আসাদুজ্জামান মুরাদ, বিশেষ প্রতিবেদকঃ

বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এইচ এম তসলিম উদ্দিন। তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি এবং বরিশাল জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপি, যুবদল এবং ছাত্রদলের একটি বড় অংশের নেতাকর্মীরা তাকে বরিশাল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চাওয়ার দাবি তুলেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর মতে, আন্দোলন-সংগ্রামের দীর্ঘ পথচলায় তসলিম উদ্দিনের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও ধারাবাহিক। বিশেষ করে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বরিশাল ছাত্রদলের রাজনীতি ১৯৯২ সাল থেকে তার পথ চলা। ছাত্ররাজনীতিতে তার নেতৃত্ব উত্থান ২০০৩ সালে। ওই বছরই  ছাত্ররাজনীতিতে তার নেতৃত্বে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ছাত্রদলের বৃহৎ একটা অংশের। সে সময় তিনি বরিশাল ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। দলীয় কর্মসূচি, মানববন্ধন, মিছিল, প্রতিবাদ সভা—সবখানেই তার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। সহপাঠী ও সমসাময়িক নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনের প্রতি তার নিষ্ঠা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণেই ধীরে ধীরে নেতৃত্বের আসনে উঠে আসেন তিনি।
পরবর্তীতে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে বরিশাল জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন এবং দলীয় কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে তিনি ভূমিকা রাখেন বলে দাবি করেছেন তার সমর্থকরা।

আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা সম্পর্কে সত্য জানা যায়,
২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কে বরিশালের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা “সংগ্রামের সময়” হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সময়কালে বিভিন্ন অবরোধ, হরতাল, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে জেলা যুবদলের নেতৃত্ব দেন তসলিম উদ্দিন—এমনটাই জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা।

বরিশালে রাজনৈতিক হামলা মামলার কাছে হার না মানা তসলিম উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক পদে চায় তৃণমূল নেতারা

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক চাপ ও মামলার মধ্যেও সংগঠনকে সক্রিয় রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তসলিম উদ্দিন মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার এই ভূমিকার কারণেই বর্তমানে তাকে জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চাচ্ছেন অনেকেই।

তৃণমূলের প্রত্যাশা দাবি জানিয়ে বলেন,  বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপি, যুবদল এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে পরিবর্তন ও নতুন উদ্যম চান। তাদের মতে, তৃণমূল থেকে উঠে আসা এবং দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকা একজন নেতাকে দায়িত্ব দিলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।
জেলা যুবদলের এক নেতা বাচ্চু বলেন, তসলিম ভাই দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সঙ্গে রাজপথে আছেন। আমরা চাই তাকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করা হোক। তৃণমূলের এটাই দাবি।

আরেক যুবদল নেতা আব্দুর রহমান বলেন, বরিশাল জেলা বিএনপিতে তসলিম ভাইকে দেখতে চাই। তিনি মাঠের নেতা, কর্মীদের পাশে থাকেন। আমাদের প্রত্যাশা, দল তার অবদান বিবেচনা করবে।

ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মীও একই ধরনের মতামত দিয়েছেন। তারা জানান, ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা হওয়ায় তরুণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক সুদৃঢ়, যা সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা বিএনপির ভেতরের আলোচনা যখন মধ্যমণি,
দলীয় একটি সূত্র জানায়, বরিশাল জেলা বিএনপির সম্ভাব্য পুনর্গঠন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানো এবং তৃণমূলের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

যদিও এ বিষয়ে জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও প্রত্যাশা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের দাবি দলীয় সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সংগঠন শক্তিশালী করার লক্ষ্য তসলিম উদ্দিনের সমর্থকদের মতে, তিনি দায়িত্ব পেলে জেলা বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে আরও সুসংগঠিত করবেন। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মীসংযোগ বাড়ানো, নিয়মিত সভা-সমাবেশ আয়োজন এবং অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

একজন জেলা বিএনপি কর্মী বলেন, “দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তসলিম ভাই মাঠের মানুষ, তিনি কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন। এজন্য আমরা তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চাই।”

বরিশাল অঞ্চলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তনের গুঞ্জন সেই আলোচনাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের সক্রিয় সমর্থন কোনো নেতার জন্য বড় শক্তি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপর। দলের সাংগঠনিক নীতিমালা ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পরবর্তী কমিটি গঠন হবে।

এদিকে, তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তসলিম উদ্দিনকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চেয়ে মত প্রকাশ করছেন। তারা মনে করেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তাকে বড় দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত করেছে।

বরিশাল জেলা বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে এইচ এম তসলিম উদ্দিনকে দেখতে চাওয়ার দাবি তুলেছেন।

এ দাবি কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ভর করছে দলীয় সিদ্ধান্তের উপর। তবে এটুকু স্পষ্ট—বরিশালের রাজনীতিতে তৃণমূলের কণ্ঠস্বর এখন আরও জোরালো, এবং সেই কণ্ঠস্বরের কেন্দ্রে রয়েছেন এইচ এম তসলিম উদ্দিন।