ডা: মহসিন খান: বরিশাল মেডিকেলে ইন্টার্নি করার সময় নিজের এলাকার গরীব রোগিদেরকে রোগি কল্যান সমিতি থেকে টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতাম।
ব্লাড ব্যাংকগুলো থেকে অসহায় রোগিদেরকে ফ্রি ব্লাডের ব্যবস্থা করে দিতাম। পরীক্ষা নিরীক্ষা ফ্রিতে করার ব্যবস্থা করতাম।
লালমোহন হাসপাতালে এসে দেখি গত দুই বছরে রোগি কল্যান সমিতির কোন কার্যক্রম নাই। শেষ কবে চালু ছিলো, তাও জানা নাই। প্রায় সময়ই চেষ্টা করতাম এটা চালু করার। কিন্তু বাধা পেয়ে থেমে যেতাম।
বাধা কি????
প্রথমত, একটা দোকান নির্দিষ্ট করতে হবে, ওই দোকান থেকেই নির্বাচিত গরীব রোগি ঔষধ কিনতে পারব। মাস শেষে সমাজ সেবা অফিস একসাথে টাকা পরিশোধ করবে। সমস্যা হলো, একটা দোকান ঠিক করলে অন্য দোকানদাররা অারএমও কে মনে মনে দুষবো ………
দ্বিতীয়ত, সব গরীব রোগিকে ঔষধ দেয়া যাবে না, কিন্তু অনেকেই নিজেকে গরীব দাবি করে ঔষধ চাইবে। মেইনটেইন করা কষ্ট হয়ে যাবে।
সার্ভিসটা চালু করলে উপকার হবে গরীব রোগীর।
কেউ সার্ভিস পেলে শুকরিয়া ও দোয়া করবে। যারা পাবে না, তারা সামনে না পারলেও পিছনে অারএমও কে দূষবে। সুযোগ পেলে হয়তো বলবে—- অারএমও টাকা খেয়ে তার পছন্দের রোগিকে সাহায্য দেয়।
এত চিন্তা করে এখন পর্যন্ত সার্ভিস টা বন্ধ। কয়েকদিন অাগে সমাজসেবা কর্মকর্তার সাথে কথা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এটা চালু হবে।
ছবিতে একটা মেয়েকে দেখা যাচ্ছে, তার দাদীর কোলে। পেট ব্যথা নিয়ে অাজকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ওর বাবা- মা ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করে।
দাদাও অাসছে। এই মেয়েটাকে যদি রোগি কল্যান সমিতি থেকে ১০০০ টাকার সাহায্য করা যায়, তার জন্য লাখ টাকার উপকার হবে।
উপকার হোক গরীবের। দোষ হোক অামার।
লেখক: ডা:মহসিন থান,লালমোহন,স্বাস্থ কেন্দ্র,ভোলা।