২. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ু বৃদ্ধি করা হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০৬৭)
৩. ইমামের সঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জামাতে নামাজ একাকী নামাজের চেয়ে ২৭ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৬)
৪. বাড়িতে নফল নামাজ আদায় করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজ ছাড়া মানুষের সর্বোত্তম নামাজ হলো তার ঘরে আদায় করা নামাজ।
এ ছাড়া মসজিদে কুবায় নামাজ আদায়েরও বিশেষ ফজিলত আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করে মসজিদে কুবায় এসে নামাজ আদায় করে, তার জন্য একটি ওমরাহর সমান সওয়াব আছে।’ (নাসায়ি ও ইবনু মাজাহ)
৬. জুমার দিনের আদব পালন করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গোসল করে, উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে সকালে মসজিদে যায়, আগে আগে উপস্থিত হয়, ইমামের নিকটবর্তী হয় এবং অনর্থক কথা বলে না, তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও রাতের নামাজের সওয়াব রয়েছে।
মানুষের শরীরে ৩৬০টি জোড় রয়েছে আর চাশতের সময় সূর্যোদয়ের প্রায় ১৫ মিনিট পর থেকে শুরু হয়ে জোহরের কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত থাকে।
৮. মসজিদে গিয়ে ফরজ নামাজ আদায় করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ফরজ নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে নিজ ঘর থেকে বের হয়, তার সওয়াব ইহরাম পরিহিত হাজির সওয়াবের মতো।’ আবু দাউদ, হাদিস : ৫৫৮)
৯. প্রথম কাতারে থাকার চেষ্টা করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথম কাতারের জন্য তিনবার এবং দ্বিতীয় কাতারের জন্য একবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। (ইবন মাজাহ, হাদিস : ৯৯৬)
১০. আজানের জবাব দেওয়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তারা (মুয়াজ্জিনরা) যা বলে, তোমরাও তা বলো। এরপর যখন শেষ করবে, তখন দোয়া করবে; তোমাকে তা দেওয়া হবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫২৪)
১১. হজ ও ওমরাহ করা অথবা অন্যকে এর জন্য সহযোগিতা করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পর পর হজ ও উমরা পালন করো। কারণ এগুলো দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮১০)
১২. মসজিদে ইলমের মজলিসে অংশগ্রহণ করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শুধু কোনো কল্যাণকর বিষয় শেখা বা শেখানোর উদ্দেশ্যে সকালে মসজিদের দিকে যায়, তার জন্য পূর্ণ হজ আদায়কারী ব্যক্তির সমান সওয়াব রয়েছে।’ (সহিহুত তারগিব, হাদিস : ৮৬; তাবারানি, হাদিস : ৭৪৭৩)
১৩. প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখে, তা যেন সারা বছর রোজা রাখার মতো।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৭৬২)
কারণ একটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ গুণ পর্যন্ত হতে পারে।
১৪. কোরআন তিলাওয়াত : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে। আর প্রতিটি নেকি ১০ গুণ করা হয়। আমি বলছি না যে ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মিম একটি অক্ষর।’’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৯১০)
১৫. বেশি সওয়াবের জিকির করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি বাক্য জিহ্বায় হালকা, মিজানে ভারী এবং রহমানের কাছে প্রিয় : ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৬৮২)
১৬. মুমিনদের জন্য ইস্তিগফার করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তার জন্য প্রত্যেক মুমিন পুরুষ ও নারীর বিনিময়ে একটি করে নেকি লিখে দেন।’ (সহিহুল জামি, হাদিস : ৬০২৬; তাবারানি, আল-মুজামুল কাবির ২৩/৩৭০)
১৭. মানুষের প্রয়োজন পূরণে সহযোগিতা করা : অন্যের কল্যাণে এগিয়ে আসা এবং অকল্যাণ থেকে নিজেকে বিরত রাখা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সালেম (রহ.) তাঁর বাবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। কাজেই সে তার ওপর নির্যাতন করবে না এবং তাকে অসহায় অবস্থায়ও ছেড়ে যাবে না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন মেটাবেন।
একইভাবে যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদ দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৯৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, ‘আমার কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে তার সঙ্গে হাঁটা আমার কাছে মসজিদে এক মাস ইতিকাফ করার চেয়েও প্রিয়।’ (সহিহুত তারগিব, হাদিস : ২৬২৩)
১৮. মৃত্যুর পরও যার সওয়াব অব্যাহত থাকে : কিছু আমল এমন আছে, যেগুলোর সওয়াব মানুষ মৃত্যুবরণ করার পরও অব্যাহত থাকতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘চার ব্যক্তির আমলের সওয়াব তাদের মৃত্যুর পরও চলতে থাকে : যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে সীমান্ত পাহারা দিতে গিয়ে মারা যায়; যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান শিক্ষা দেয় এবং তার দ্বারা আমল করা হয়, তার সওয়াব চলতে থাকে; যে ব্যক্তি কোনো সদকার ব্যবস্থা করে যায়, যত দিন তা থেকে উপকার নেওয়া হয় তত দিন তার সওয়াব চলতে থাকে; এবং যে ব্যক্তি এমন সৎ সন্তান রেখে যায়, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহুত তারগিব, হাদিস : ১১৪)
১৯. ইশরাকের নামাজ : ইশরাকের নামাজের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করে, তারপর সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে বসে থাকে, এরপর দুই রাকাত নামাজ পড়ে, তার জন্য পূর্ণ হজ ও ওমরাহর সমান সওয়াব।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৫৮৬)
২০. সবরের ফজিলত : মহান আল্লাহ বলেন, ‘….ধৈর্যশীলদের অপরিমিত (অগণিত) পুরস্কার দেওয়া হবে।’ (সুরা : ঝুমার, আয়াত : ১০)
সুতরাং ছোট ও সহজ আমলকে কখনো তুচ্ছ মনে করা উচিত নয়। আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে সামান্য পরিশ্রমেও অনেক সওয়াব অর্জনের সুযোগ আছে।