রাকিব হাসান, ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ বর্তমানে বসুন্ধরা কিংসের অভিজ্ঞ গোলকিপারের মধ্যে একজন মাকসুদুর রহমান মোস্তাক। বয়সটা ৩০ ছুঁইছুঁই। প্রাপ্তিটাও যে বিশাল তা বললে হয়তো ভুল হবে না। কেননা জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক প্রায় সব দলের স্কোয়াডে ছিলেন তিনি । জাতীয় দলের হয়ে ২টি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচও খেলেছেন তিনি। নিজের যোগ্যতার প্রমান দিয়ে বর্তমানে রয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের শিবিরে।
২৫ নম্বর জার্সি পরিহিত এই খেলোয়াড়কে এখন পর্যন্ত কিংসের কোনো ম্যাচেই দেখা যাইনি। কেননা গত মৌসুমে কিংসে যোগ দিলেও পুরো মৌসুম ইনজুরিতে কাটাতে হয়েছে তাকে। সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দিয়ে কোচের আস্থা অর্জনে প্রস্তুত তিনি। কিংস শিবিরে রয়েছেন চারজন গোলকিপার তাদের মধ্যে রয়েছেন মাকসুদুর রহমান মোস্তাক।
মাকসুদুর রহমান মোস্তাক ১৯ অক্টোবর ১৯৯০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন । ২০০৪ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৪, ২০০৫-০৬ সালে অনূর্ধ্ব ১৭, ২০০৯ সালে অনূর্ধ্ব ১৯ ও ২০১২ সালে অনূর্ধ্ব ২৩ দলে খেলেছেন তিনি। ২০১৩ সালে সাইফুল বারী টিটুর অধিনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে নেপাল ও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেন তিনি। ৫ফিট ১১ ইঞ্চির এই প্রতিভাবান গোলকিপার এখন পর্যন্ত বিপিএলে ৫টি দলের হয়ে খেলেছেন। ২০০৮-০৯ ,২০১০-১১ও ২০১১-১২ মৌসুমে মুক্তিযোদ্ধা, ২০০৯-১০ মৌসুমে আরামবাগ, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত শেখ জামাল, ২০১৭-১৮ মৌসুমে শেখ রাসেল ও সর্বশেষ ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খেলছেন তিনি।
২০০৮ সালে জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার সাইফুর রহমান মনিরের হাতে ধরে পেশাদার লীগে খেলেন তিনি। বিকেএসপির এই ছাত্র ২০১২ সালে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধার এক নাম্বার কিপার। * বিপিএলে অভিষেকটা অনেক আগেই হলেও তবে এখন পর্যন্ত কিংসের হয়ে অভিষেক হয়নি তার। নিজের যোগ্যতার প্রমান দিয়ে এখন পর্যন্ত পাচঁটি ক্লাবে খেলেছেন তিনি। তাই তো এই অভিজ্ঞ গোলকিপারকে দলে নিতে ভুল করেনি বসুন্ধরা কিংস। ইনজুরির কারনেই বাদ পড়েছিলেন জাতীয় দল থেকে আবারো খেলতে চান বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে।
ছোট বেলা থেকেই বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলে জায়গা করে নিতেন তিনি। এখন আবারও স্বপ্ন দেখেন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলবেন দলের জয়ে অবদান রাখবেন। কিন্তু ইনজুরির কারনে যে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটাতে হয়েছে হাসপাতালের বিছানায় কিংবা বাসায়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তিন দফা হাটুতে অপারেশন করতে হয়েছে তার। জীবনের সোনালি সময়ে ইনজুরির ছোবল। কষ্টটা এখানেই ইনজুরির কারনে চারটি বছর মাঠের বাহিরে থাকতে হয়েছে তাকে। তবে ইনজুরির কাছে হার মানেননি তিনি।
ইনজুরি কাটিয়ে আবারও মাঠে ফিরেছেন তিনি। এমন দৃঢ় মনোবল ধরে রাখলে জাতীয় দলের হয়ে আবারও খেলার স্বপ্নটা যে খুব বেশি দূরে নয় তা বলার অবকাশ রাখে না।
মাকসুদুর রহমান মোস্তাকের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারঃ
১।ফুটবল বেছে নিলেন কেনো ? মোস্তাকঃ ফুটবলটা আমাদের পরিবারের রক্তে মিশে আছে তাই।
২। আপনি গোলকিপার পজিশনটিই কেনো বেছে নিলেন? মোস্তাকঃ কারন আমার দাদা, বাবা ও বড় ভাই গোলকিপার ছিলেন
৩। পরিবার থেকে কেমন সার্পোট পেয়েছেন? মোস্তাকঃ আসলে আমি নিজেই ফুটবল খেলতে চাইতাম না কিন্তু বাবা জোড় করে পাঠাইতো। বলতে গেলে তাদের জন্যেই এতদুর আসা।
৪। কার অনুপ্রেরণায় ফুটবলে আসা? মোস্তাকঃ বাবা ও বড় ভাই
৫। ফুটবল নিয়ে কী স্বপ্ন দেখেন? মোস্তাকঃ আবার যেন জাতীয় দলে ফিরতে পারি
৬। করোনা ভাইরাসের কারনে তো খেলা বন্ধ রয়েছে। ফিটনেস ধরে রাখতে সয়টাকে কিভাবে কাজে লাগাচ্ছেন? মোস্তাকঃ খাওয়া- দাওয়াটা মেনটেইন করছি এবং বাসার মধ্যে যতটুকু পারি অনুশীলন করছি ফিটনেস ধরে রাখার জন্য
৭। কাকে নিজের আইডল মনে করেন ? মোস্তাকঃ বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল ইসলাম
৮। দুই হাটুতে তিনবার অপারেশনের পরেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার কারন? মোস্তাকঃ ফুটবলটা রক্তে মিশে গিয়েছে চাইলেও ছাড়তে পারছি না। আমি শেষটা দেখতে চাই
মাকসুদুর রহমান মোস্তাক ডাক নাম: মোস্তাক বাবা:মোঃ মতি মিয়া মা: রানু আরা বেগম জন্ম: ১৯ অক্টোবর ১৯৯০ জন্মস্থান: আশুগঞ্জ ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চতা: ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি প্রথম ক্লাব: মুক্তিযোদ্ধা পজিশন : গোলরক্ষক প্রিয় ক্রিকেটার: বিরাট কোহলি অন্য প্রিয় খেলা:টেবিল টেনিস প্রিয় ফুটবলার: লিওনেল মেসি প্রিয় ফুটবল দল: আর্জেন্টিনা ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত:২০১২-২০১৩ সাল