স্পোর্টস নিউজ: পাকিস্তানের কোচের দায়িত্ব ভালোই উপভোগ করছিলেন মিকি আর্থার। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে না পারলেও দল খুব একটা খারাপ করেনি। ফলে কোচের পদ থেকে বহিষ্কার হবেন কস্মিনকালেও ভাবেননি তিনি। মনে করেছিলেন নতুন মেয়াতে দায়িত্ব পাবেন অবধারিত। কিন্তু বিশ্বকাপের পর হুট করে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় পিসিবি।
আর্থার মনে করেন, তিনি যাদের বিশ্বাস করেছিলেন, তারাই তার সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন। নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাবেক পাক কোচ বলেন, আমি খুবই হতাশ। সেখানকার কিছু মানুষকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলাম। পাকিস্তানের ক্রিকেট কমিটিতে সুপারিশ করা মানুষগুলোর কথা বলছি আমি। তাদের ওপর সত্যিই আস্থা রেখেছিলাম। কিন্তু কাজটা ঠিক উল্টো করেছেন তারা।
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পর পিসিবির সঙ্গে কথা বলেন আর্থার। নিজের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বোর্ডকে জানান তিনি। সরফরাজকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে নতুনদের সুযোগ দেয়ার কথা বলেন। বাবর আজমকে টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে সুপারিশ করেন। ইমাদ ওয়াসিমকে টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরফরাজই তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক থেকে গেছেন। মাঝখান থেকে বরখাস্ত হয়েছেন কোচ আর্থার।
বিশ্বকাপের পর কোচ, অধিনায়ক নিয়োগসংক্রান্ত কমিটি করে বোর্ড। ওই কমিটিতে মিসবাহ-ওয়াসিমকে রাখার সুপারিশ করেন আর্থার। সেই সুযোগটাই কাজে লাগান মিসবাহ। ক্রিকেটবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে প্রোটিয়া কোচ বলেন, আমি ভেবেছিলাম কমিটিতে মিসবাহ থাকলে ভালো হবে। কারণ উনি পাকিস্তান ক্রিকেটের একজন গডফাদার।
এ ছাড়া ওয়াসিমের কথা বলেছিলাম। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটা খুব ভালো বোঝেন উনি। পরে তার সঙ্গে হাত মিলিয়ে মিসবাহ-ই আমার চুক্তি বাড়াতে দেয়নি। অবশ্য পিসিবি ভালো সিদ্ধান্তই নিয়েছে। কারণ এ পরিস্থিতিতে একসঙ্গে কোচ-নির্বাচকের দায়িত্ব নেয়ার যথোপযুক্ত ব্যক্তি সেই।
এখন পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন আর্থার। তবে তাদের সঙ্গে তিনটি দারুণ বছর কাটানোয় খুশি তিনি। আবার হতাশও। কারণ দলটা তিনি গুছিয়ে এনেছিলেন। অভিজ্ঞ এ কোচ বলেন, আমি দায়িত্বটা পালন করে যেতে চেয়েছিলাম।
কারণ দলটা গুছিয়ে এনেছিলাম। এতে তিন বছর সময় লেগেছে। টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানকে সেরা বানিয়েছি। ওয়ানডে দলও গুছিয়ে এনেছিলাম। চ্যালেঞ্জ ছিল শুধু টেস্ট দল তৈরি করার। সত্যিই সেখানে কাজ করার বড় চ্যালেঞ্জ আছে।