মাসুদ ফারহান অভি::

যার হাতে আমার রিপোর্টার হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রুপ পেয়েছিল, যিনি সুযোগ দিয়েছিলেন বলেই আমি হাতে-কলমে দীক্ষা পেয়েছিলাম সাংবাদিকতা চর্চার, যিনি আমাকে দিয়েছিলেন লিখার অবাধ স্বাধীনতা, সঙ্গে যোগান দিতেন সাহস, যিনি সুযোগ দিয়েছিলেন বলেই কিছু শব্দগুচ্ছ আমার ঠাঁই পেয়েছিল জাতীয় কয়েকটি পত্রিকার লীড নিউজ হিসেবে কিংবা প্রথম পাতায়, যার ছায়ায় গড়ে উঠেছে চট্টগ্রাম ও ঢাকার অগণিত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক- আজ সেই মনসুর ভাইয়ের জন্মদিন।

এই সেই মনসুর ভাই যিনি সুযোগ দিয়েছিলেন বলেই অনেকে আজ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি, ব্যুরো প্রধান কিংবা সিনিয়র রিপোর্টার। সরল মনে অধীনস্থ সহকর্মীকে বিশ্বাস করে অবাধ লিখার সুযোগ দিয়েছিলেন বলেই অনেকে বনে গেছেন আজ কোটিপতি সাংবাদিক। যিনি ছাড় দিতেন বলেই কেউ কেউ ঘোড়া ডিঙিয়ে গলা সমান ঘাস গিলতে পেরেছিলেন।

কোনো কোনো কথিত ব্যুরো প্রধানের মতন যিনি কখনোই একজন রিপোর্টারের সুপ্ত প্রতিভা নষ্ট করে দেননি। যিনি কখনোই ব্যুরো প্রধানকে না জানিয়ে ঢাকা অফিসে কোনো রিপোর্টার যোগাযোগ করে নিউজের ট্রিটমেন্ট নিলে সে বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেননি। কখনোই লাখ লাখ টাকার বিজ্ঞাপন খাওয়ার জন্য সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে নিউজ করেননি মনসুর ভাই। মফস্বল প্রতিনিধি থেকে অনেকে তার হাতে হয়ে উঠেছেন ঢাকা-চট্টগ্রামের ডাকসাইটে সাংবাদিক।

তবে মানবিক দূর্বলতার ঊর্ধ্বে তিনি ছিলেন না। প্রচন্ড মেজাজ ছিল তাঁর। তবে এই মেজাজ কখনোই কারও ক্যারিয়ার নষ্টের উপলক্ষ ছিল না। এই মেজাজ ছিল আমাদের ভুল সংশোধনের পাথেয়।

খুব কাছ থেকে এগারোটি বছর দেখেছি তাঁকে। এও দেখেছি, তাকে কষ্ট দিতে তাঁরই হাতেগড়া সাংবাদিকদের কারও কারও বিবেকে বাধেনি একটুও!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্মাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে চতুর্থ স্থান অর্জন করে মেধার স্বাক্ষর রাখা কাজী আবুল মনসুর ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ছাত্রলীগের তুখোড় নেতা। তৎকালীন সময়ে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী যে ক’জন হাতেগোনা ছাত্রনেতা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে, তাদেরই একজন মনসুর ভাই। যার বুকে এখনো রয়েছে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তির চাপাতির আঘাতের দাগ।

১১ বছর দৈনিক সমকালের ব্যুরো প্রধানের দায়িত্বপালনকারী মনসুর ভাই কালেরকণ্ঠের প্রতিষ্ঠালগ্নের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান। আহছানিয়া মিশন পত্রিকা বের করছে ‘আলোকিত বাংলাদেশ’ নামে। ব্যুরো প্রধান হিসেবে ডাক পড়েছে মনসুর ভাইয়ের। এলজিআরডি মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম পত্রিকা বের করবেন। এখানেও ডাক পড়লো মনসুর ভাইয়ের। মন্ত্রীর উদ্যোগে প্রকাশিত ‘প্রতিদিনের সংবাদ’ পত্রিকার ডেপুটি এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মনসুর ভাই। আমার জানামতে, চট্টগ্রাম থেকে দায়িত্ব পালন করা জাতীয় পত্রিকার ডেপুটি এডিটর আছেন বড়জোর দুই-তিন জন।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এখন সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রায় আড়াই ‘শ সাংবাদিকের সংগঠন চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের।

আমাদের আবেগের মনসুর ভাইয়ের জীবন কাটুক এমন মর্যাদার সঙ্গে। মনসুর ভাই আমৃত্যু সিক্ত থাকুক অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষীর হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসায়। তথ্য:

(লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া)