নাজনীন সুলতানাঃ

একজন শিক্ষক ও একজন স্কুল ছাত্রের মা হিসেবে আমি মনে করি বর্তমান দেশের এই পরিস্থিতিতে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য যেমন, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইংলিশ স্পোকেন কোচিং, বিসিএস কোচিং ইত্যাদি শিক্ষা সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ রাখার আর কোন যৌক্তিক কারণ আছে।

আমাদের মত মধ্যবিত্তের দেশে এই অপরিকল্পিত লকডাউন যেখানে সবই চলে শুধু মাত্র নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। তাতে মনে হয়না যে কারনে লকডাউন দেওয়া হয়েছে তার বিন্দুমাত্র সফলতা এসেছে।

এদেশে যেহেতু বেসরকারি কর্মজীবি মানুষের সংখ্যা বেশি তাই নামমাত্র লকডাউনের কারনে প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যে কারনে প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবি মানুষগুলোর পরিবারগুলোও ব্যপক প্রভাবিত হয়েছে। কেউ হয়েছে চাকরিচ্যুত, কেউবা দিনগুনে অফিস টাইমের উপর বেতন পাচ্ছে কেউবা অর্ধেকেরও কম বেতনে চাকরি করছে।

এবার আসি দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ ছাত্রসমাজের কাছে, দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সবশ্রেনীর ছাত্রদের মাঝেই তৈরি হয়েছে পড়ালেখার প্রতি অনিহা, বেড়েছে উগ্র আচরন, তৈরি হয়েছে অনিয়মিত জীবনযাপন, সময় কাটানোর জন্য বেছে নিয়েছে প্রযু্ক্তি, আসক্ত হচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য গেমস এর উপর।

যার কারণে শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থের অবনতি হয়েছে হারিয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক পড়ালেখার মানসিকতা আর এ কারণেই ঘরে বসেই বাবা-মায়ের সাথে তৈরি হচ্ছে সন্তানের মানসিক দূরত্ব ও খারাপ সম্পর্ক যা ভবিষ্যতে এনে দিবে এক কঠিন পরিস্থিতি।

অনেক ছাত্র-ছাত্রীর যেমন পড়ালেখা থেকে ঝড়ে গেছে তেমনি অনেকে হতাশাগ্রস্থ হয়ে বেছে নিয়েছে নেশা অথবা আত্মহত্যার পথ। যা একটি দেশ বা সমাজের জন্য কখনোই শুভকর নয়।

আমি একজন বেসরকারি শিক্ষক। অনেকেই ভাবতে পারে বেকার অবস্থার কারণে স্কুল খুলে দেওয়ার পক্ষে কথা বলছি ছাত্রদের স্বাস্থের কথা ভাবছিনা। তাহলে আপনারা বলুন স্কুল কলেজ বন্ধ থাকাতে কি ছাত্ররা ঘরের ভিতরে আছে? আর জীবিকার জন্য কি বাবা-মা বাইরে বেড় হচ্ছে না? কয়দিন আগের ঈদে বাড়ি আসা ও শপিং করার ঘটনা নিশ্চই মনে আছে।

আমি আগেই বলেছি বেসরকারি খাতে যেমন লোকজন বেশি তেমনি বেসরকারি শিক্ষকের সংখ্যাও এদেশে কম নয়। তারা না পায় প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন না পায় সরকারি কোন অনুদান।

সুতরাং, সবদিক বিবেচনা করে আমি একজন শিক্ষক এবং একজন সন্তানের মা হিসেবে চাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হোক। তবে জোড় দিতে হবে স্বাস্থ্যবিধির উপর। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সাধারণ মানুষের নৈতিক দায়িত্ব হওয়া উচিৎ সেটা তার নিজের স্বার্থেই।

তাই আমি মনে করি স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে শিফট আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব। পাশাপাশি থাকতে হবে প্রশাসনের তদারকি।

লেখকঃ নাজনীন সুলতানা, প্রধান শিক্ষক, বরিশাল সেন্ট্রাল মেমোরিয়াল একাডেমি, ইছাকাঠি কাশিপুর বরিশাল।