ফারুক হাসান,বেনাপোল: স্বাধীনতার সাতচল্লিশ বছর পেরিয়ে গেলেও বেনাপোল বন্দরে স্থাপিত হয়নি বিএসটিআই কিংবা বিএসআইআর এর শাখা অফিস। ফলে ব্যাহত হচ্ছে আমদানি রফতানি বাণিজ্য। আর্থিক
ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা।যার ফলে এ বন্দর ছেড়ে অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছে আমদানি কারকরা।
আর রাজস্ব আহরনে লক্ষমাত্রা পূরণে বার বার ব্যর্থ হচ্ছে বেনাপোল কাস্টমস হাউস। একাধিক আমদানি কারকের সাথে কথা বলে জানাগেছে, খাদ্যদ্রব্যসহ অনেক পণ্যের পরীক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই এ বন্দরে।
এতে মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানায় উৎপাদন প্রক্রিয়া। যার প্রভাব পড়ছে বাজারে ভোক্তার ওপর। তবে কিছু কিছু কেমিক্যাল বেনাপোল কাস্টমস হাউজের নিজস্ব ল্যাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান,খাদ্যদ্রব্য ও খাদ্যদ্রব্যের কাঁচামাল, কসমেটিকসসহ বেশ কিছু পণ্য বিএসটিআই, বিএসআইআর, বুয়েট,কুয়েট সহ বিভিন্ন প্রতিষ্টানের পরীক্ষাগার থেকে পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করিয়ে আনতে হয়। পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে কখনও কখনও মাসের অধিক সময়ও লেগে যায়।
এতে আমদানি কারকরা যেমন অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হন তেমনি বন্দরে লম্বা সময় পণ্য চালান আটকে থাকায় পণ্যের গুণগত মানও নষ্ট হয়।দেশের সবচেয়ে বেশি রাজস্বদাতা এ বন্দরে পণ্য পরীক্ষণের
নিজস্ব ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে জানান, পরীক্ষাগার স্থাপনের বিষয়টি ইতিমধ্যে তারা লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে দেশের স্থলপথে যে পণ্য আমদানি হয় তার ৭০ শতাংশ আসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে। এ পথে বছরে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়ে থাকে, যা থেকে সরকার প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করে।
এ বন্দর দিয়ে সাড়ে তিন শতাধিক ধরনের পণ্য আমদানি হয়। যার মধ্যে খাদ্যদ্রব্য ও খাদ্যদ্রব্যের কাঁচামাল,
কসমেটিকস ও শিল্প কারখানার কেমিক্যাল জাতীয় ৫৫টি পণ্য পরীক্ষণ সার্টিফিকেট ছাড়া খালাস করা হয় না।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, বন্দরে বিএসটিআই ও বিএসআইআর- এর বেনাপোল বন্দরে শাখা না থাকায় আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে
মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয়।এ সমস্যা সমাধান হওয়া জুরুরি।
একটি পণ্য চালান আমদানি করতে এলসিসহ ধাপে ধাপে বিভিন্ন খরচ আছে। যদি পরীক্ষণের নামে লম্বা সময় পণ্য চালানটি আটকে থাকে তবে সব খরচ ব্যবসায়ীর ঘাড়ের ওপর পড়ে। আর সময়মতো কাঁচামাল কারখানায় না পৌঁছালে ফ্যাক্টরীর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এসব পণ্য পরীক্ষণে যে টাকা ব্যয় হয় তাতে মাঝে মধ্যে
দেখা যায় সরকারি ডিউটির চেয়ে পণ্যের পরীক্ষা করাতে বেশি টাকা চলে যাচ্ছে।
যার প্রভাব পড়ে সাধারণ ভোক্তাদের উপর ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কর্মাসের ল্যান্ডপোর্ট সাব কমিটির
চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, পরীক্ষা করাতে হয় এমন অনেক পণ্য ভারতের পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়। কিন্তু সেখানে ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে পণ্যের রিপোর্ট ই-মেইলের মাধ্যমে চলে আসে। কিন্তু
আমাদের দুর্ভাগ্য বেনাপোল বন্দরে এ সুবিধা নাই। চট্টগ্রাম বন্দরে ৫৫টি পণ্যের বাইরে যদি কোনো খাদ্যদ্রব্য আমদানি হয় তবে রফতানী কারক প্রতিষ্টান মানুষের খাবারের উপযোগী এমন সার্টিফিকেট দিলে ওই পণ্য পুনরায় আর পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না।
চট্টগ্রামে যদি ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে এমন সুবিধা পান তবে বেনাপোল বন্দরে সেই সুবিধার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দিক-নির্দেশনার বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
বেনাপোলের কাস্টম কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে বিএসটিআই ও বিএসআইআরর শাখা আছে। সেখানে ব্যবসায়ীরা সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু বেনাপোল বন্দরে এ সুবিধা না থাকায় ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়ে আসছেন। এতে শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রভাব পড়ে বাজারে ভোক্তার ওপর।
বেনাপোল বন্দরে কাস্টম হাউজে স্বল্পপরিসরে বিএসটিআই-এর একটি শাখা চালু হয়েছে। তবে বিসিএসআইআরসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর শাখাও যাতে দ্রুত স্থাপন হয় তা লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।