অনলাইন ডেস্কঃ বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাতে অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ডিসি রোড ঘাটে ফেরি চালুর। বহু প্রতীক্ষিত এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে আসায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে।
দীর্ঘদিন ধরে ফেরি সুবিধা না থাকায় এই রুটে যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছিল, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোমা ঘাটে চলাচলরত ফেরিটি স্থানান্তর করে ডিসি রোড ঘাটে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এলাকার সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় ও যোগাযোগ বজায় রেখে এ সমস্যার সমাধানে কাজ করে আসছিলেন।
তার প্রচেষ্টার ফলেই অবশেষে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মুখ দেখছে।ডিসি রোড ঘাটে ফেরি না থাকায় এতদিন এই অঞ্চলের মানুষকে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হতো, যা সময় ও ব্যয়ের দিক থেকে ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হতো ব্যবসায়ীদের। একই সঙ্গে জরুরি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে দ্রুততার অভাবে বহু সময় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। স্থানীয়রা জানান, একটি ফেরি চালুর অভাবে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্থবিরতা নেমে এসেছিল।নতুন করে ফেরি চালু হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে সময় সাশ্রয়, পরিবহন ব্যয় হ্রাস এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতেও এর সুফল মিলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।ফেরি চালুর সংবাদে ইতোমধ্যেই বাকেরগঞ্জজুড়ে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এটিকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা জানান, দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হওয়ায় এখন তাদের জীবনযাত্রা সহজ হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জনকল্যাণে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা। স্থানীয়দের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ফেরি চালু নয়, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।