উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরি করতে এসে দেখতাম, কিছু রোগি কোন অসুস্থতা ছাড়াই ৩-৫ দিন এমনকি ৭ দিন পর্যন্ত হাসপাতালের বিছানা অাকড়ে থাকতো।
এরা নাকি মারামারি করে প্রতিপক্ষকে ফাসানোর জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়। প্রতিদিন ২০-৩০ জন এরকম রোগি ভর্তি হয়, ভর্তি করতে না চাইলেও এরা জোড় করে ভর্তি হয়।
৫০ বেডের হাসপাতাল, এদেরকে বেড দিয়ে দেখা যেত, নিউমোনিয়ার বাচ্চা ফ্লোরে থাকছে, রাত তিনটার সময় বদরপুর কিংবা লর্ড হার্ডিংজ থেকে অাসা গুরুতর অসুস্থ শ্বাসকষ্টের রোগিকে ফ্লোরে দিতে হচ্ছে।
তখন অামি এটা মানতাম না।
ওই সব রোগির নাম কেটে দিতাম। ভর্তির একদিনের মাথায় নাম কাটতাম। এতে তারা ভাবতো, অামি বিপক্ষ পার্টির কাছ থেকে টাকা খেয়ে তাদের নাম কাটছি। তারা খুব ঝামেলা করতো। অামার নামে অামার স্যারের কাছে বলতো।
কলিগরা বলতো, থাকুক যে কয়দিন ইচ্ছা, সমস্যা কি.
অামি ব্যাপারটা মানতে পারি নি। পদক্ষেপ নিলাম যে মারামারির রোগি ওয়ার্ডের ভিতরেই জায়গা দিব না। তাদের জন্য বারান্দায় অালাদা জায়গা দিয়েছি। প্রথম দিকে একটু সমস্যা হতো, কিন্তু পরবর্তীতে মানুষ মেনে নিচ্ছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘অারএমও’পোস্ট প্রশাসনিক একটা পোস্ট। ২৫ জন ডাক্তারের মধ্যে দায়িত্বের দিক দিয়ে ইউএইচএফপিও স্যারের পরেই অারএমও এর দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। হাসপাতাল প্রশাসন ঠিক রাখতে হলে শুধু ডাক্তারি করলেই চলবে না। প্রশাসকের ভূমিকাও পালন করতে হবে
৫০ বেডের হাসপাতালে ৮০-৯০ জন রোগিকে সার্ভিস দিতে গিয়ে মারামারি করে কোন ইনজুরি ছাড়াই শুধু সার্টিফিকেটের জন্য ভর্তি হওয়া রোগিদের সাথে শুধু দুর্ব্যবহার না, পিটিয়ে হাসপাতাল ছাড়া করা উচিত।
সরকারের কাছে সরকারী হাসপাতাল গুলোতে পুলিশ সদস্য দাবি করছি।
সাধারন রোগিদের সুচিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চয়তার জন্য এটা চলবে।
(ফেসবুক থেকে সংগৃহিত)
লেখক: ডা.মো: মহসীন খান, উপজেলা স্বাস্থ কেন্দ্র,লালমোহন,ভোলা।