মোঃ রফিকুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃবরিশালের গৌরনদীর বাটাজোরের শরিকল। বর্ষার সকাল। মাটিতে তখনও রাতের বৃষ্টির সোঁদা গন্ধ। একের পর এক গর্তে নামছে গাছের চারা। সেই চারার গোড়ায় মাটি চাপা দিতে দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেন শুধু একটি গাছ নয়, আরেকটি অভ্যাসের বীজও রোপণ করতে চাইলেন।

পাশেই দাঁড়িয়ে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সামনে স্থানীয় মানুষ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, দলীয় নেতা-কর্মী। কর্মসূচিতে রোপণ করা হলো দুই হাজার গাছ। কিন্তু বক্তৃতার কেন্দ্রে ছিল না কেবল বৃক্ষরোপণ। ছিল গাছ বাঁচিয়ে রাখার দায়, পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কথা এবং নাগরিক দায়িত্বের প্রশ্ন।

প্রধানমন্ত্রী বললেন, গাছ রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। শিশুর মতো মমতা দিয়ে তার যত্ন নিতে হয়। কারণ, আজ যে চারাটি মাটিতে বসানো হচ্ছে, কয়েক বছর পর সেই গাছই ছায়া দেবে, অক্সিজেন দেবে, ফল দেবে এই এলাকার মানুষকে। অন্য কারও নয়, নিজের মানুষেরই উপকারে আসবে।

সেখান থেকেই তিনি পৌঁছে গেলেন আরও বড় এক প্রসঙ্গে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতবিক্ষত পৃথিবীতে সবুজই সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি। সরকারের ভাষায়, দেশের চারপাশকে সবুজ চাদরে ঢেকে দেওয়ার উদ্যোগ এটি।

কিন্তু সবুজের গল্প বলতে বলতেই তাঁর চোখ আটকে গেল পাশের খালে। সেখানে ভাসছে প্লাস্টিকের বোতল, ছড়িয়ে আছে পলিথিন। দৃশ্যটি যেন তাঁর বক্তব্যের মোড় ঘুরিয়ে দিল।

তিনি প্রশ্ন তুললেন, দেশের মালিক কে? উত্তরও দিলেন নিজেই, দেশের মানুষ। নিজের ঘর যেমন মানুষ নিজেই পরিষ্কার রাখে, তেমনি দেশকেও নিজের সম্পদ মনে করে রক্ষা করতে হবে।

বর্ষায় জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, খাল-বিল ও ড্রেনে যত্রতত্র প্লাস্টিক ও আবর্জনা ফেলার কারণেই অনেক জায়গায় পানি নামতে পারে না। খাল বেঁচে থাকলে পানি চলাচল করবে, বন্যার ক্ষতিও কমবে। অথচ মানুষের অসচেতনতার কারণেই সেই স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি বড় কোনো নীতির কথা বলেননি। বলেছেন ছোট্ট একটি অভ্যাসের কথা। ব্যবহৃত টিস্যু কিংবা ছোটখাটো বর্জ্য তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় ফেলেন না। পকেটে রেখে দেন। পরে ডাস্টবিনে ফেলেন। তাঁর ভাষায়, এমন ছোট ছোট অভ্যাসই একদিন একটি পরিচ্ছন্ন দেশের ভিত্তি গড়ে দিতে পারে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিদেশের পরিচ্ছন্ন রাস্তা দেখে আমরা মুগ্ধ হই। কিন্তু সেই দেশগুলো পরিচ্ছন্ন রাখে তাদের নিজের মানুষই। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দায়িত্ব অন্য কারও নয়, এ দেশের মানুষেরই।