মীর মনিরুজ্জামানের সন্ধানে আমি যখন বরিশাল গোরস্থানে - দৈনিক বরিশাল ২৪ দৈনিক বরিশাল ২৪মীর মনিরুজ্জামানের সন্ধানে আমি যখন বরিশাল গোরস্থানে - দৈনিক বরিশাল ২৪

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১ ১১:০৩ অপরাহ্ণ
A- A A+ Print

মীর মনিরুজ্জামানের সন্ধানে আমি যখন বরিশাল গোরস্থানে

৪৭

সোহেল আহমেদঃহ্যালো সোহেল কেমন আছো ভাইয়া? ভালো ভাইয়া, আপনি কেমন আছেন? এই আছি একরকম আল্লাহ ভালোই রেখেছেন। তোমার মা,ওয়াইফ, বাচ্চাটি ভালো আছে? হাঁ ভাইয়া,সবাই ভালো। তোমার মাকে আমার ছালাম জানিও। জি ভাইয়া। সোহেল তুমি তোমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে বেড়াতে এসো। হাঁ ভাইয়া আসব। আপনি বললেন চট্টগ্রামে আসবেন কই এলেন নাতো। আসব ভাইয়া আসব। এদিকে একটু সুযোগ পেলে আসব। আমার ইচ্ছা আছে,পত্রিকার কাজে সময় পাইনা। তুমি চিন্তা করনা একসময় আসবো। তুমি কিন্তু আমার বাসায় আসতে মোটেও ভুল করবা না। তোমার মাকে আমার ছালাম জানিও,দোয়া করতে বল আমার জন্য।

উপরোক্ত কথাগুলো এক একটি ফোন আলাপ। বরিশালের সাহসী কলম যোদ্ধা অগুনিত সাংবাদিক গড়ার কাড়িগর, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক দৈনিক সত্যসংবাদেরর সম্পাদক জাতীয় দৈনিক আজকের কাগজের বরিশাল প্রতিনিধি সততার উজ্জল দৃস্টান্ত প্রয়াত মীর মনিরুজ্জামান এর সাথে আমার কথোপকথন।

গত ২৯ তারিখ আমি বাড়িতে ঈদের জন্য রওয়ানা দেই। বাসা থেকে বের হবার সাথে সাথেই বুকটা ধরপর করে কাপছে। সঙ্গে আমার মা, ওয়াইফ আর আদরের শিশুটি। কিছুু দুর যাই মনটা অজানা আতংকে ফুসে উঠছে। বাড়িতে যাচ্ছি। সবাই খুশি। মা তার অসুস্থ বোনকে দেখার আকুতি। ওয়াইফ তার বাবা মাকে দেখার জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে। ছোট্ট শিশুটি পৃথিবীর সৃস্টি সব কিছুই দেখে বেশ হাসি খুশি। লঞ্চ ট্রেনে ছাড়াও প্রকৃতির নানা রুপ সৌন্দর্য দেখে আদরের শিশুটি বেশ চঞ্চল। কিন্তু আমি কি করব? আমার বুকে গুরু হারানোর আর্তনাদ। মনে প্রচন্ড প্রশ্নের চাপ। বরিশালের মাটিতে পা রেখে যদি গুরুর সাথে কথাই বলতে না পারি। যদি দেখাই করতে না পারি তবে কেনো আসা?

পথে পথে প্রশাসনের যথেস্ট তৎপরতা লক্ষ করলাম। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের আচরনে আমি কেনো সব যাত্রীরাই মুগধ। জীবনের এতো পথ পারি দিয়েছি নিরাপদে আসতে এবারই দেখলা প্রশাসনের আন্তরিকতা থাকলে এক আল্লাহ ছাড়া কারো সাধ্য নেই যাত্রা পথে ক্ষতি করবে।

গুরুর সাথে দেখা করবো। কিন্তু মনের সাহস হাড়িয়ে গেলো। একাধিকবার শহরে এসে ফিরে গেলাম। যখনই মনেপরে গুরু নেই,তখনই বুক ধরপর করে উঠে। তাই সাহস পাচ্ছি না তার চিরোজীবনেরর জন্য ঘুমিয়ে থাকা স্থানে যাওয়ার। কি করেই বা পাবো? গত বছরেও তার ব্যবসায়িক দোকানে এসে কত কথা বললাম। জিবীকার জন্য আমায় কত কি করতে হবে কতই না দিকনির্দেশনা দিলেন। হাতটি ধরে হেটে গিয়ে পাশের দোকানে চা বিস্কুট খাওয়ালেন। সাথে অন্য পরিচিত কেউ এলে তার কাছে আমায় পরিচয় করিয়ে দিলেন” এই আমার পত্রকার সাংবাদিক। চট্টগ্রামের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে। একটু হতাশাও ব্যক্ত করলেন। বললেন, সবাইতো বড় মাপের সাংবাদিক হয়ে আমায় ছেড়ে চলে গেছে। এই সোহেল আহমেদ এখনো আছে। আর আছে শাহিন সুমন। শাহিনের দারুন প্রশংসা করলেন, পত্রিকাটি শাহিনের নিরোলশ পরিশ্রমের মাধ্যমে এখোনো বের হচ্ছে। চা শেষে আলাপ চারিতার পর বিদায় নিয়ে চলে এলাম। ঈদের দিন অবশ্যই সবাইকে নিয়ে আসব এমন কথা দিয়ে এলাম।

গত বছরের সেই কথা আমি আর রাখতে পারিনি। অথছ গুরু আমায় ঈদের দিন কতবার ফোন দিয়ে স্মরন করিয়ে দিয়েছেন। ভাগ্যে ছিলো না। নাকি আমার অলশতায় ভাগ্য পরিবর্তন হলো আজও সে প্রশ্নের উত্তর খুজে পাইনি।

চলতি মাসের ঈদের দিন। সকালে নামাজ আদায় করলাম। মনটাতো গুরুর কাছে। সবার সাথেই শুভেচ্ছা বিনীময় করলেও কিছুতে মনে প্রশান্তি আনতে পারছিলাম না। বাড়িতে এলেও নানা প্রতিকুলতা ছিলো আমার। কতজনের সাথে কথা বলব। সাক্ষাৎ করব অনেক শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তির সাথে। কিছুই হচ্ছে না। আমার খালাতো ভাই রাসেলকে বললাম চল একটু শহর থেকে ঘুরে আসি। রাসেল রাজি হলো। শহরের প্রানকেন্দ্রে সদর রোডে এসে রাসেল জিজ্ঞেস করলো। কই কোথায় যাবি কিছুইতো বললি না। আমি বললাম সোজা গোরস্তান রোডে চলে যা। আমার সেখানে একটু কাজ আছে। রাসেল মটর সাইকেল চালাতে লাগল। রাসেলের বুজতে আর বাকি নেই,আমি কোথায়, কার উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। রাসেল গুরু মীর মনিরুজ্জামান এবং আমার সাংবাদিকতা জীবন সম্পর্কে পুর্বে থেকেই অবগত। গুরুর মৃত্যুর পর আমার এটিই যে প্রথম আসা এটা রাসেল জানতে পারল।

আমি যখন গোরস্তান রোডের মুল ফটকে। বুকটা হাহাকার করছে। জীবনের কোনো দিন এখানে প্রবেশ করি নি। আজ এমন একজনের জন্য প্রবেশ করছি যার বিন্দুমাত্র কল্পনাও করিনি। রাসেল আমার দিকে তাকিয়ে করুন সুরে জানতে চাইল গুরুর কবরটি কোন জায়গায় তাকি আমি জানি? আমি না বললাম। ও বলল এতো কবরের ভিতরে কিভাবে খুজে পাবি? গোরস্তানের চারপাশে চোখ বুলিয়ে বুজলাম সত্যিই ঠিকানাবিহীন খুজে পাওয়া যাবে না। গুরুর বাসার একটি নম্বরে ফোন দিলাম। কেউ ধরল না। একাধিকবার ফোন দিচ্ছি আর হাজারো কবরের মাঝে গুরুর কবরটি খুজতেছি। জিয়ারত করতে আসা কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলাম কেউই নির্দস্ট করে বলতে পারছে না। রাসেল আমার গুরুর কবরের সন্ধান দেখে কিছু বললনা। বাহিরে জের হয়ে গেলো। কল দিলাম গুরুর আর এক শিষ্যকে। সেও ফোন ধরল না। এরকম মাসুদ রানা,পারভেজ হাসান রাসেল,মীর মাফী,বায়েজীদ,শাহিন সুমন কে একের পর এক ফোন দিলাম। এর মধ্যে ঘন্টা কেটে গেছে আমার সন্ধানে।

ডানে বামে সামনে পেছনে শুধুই ঘুমিয়ে থাকা মানুষের অবস্থান। রাসেল কিছুটা বিরোক্ত হলো। তারপরেও আমায় শান্তনা দিয়ে বলল আজ চল,পরে ঠিকানা নিয়ে আবার আসব। আমি রাসেলে কথার জবাব না দিয়ে শাহীন সুমনকে আবারো কল দিলাম। জীবনের এতোটা সময় চলে গিয়েছে কোথাও ব্যার্থ হয়নি। শুধু লক্ষ্য পৌছাতে সময় লেগেছে মাত্র। আজ যদি গুরুর দেখা না পাই সেটাই হয়ত বড় ব্যার্থতা। শাহিন সুমন ফোন ধরল। ঠিকানা না নিয়ে কেনো গেলাম জানতে চাইলো। আমি এড়িয়ে গিয়ে বললাম শুধু একটু নির্দশনা দিন। আমি খুজে পাবো। শাহিন সুমন আমায় সুন্দর করে একটি লোকেশন দিলো। তারপরেও সন্দেহ করল পাবো কি পাবো না।

শাহিনের ফোন কেটে দিয়ে রাসেল কে বললাম চল আমরা বের হই। রাসেল মনে করল আমরা মনে হয় রিটার্ন চলে আসব। আমি বললাম মাদ্রাসার গেট দিয়ে এবার আবার প্রবেশ করব। শাহিনের লোকেশন অনুযায়ী আমার ছুটে চলার গতি আরা হার্ডবিড অনেকখানি বেরে গেছে। রাসেলও আমার পিছনে আসতে লাগল।

তারপর অামার গতি বন্ধ। বামে চেয়ে দেখি একজনের পরেই আমার হ্রদয়ের সেই মহান পুরুষের কবর। একটি নেইমপ্লেটে লেখা। খোদার এই কি পরীক্ষা? ঘুমিয়ে আছেন মীর মনিরুজ্জামান। এ ঘুমতো আর ভাঙবে না। নিস্তব্দ আমি। দাড়িয়ে থাকার পর একটু বসে গুরুর জন্য যতটুকু জানি দোয়া পাঠ করতে শুরু করলাম।
রাসেল আমার আগেই দোয়া পড়তে লাগল। রাসেল আমার চেয়ে অনেক জানলেওয়ালা। আরবিতে ওর বিশেষ জ্ঞান। আমি আল্লাহর কাছে গুরুর জন্য জান্নাত দাবি করলাম।

গুরুর কাছে অনেক সময় দিলাম। গুরুর জন্য কত প্রার্থনা করলাম। সবই আমি। গুরু তো আর আমায় বলতে পারলেন না সোহেল তুমি এসেছো? সোহেল তোমার মা কেমন আছেন? সোহেল তোমার মাকে আমার ছালাম দিও,আমার জন্য দোয়া করতে বল।

গুরু না পারলেও মাকে আমি ঠিকই বলেছি। মা গুরুর জন্য করো। এ আমার গুরু নয়, বরিশালে একজন সোহেল আহমেদ এর প্রতিষ্টিত হওয়ার মহানায়ক। এতো শুধু আমার গুরু নয়,একটি পিতৃহীন একটি অবহেলিত বালকের পিতাসমতুল্য ব্যক্তিত্ব। এ তো শুধু গুরু নয়,সমাজের নানা অন্যায়,অনাচারের প্রতিবাদি কন্ঠস্বর। ভালো থেকো মীর মনিরুজ্জামান। দেখা হবে আবার এ জনমে নয়,পরপারে।
ক্ষমা করে দিয়ো আমায়,
যতটুকু করেছি ভুল ভ্রান্তি অন্যথায়
কাছে নয়,তোমার অগচরে।
ভালো থেকো, তোমার আত্বার শান্তি কামনায়,,,,,,,,,,,,

সোহেল আহমেদ, সাংবাদিক,  দৈনিক বরিশাল ২৪.কম।

দৈনিক বরিশাল ২৪

মীর মনিরুজ্জামানের সন্ধানে আমি যখন বরিশাল গোরস্থানে

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১ ১১:০৩ অপরাহ্ণ
৪৭

সোহেল আহমেদঃহ্যালো সোহেল কেমন আছো ভাইয়া? ভালো ভাইয়া, আপনি কেমন আছেন? এই আছি একরকম আল্লাহ ভালোই রেখেছেন। তোমার মা,ওয়াইফ, বাচ্চাটি ভালো আছে? হাঁ ভাইয়া,সবাই ভালো। তোমার মাকে আমার ছালাম জানিও। জি ভাইয়া। সোহেল তুমি তোমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে বেড়াতে এসো। হাঁ ভাইয়া আসব। আপনি বললেন চট্টগ্রামে আসবেন কই এলেন নাতো। আসব ভাইয়া আসব। এদিকে একটু সুযোগ পেলে আসব। আমার ইচ্ছা আছে,পত্রিকার কাজে সময় পাইনা। তুমি চিন্তা করনা একসময় আসবো। তুমি কিন্তু আমার বাসায় আসতে মোটেও ভুল করবা না। তোমার মাকে আমার ছালাম জানিও,দোয়া করতে বল আমার জন্য।

উপরোক্ত কথাগুলো এক একটি ফোন আলাপ। বরিশালের সাহসী কলম যোদ্ধা অগুনিত সাংবাদিক গড়ার কাড়িগর, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক দৈনিক সত্যসংবাদেরর সম্পাদক জাতীয় দৈনিক আজকের কাগজের বরিশাল প্রতিনিধি সততার উজ্জল দৃস্টান্ত প্রয়াত মীর মনিরুজ্জামান এর সাথে আমার কথোপকথন।

গত ২৯ তারিখ আমি বাড়িতে ঈদের জন্য রওয়ানা দেই। বাসা থেকে বের হবার সাথে সাথেই বুকটা ধরপর করে কাপছে। সঙ্গে আমার মা, ওয়াইফ আর আদরের শিশুটি। কিছুু দুর যাই মনটা অজানা আতংকে ফুসে উঠছে। বাড়িতে যাচ্ছি। সবাই খুশি। মা তার অসুস্থ বোনকে দেখার আকুতি। ওয়াইফ তার বাবা মাকে দেখার জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে। ছোট্ট শিশুটি পৃথিবীর সৃস্টি সব কিছুই দেখে বেশ হাসি খুশি। লঞ্চ ট্রেনে ছাড়াও প্রকৃতির নানা রুপ সৌন্দর্য দেখে আদরের শিশুটি বেশ চঞ্চল। কিন্তু আমি কি করব? আমার বুকে গুরু হারানোর আর্তনাদ। মনে প্রচন্ড প্রশ্নের চাপ। বরিশালের মাটিতে পা রেখে যদি গুরুর সাথে কথাই বলতে না পারি। যদি দেখাই করতে না পারি তবে কেনো আসা?

পথে পথে প্রশাসনের যথেস্ট তৎপরতা লক্ষ করলাম। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের আচরনে আমি কেনো সব যাত্রীরাই মুগধ। জীবনের এতো পথ পারি দিয়েছি নিরাপদে আসতে এবারই দেখলা প্রশাসনের আন্তরিকতা থাকলে এক আল্লাহ ছাড়া কারো সাধ্য নেই যাত্রা পথে ক্ষতি করবে।

