মো: জিহাদ রানা ও সোহেল আহমেদ: করোনাভাইরাস মোকাবেলায় একের পর এক মানবিক কাজ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশ পুলিশ। গত বছর থেকে শুরু হওয়া ভয়ংকর এ মহামারীর হাত থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে রাখতে নিরলশ শ্রম দিয়ে আসছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। চলতি লকডাউনে এবার তারা করোনারোগীদের মানবিক সেবা দিতে এগিয়ে এলেন। করোনা আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে বিনামূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ সেবা চালু করেছেন। সর্বগ্রাসী রুপের করোনা আক্রান্ত শ্বাসকষ্ট রোগীদের প্রাথমিক জীবন সুরক্ষিত রাখতেই এ সেবা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার  মোঃ শাহাবুদ্দিন খান।
আজ বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল সকাল ১১টায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে আয়োজিতো এক অনুষ্ঠানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক করোনা আক্রান্ত শ্বাসকষ্টের রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ সেবা শুভ উদ্বোধনকরা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার।
তিনি বলেন, আমরা করোনার সর্বগ্রাসী রুপে একটি অস্বাভাবিক, কঠিন সময় অতিক্রম করছি যেখানে হাজার হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে, অনেকেই মৃত্যুবরণ করছে এবং মৃত্যুর প্রহর গুনছে, মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের জিরো টলারেন্স ছাড়া আর কোন উপায় নেই। সরকারের পক্ষ থেকে যে ১৮ দফা নীতিমালা রয়েছে তা অবশ্যই অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে। কারো মধ্যে মেনে চলার প্রবণতা না থাকলে সচেতন নাগরিক হিসেবে তাদেরকে বোঝাবেন আমরা যেমন আপনাদের সচেতন করছি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বোঝাতে চেষ্টা করছি। এরপরেও যারা মানবেন না তাদের জন্য কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিএমপি কমিশনার বলেন, অধিকাংশ মানুষ মস্ক পরিধান করলেও নগরীর অলিগলিতে অবস্থানরত সাধারণ মানুষ এখনও যথেষ্ট সচেতন নয়, আবার কেউ কেউ নিয়ম অনুযায়ী মাস্ক পরিধান করতে পারছেন না। যেখানেই যান না কেন, অহেতুক মাস্ক গলায় না ঝুলিয়ে, তরিকা অনুযায়ী মাস্ক পরিধান করে আশি ভাগ সুরক্ষিত থাকুন। করোনা আক্রান্ত শ্বাসকষ্টের রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে এই অক্সিজেন সরবরাহ সেবার দিলে প্রাথমিকভাবে অনেক রোগীর জন্য কার্যকর সাপোর্ট তৈরি হবে। জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই অক্সিজেন সেবা পেতে সক্ষম হন না, আবার পেলেও ব্যবহারবিধি সঠিকভাবে জানেননা। সুতরাং প্রাথমিক ইমারজেন্সীকালে খবর পাওয়ার সাথেসাথে আমাদের প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে আমাদের ব্যবস্থাপনায় যে অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে তা নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবো এবং আন্তরিকতার সাথে অক্সিজেন সেবা দেবো। এর মাধ্যমে প্রাথমিক জীবন অনেকটাই সুরক্ষিত রেখে পরবর্তীতে হসপিটালের সাপোর্ট নিয়ে বাকি চিকিৎসা সেবা চলবে।
নগরবাসীর উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, আমরা আপনাদের সাহায্য চাই, গণমাধ্যমের সাহায্য চাই, যেন প্রকৃতপক্ষে চিকিৎসা সেবাপ্রত্যাশীদের কাছে এই মেসেজ পৌঁছে যায়। আমাদের ওয়েব সাইট, ফেসবুক পেজ ইনবক্স, ফেসবুক গ্রুপ সহ সেবা কেন্দ্রের নম্বর হটলাইন নম্বরে সহায়তা চাইতে পারেন। লকডাউন চলছে, গণ পরিবহন বন্ধ রয়েছে, অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে কেউ বের হবেন না। জীবন জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা করে অনেক প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে, জীবন-জীবিকার সমন্বয় সাধনের চেষ্টা রয়েছে। সে হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের নাগরীক দায়িত্ববোধ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রেখে অপরের সুরক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে অপরকেও উৎসাহিত করতে পারলে তাহলে আমাদের সাধারণ মানুষের জীবন সুরক্ষিত ও অর্থনীতি সুরক্ষিত থাকবে মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সদর-দপ্তর  প্রলয় চিসিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ক্রাইম অপারেশন এন্ড প্রসিকিউশন মোঃ এনামুল হক উপ-পুলিশ কমিশনার সদর-দপ্তর বিএমপি মোঃ মোঃ নজরুল হোসেন,
উপ-পুলিশ কমিশনার দক্ষিণ বিএমপি মোঃ মোকতার হোসেন পিপিএম সেবা, বিএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক বিএমপি মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার পিপিএম , উপ-পুলিশ কমিশনার নগর বিশেষ শাখা বিএমপি  মোঃ তানভীর আরাফাত পিপিএম বার, উপ-পুলিশ কমিশনার ক্রাইম অপারেশন এন্ড প্রসিকিউশন বিএমপি খাঁন মুহাম্মদ আবু নাসের, উপ-পুলিশ কমিশনার গোয়েন্দা বিএমপি  মোঃ মনজুর রহমান পিপিএম বার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ক্রাইম অপারেশন এন্ড প্রসিকিউশন বিএমপি মোঃ আকরামুল হাসান সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।