাখা যাবে না।

করোনার প্রাদুর্ভাবে কোন প্রকার প্রাণহানি যেন না ঘটে, জীবন জীবিকা যেন সচল থাকে, সে মর্মে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করার পাশাপাশি বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারী সেসব নির্দেশনা যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করে পালন করতে পারলে, এই করোনার প্রাদুর্ভাবকে কমিয়ে সহনশীল মাত্রায় আনতে পারব।

তার জন্য যেসকল নির্দেশনা রয়েছে, আমরা যাঁরা রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগে নিয়োজিত রয়েছি, রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে সরকারের নির্দেশাবলি কার্যকর করতে বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে আমরা কাজ করে চলেছি। তিনি আরও বলেন, আপনাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা চাবিকাঠি আপনাদের হাতেই। ছোট-বড় যে যেখানে আছি প্রতিটি স্তর থেকে যদি আমরা নাগরিক দায়িত্বে সচেতনভাবে চলি, সাবধানতা অবলম্বন করি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, তাহলেই করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

মাস্ক না পরে বাইরে বের হওয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, এজন্য আইন রয়েছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তারপরও দেখি সমাজের বিভিন্ন স্তরে কিছু মানুষ রয়েছেন যারা বিষয়টি ঢিলেঢালাভাবে দেখছেন। এই মসজিদের ভেতরেও অনেক মুসল্লী রয়েছেন যারা মাস্ক পরেননি। কিন্তু যেখানে জনসমাগম হয় সেখানে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিন আসার আগ পর্যন্ত আমাদের উচিত স্বাস্থ্যসচেতন হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সঠিক নিয়মে নিয়মিত মাস্ক পরিধান করা এবং একই সাথে একজন থেকে আরেকজনের কমপক্ষে তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ওঠা,বসা, চলাফেরা করতে হবে। বার-বার হাত sanitized করা, মাস্ক পরিধান করা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে নিজের ও অপরের সুরক্ষায় কাজ করতে পারলে এর চেয়ে আর কোন পূণ্যবান, কল্যাণকর কাজ হতে পারে না।

নাক,মুখ বাকি রেখে মুখের নিচে ঝুলিয়ে রাখা যাবে না।গুণাগুণহীন ময়লা মাস্ক কোন অবস্থাতেই ব্যবহার করা যাবে না। পানির অপর নাম যেমন জীবন, তেমনি মাস্কের অপর নাম জীবন। করোনার মহামারির বিরুদ্ধে বেঁচে থাকতে হলে আপনাকে মাস্ক পড়তেই হবে। আমরা যদি স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে না চলি, আমাদের জীবন জীবিকা তথা অর্থনীতির চাকা অচল হয়ে যাবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যে মিশন গুলো রয়েছে সেগুলো ধীরগতি হয়ে যাবে। মাস্ক মামুলী বিষয় নয়, জীবনের সুরক্ষার কথা ভেবে যে যাঁর অবস্থান থেকে মাস্ক পরিধান করতে হবে।

উল্লেখ্য যে বরিশাল মহানগরীর প্রায় সকল (৯৬৭টি) মসজিদে বরিশাল মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সহ বিভিন্ন স্তরের সদস্য গন একযোগে উপস্থিত হয়ে জুমআ’র নামাজের সময় খুতবা পাঠ এর পূর্বে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন।