মোঃ রফিকুল ইসলামঃ
সকালের জোয়ার নামতেই কুয়াকাটার পশ্চিম সৈকতে চোখ আটকে যায় এক অস্বস্তিকর দৃশ্যে। বালির ওপর নিথর পড়ে আছে এক ডলফিন।
ঢেউ এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে, আবার ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু প্রাণ নেই। শুধু রয়ে গেছে ক্ষত চিহ্ন। ছিন্ন চামড়া, আর লেজে শক্ত করে বাঁধা এক টুকরো দড়ি।
প্রায় ৮ ফুট লম্বা দেহটি দেখে প্রথমে কৌতূহল, তারপরই অস্বস্তি। কাছে গেলে স্পষ্ট হয়, ডল‌ফি‌নের এ মৃত্যু স্বাভাবিক নয়।
শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের দাগ, পেট ফেটে যাওয়া, আর লেজে দড়ি। এই সব মিলিয়ে যেন সমুদ্র নিজেই কোনো অঘটনের সাক্ষ্য তুলে দিয়েছে তীরে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি ইরাবতী ডলফিন। গোলাকার মাথা, ঠোঁটহীন মুখ, উপকূলের অগভীর জল আর বড় নদীর বাসিন্দা এই প্রাণী। সংখ্যায় কমছে, আর তার সঙ্গে বাড়ছে এমন অস্বস্তিকর উপস্থিতি, মৃতদেহ হয়ে ফিরে আসা।
লেজে বাঁধা দড়িটি যেন সবচেয়ে বেশি কথা বলে। জালে আটকে পড়া? ইচ্ছাকৃত বাঁধন? নাকি কোনো নৌযানের সঙ্গে সংঘর্ষের পর টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? নিশ্চিত উত্তর নেই।
তবে শরীরের ক্ষতচিহ্ন আর দড়ির উপস্থিতি একসঙ্গে মিলিয়ে দেয় সন্দেহের দিকেই।
সমুদ্রের এই অংশে মাছ ধরার জাল, ইঞ্জিনচালিত নৌযানের চলাচল, আর প্লাস্টিকের ভিড়, সবকিছুই এখন বাস্তবতা। সেই বাস্তবতায় ডলফিনেরা প্রায়ই অদৃশ্য ফাঁদে পড়ে যায়। কখনো জালে, কখনো গতির ধাক্কায়, কখনো মানুষের অসতর্কতায়।