সোহেল আহমেদঃ
নিজের নাম নিয়েই যখন প্রশ্নের মুখে আমি?
তখন আমি বি এম কলেজের ছাত্র। ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষ। মেধা তালিকায় থাকার পরেও পছন্দের সাবজেক্টি নির্ধারণ করতে মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত যেতে পারলাম না। কেনো পারিনি তা এখানে আলোচ্য বিষয় নয়। মনের চাপা ক্ষোভ, দু:খ যে হিসাব বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও পড়তে হলো ইসলামিক হিস্ট্রোরি নিয়ে। তাতেও আছে ট্রাজেডি। চোখের সামনে অন্যায়, জুলুম আর ক্ষমতার অপব্যবহার দেখে আমি নির্বাক! যা হোক এবার মুল বিষয়ে আসি।
সাংবাদিক মাসুদুর রহমানের হাত ধরে সাংবাদিকতায় হাতে খড়ি দেই। মাই টিভির স্টাফ রিপোর্টার পারভেজ রাসেল এতে প্রত্যক্ষ সহয়োগিতা করেছে। প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক সাহসী যোদ্ধা প্রয়াত মীর মনিরুজ্জামান এর সম্পাদনায় দৈনিক সত্যসংবাদ পত্রিকার নতুন আঙ্গিকে জয় যাত্রা। আমিও সে যাত্রার নতুন সঙ্গী।
মীর মনিরুজ্জামান আমায় হাতে কলমে দিনরাত যখন সময় পেয়েছেন, শিখিয়েছেন। সাংবাদিকতার নীতি আদর্শ, সততা থেকে শুরু করে পত্রিকায় নিউজ লেখার নুন্যতম যোগ্যতা অর্জনে তার “মীর মনিরুজ্জামান” এর ভূমিকা অসামান্য। তারপরেও আমি এই লেখার জগতে নাবালক শিশু!
একদিন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিউজের সুত্র ধরেই পাল্টে যায় আমার সার্টিফিকেটের ” Md.Moniruzzaman ” নামটি। কিন্তু কেনো তাই না?
আমার ওই নিউজ কে কেন্দ্র করে সম্পাদক মীর মনিরুজ্জামান কে ভুক্তভুগী ও পাঠকরা একের পর এক ফোন করে বিরক্ত করছিলো। কেনো নিউজ প্রকাশ করা হলো তার কৈফিয়াত দিতে দিতে আমার সম্পাদক মীর মনিরুজ্জামান ক্লান্ত। শুধু নামের মিল থাকায় পাঠকরা ভালো কিংবা মন্দ যে কোন নিউজ হলেই মীর মনিরুজ্জামান কে রিপোর্টার ভেবে আমার বদলে তাকে বিরোক্ত করা শুরু করে।
অতপর একদিন এই নাম নিয়ে বিড়ম্বনার অবসানের জন্য আমি মনিরুজ্জামান ও সম্পাদক মীর মনিরুজ্জামান সহ শাহিন সুমন, বায়েজীদ, পারভেজ রাসেল, মাসুদ তালুকদারসহ সিনিয়র সহকর্মীদের নিয়ে আলোচনায় বসি। কেননা লিখে ভুল ভ্রান্তি বা সুনাম উভয়টি করবো আমি আর এর বিড়ম্বনায় পড়বেন সম্পাদক, এটা আমার ভালো মনে হচ্ছিলো না।
সম্পাদক মীর মনিরুজ্জামান কে বললাম, ভাইয়া আমার ডাক নাম সোহেল। বংশের পদবি মেলাতে গেলে আহমেদ আনা য়ায়। একজনে প্রস্তাব করল মনির সোহেল/ সোহেল মনির করার জন্য। আমি কোনোটিই পছন্দ করলাম না। আমি কোনো ভাবেই চাইনি মীর মনিরুজ্জামানের মতো খ্যাতিসম্পন্ন গুনী মানুষের সম্মান হানী হোক আমার একটু নামের মিলের জন্য।
তাই আমি প্রস্তাব রাখি রিপোর্টার হিসেবে যদি লেখার জগতে থাকি তবে ” সোহেল আহমেদ” নামটিই ব্যবহারিত হবে। তারপর থেকে গুরু মীর মনিরুজ্জামান আমাকে সোহেল আহমেদ, এক কথায় কাশিপুরের সোহেল নামেই আমায় সাংবাদিক সমাজে পরিচিত করতে চেস্টা করলেন। সফলও হলেন। তাছাড়া সার্টিফিকেটের নামে আমাকে আমার এলাকাও কেউ ভালোভাবে চিনে না। সুতারাং আমিই হলাম” সোহেল আহমেদ”।
সেই থেকে মীর মনিরুজ্জামানের নিকট সত্যসংবাদের দশ বছর, তার সম্পাদনায় ও প্রকাশনায় প্রচারিত দৈনিক বরিশালের কথায়ও কাজ করে যাচ্ছিলাম। এ বহুল প্রচারিত দৈনিক আমাদের বরিশাল পত্রিকায়ও আমার লেখা অব্যাহত রয়েছে।
একই সাথে বর্তমান অনলাইন পত্রিকা আমাদের বরিশাল, বরিশাল পিপলস, স্বাধীন কন্ঠ, নবজাগড়নের মুখপাত্র সহ বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে নিয়মীত লেখা চালিয়ে যাচ্ছি।
গুরু মীর মনিরুজ্জামানের আদর্শ, অসাধ্যকে সাধন, সততা, সর্বোপরি যে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা আমি পেয়েছি তার চেতনা লেখনির মাধ্যমে ধরে রাখার আপ্রান চেস্টা করছি।
সুতারাং, সবার সদয় অবগতির জন্য বিনীত অনুরোধ করলাম। কেউ আর সোহেল আহমেদ নিয়ে অযথা প্রশ্ন না তুলে আমাকে জনকল্যাণকর লেখনীতে অনুপ্রেরণা দিবেন।
সকলের সুস্থ ও সুন্দর জীবনের প্রত্যাশায়,,,,
বি.দ্র: কারো কোনো অভিযোগ বা মতামত কিংবা পরামর্শ থাকলে কমেন্টস এ জানাতে পারেন।