ফারুক হাসান,বেনাপোলঃ দেশে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত কাঁচা ফুলের সিংহভাগই যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ও শার্শা উপজেলা আশপাশের এলাকার চাষিরা উৎপাদন করে থাকেন। এর বাইরে দেশের ২৫টি জেলার চাষিরাও কমবেশি ফুল উৎপাদন করছেন। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার ফুল উৎপাদন করছেন চাষিরা। আর ফুল চাষ, বাজারজাতকরণ ও বিপণনের সঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে।
দেশে প্রায় ২০ হাজার ফুলচাষী রয়েছে ।তার মধ্যে যশোরের গদখলী ও শার্শা এলাকায় প্রায় ৭ হাজার ফুল চাষী ৮৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার ফুল চাষের সাথে সম্পৃক্ত।এখানে বেশি চাষ হয় গ্যালোরিয়াস ,রজনীগন্ধা ও গোলাপ। তাদের উৎপাদিত জারবেরা, গাঁদা, জিপসি, রডস্টিক, কেলেনডোলা, চন্দ্র মল্লিকাসহ ১৫ ধরনের ফুল সারাদেশের মানুষের মন রাঙাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও তার প্রেক্ষিতে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বিপাকে পড়েছে সম্ভাবনাময় এই ফুল সেক্টরটি। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিরাট একটা জনগোষ্ঠীর এখন পথে বসার উপক্রম। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার পর ফুল সেক্টরকে বাঁচাতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ফ্লাওয়ার সোসাইটির নেতারা।
সরোজমিনে গদখালি ইউনিয়নের পানিসারা, নাভারণ, নির্বাসখোলা শার্শার উলাশী ,মটি কুমরা এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ্#৩৯;লং স্টিক রোজ্#ে৩৯;র পাশাপাশি বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন দোল খাচ্ছে জারবেরা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, হলুদ গাঁদা ও চন্দ্রমলিল্গকাসহ হরেক রকমের ফুল। বাতাসে ফুটন্ত ফুলের
সুবাস ছড়িয়ে যাচ্ছে চারদিকে।
একাধিক ফুল চাষীর সাথে কথা বলে জানাগেছে তাদের কষ্টের কথা। শার্শার উলাশীর ফুল চাষী দিলদার হোসেন জানান,ফুলচাষে আসা বংশ পরমপরায়। আমার বাবা ফুল চাষ করতো। এখন আমিও ফুল চাষের সাথে সংপৃক্ত। আমি তিন বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছি। তার মধ্যে এক বিঘা রজনীগন্ধা একবিঘা গোলাপ ও এক বিঘা
জারবেরা । ২৬শে মার্চ ও পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে আমাররমত হাজার হাজার ফুল চাষীরা বাজার থেকে ধ্ধসঢ়;ার দেনা করে সকাল- বিকাল ফুলের পরিচর্যা করছি।এখন করোনা ভাইরাসের কারনে গাড়ী ঘোড়া বন্ধ থাকায় ঢাকায় ফুল নিয়ে যেতে পারছিনা।ক্ষেতেই সব ফুল নষ্ট হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় বাজারে কোন পাইকার নেই।
এবার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, দেশের ফুলচাষিরা বছরে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার ফুল উৎপাদন ও কেনা-বেচা করেন। এর মধ্যে ভ্যালেনটাইনস ডে, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, পহেলা ফাল্ধসঢ়;গুন, পহেলা বৈশাখের মতো বিশেষ কিছু দিবসেই বিক্রি হয় ১০০০ কোটি টাকার ফুল।
এই দিবসগুলোতে বাজারে ফুল ওঠাতে চাষিরা অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন এবং বিশেষ এই দিবসগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার তারা পথে বসতে চলেছেন। সারা দেশের ফুলের দোকানগুলো বন্ধ। গত ১৮ মার্চ থেকে চাষিরা কোনো ফুল বিক্রি করতে পারেনি। তিনি বলেন, ফুল খেতে রাখা যায় না, ফুল সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি। সবমিলিয়ে খেতেই নষ্ট হয়ে
যাচ্ছে প্রায় তিনশ’ কোটি টাকার ফুল। 
এ অবস্থায় ফুলচাষিদের বাঁচাতে এবং দেশের সম্ভাবনাময় এই ফুল সেক্টরকে রক্ষা করতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্ধসঢ়;বান জানাচ্ছি। ২৫ জেলায় যেসব চাষি ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত তাদের তালিকা করে বিনা সুদে ঋণ দেওয়া জরুরি যাতে তারা আবারও ফুল চাষ করে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারেন। এর সঙ্গে জড়িতদের পরিবারকে প্রতিদিনের খাদ্য সরবরাহ করা দরকার বলেও তিনি মনে করেন। এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সোসাইটির পক্ষ থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি আবেদন পাঠানো হয়েছে । বিশেষ প্রণোদনা ও বিনা সুদে ঋণ দিয়ে সম্ভাবনাময় ফুল সেক্টরটি বাঁচিয়ে দাবি ব্যবসায়ীদের।