মিলন কান্তি সেন। যেদিন এই মানুষটিকে প্রথম দেখেছি তারপর থেকে তাঁর জীর্ণশীর্ণ দেহটি চোখে ভাসে। অদ্য পুলিশ সুপার মহোদয় তাঁর বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। বলেছেন তাকে যেন পর্যাপ্ত সহায়তা করা হয়। তাই অদ্য কাজের মাঝে সময় করে দুপুরে আবারো তাঁর বাড়িতে যাই। বাড়িতে কাহাকেও না দেখে ডাক দেই। ভিতর থেকে ক্ষীণকন্ঠে তাঁর সাড়া পাই। ভিতরে না ঢুকে দরজায় বসে কথা বলি।
জানালেন চার দিন যাবৎ অসুস্থ পাতলা পায়খানা হচ্ছে। উঠে দাঁড়ালে শরীর কাপে, মাথা ঘুরে তাই শুয়ে আছেন। ডাক্তার দেখিয়েছেন কিনা জিজ্ঞাসা করলে জানান ছেলে ফার্মেসি থেকে ঔষধ এনে দিয়েছিল কোন কাজ হয়নি। দুপুরে খেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে জানান ছেলে বউ ভগবান চৌধুরীহাট একটি দর্জি দোকানে সেলাই কাজ করে। যা পায় তা দিয়েই কোন রকমে সংসার চলে। কথার মাঝে জানালেন আলু ভাজি আর গন্ধ বাদালি পাতার বড়া রান্না করা হয়েছে তা দিয়ে দুপুরের খাবার হবে।
জমিদার, বিপুল ধন সম্পত্তির মালিক যাত্রা মোহন সেন এর দৌহিত্র আর ব্যারিস্টার যতীন্দ্রমোহন সেন এর পুত্র, মা যার সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেত্রী নেলী সেনগুপ্ত, বিপুল ঐশ্বর্য্যের মাঝে যার জন্ম তারই দিন কাটে আজ অনাহারে অর্ধাহারে। অর্থাভাবে চিকিৎসা হয় না।
কথায় কথায় জানালেন ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন দেশ মাতৃকার টানে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে। যুদ্ধ করে দেশকে হানাদার মুক্ত করে ফিরে এসে দেখেন তাঁর ভিটেমাটি জায়গা-জমি দখল হয়ে গেছে। যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন কিন্তু দখল হওয়া নিজের ভিটেমাটি আর ফেরত পাননি। তৎকালীন চেয়ারম্যান, মেম্বারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কিন্তু লাভ হয়নি।
পরাধীন দেশে ঐশ্বর্যবান স্বাধীন দেশে সহায়-সম্বলহীন। এমনকি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিও মেলেনি। এভাবে কেটেছে গত ৫০টি বছর। দখলে উন্মত্ত আমরা কখনো ভাবি না সবকিছুরই একটা পরিনাম আছে। উন্মত্ত নেশায় প্রকৃতিকে দখল করেছি। তাই প্রকৃতিও প্রতিশোধ নিচ্ছে।
“করোনাভাইরাস” কি ভয়ংকর মৃত্যু, পরিবার-পরিজনহীন ধুঁকে ধুঁকে মরা। তবু আমরা যদি সতর্ক না হই প্রকৃতি আরো ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ নেবে। “তাই সময় থাকতে সাবধান” । পুনশ্চঃ আজকে আমি তাকে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ কিনে দিয়েছি। পুলিশ সুপার মহোদয়ের সৌজন্যে একমাস চলবে এমন খাদ্য সামগ্রীও দিয়ে এসেছি। (ফেইসবুক থেকে নেয়া)
লেখকঃ অফিসার্স ইনচার্জ, চন্দনাইস থানা, চট্টগ্রাম।