গুরুর সাথে দেখা করবো। কিন্তু মনের সাহস হাড়িয়ে গেলো। একাধিকবার শহরে এসে ফিরে গেলাম। যখনই মনেপরে গুরু নেই,তখনই বুক ধরপর করে উঠে। তাই সাহস পাচ্ছি না তার চিরোজীবনেরর জন্য ঘুমিয়ে থাকা স্থানে যাওয়ার। কি করেই বা পাবো? গত বছরেও তার ব্যবসায়িক দোকানে এসে কত কথা বললাম। জিবীকার জন্য আমায় কত কি করতে হবে কতই না দিকনির্দেশনা দিলেন। হাতটি ধরে হেটে গিয়ে পাশের দোকানে চা বিস্কুট খাওয়ালেন। সাথে অন্য পরিচিত কেউ এলে তার কাছে আমায় পরিচয় করিয়ে দিলেন” এই আমার পত্রকার সাংবাদিক। চট্টগ্রামের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে। একটু হতাশাও ব্যক্ত করলেন। বললেন, সবাইতো বড় মাপের সাংবাদিক হয়ে আমায় ছেড়ে চলে গেছে। এই সোহেল আহমেদ এখনো আছে। আর আছে শাহিন সুমন। শাহিনের দারুন প্রশংসা করলেন, পত্রিকাটি শাহিনের নিরোলশ পরিশ্রমের মাধ্যমে এখোনো বের হচ্ছে। চা শেষে আলাপ চারিতার পর বিদায় নিয়ে চলে এলাম। ঈদের দিন অবশ্যই সবাইকে নিয়ে আসব এমন কথা দিয়ে এলাম।

গত বছরের সেই কথা আমি আর রাখতে পারিনি। অথছ গুরু আমায় ঈদের দিন কতবার ফোন দিয়ে স্মরন করিয়ে দিয়েছেন। ভাগ্যে ছিলো না। নাকি আমার অলশতায় ভাগ্য পরিবর্তন হলো আজও সে প্রশ্নের উত্তর খুজে পাইনি।

চলতি মাসের ঈদের দিন। সকালে নামাজ আদায় করলাম। মনটাতো গুরুর কাছে। সবার সাথেই শুভেচ্ছা বিনীময় করলেও কিছুতে মনে প্রশান্তি আনতে পারছিলাম না। বাড়িতে এলেও নানা প্রতিকুলতা ছিলো আমার। কতজনের সাথে কথা বলব। সাক্ষাৎ করব অনেক শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তির সাথে। কিছুই হচ্ছে না। আমার খালাতো ভাই রাসেলকে বললাম চল একটু শহর থেকে ঘুরে আসি। রাসেল রাজি হলো। শহরের প্রানকেন্দ্রে সদর রোডে এসে রাসেল জিজ্ঞেস করলো। কই কোথায় যাবি কিছুইতো বললি না। আমি বললাম সোজা গোরস্তান রোডে চলে যা। আমার সেখানে একটু কাজ আছে। রাসেল মটর সাইকেল চালাতে লাগল। রাসেলের বুজতে আর বাকি নেই,আমি কোথায়, কার উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। রাসেল গুরু মীর মনিরুজ্জামান এবং আমার সাংবাদিকতা জীবন সম্পর্কে পুর্বে থেকেই অবগত। গুরুর মৃত্যুর পর আমার এটিই যে প্রথম আসা এটা রাসেল জানতে পারল।

আমি যখন গোরস্তান রোডের মুল ফটকে। বুকটা হাহাকার করছে। জীবনের কোনো দিন এখানে প্রবেশ করি নি। আজ এমন একজনের জন্য প্রবেশ করছি যার বিন্দুমাত্র কল্পনাও করিনি। রাসেল আমার দিকে তাকিয়ে করুন সুরে জানতে চাইল গুরুর কবরটি কোন জায়গায় তাকি আমি জানি? আমি না বললাম। ও বলল এতো কবরের ভিতরে কিভাবে খুজে পাবি? গোরস্তানের চারপাশে চোখ বুলিয়ে বুজলাম সত্যিই ঠিকানাবিহীন খুজে পাওয়া যাবে না। গুরুর বাসার একটি নম্বরে ফোন দিলাম। কেউ ধরল না। একাধিকবার ফোন দিচ্ছি আর হাজারো কবরের মাঝে গুরুর কবরটি খুজতেছি। জিয়ারত করতে আসা কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলাম কেউই নির্দস্ট করে বলতে পারছে না। রাসেল আমার গুরুর কবরের সন্ধান দেখে কিছু বললনা। বাহিরে জের হয়ে গেলো। কল দিলাম গুরুর আর এক শিষ্যকে। সেও ফোন ধরল না। এরকম মাসুদ রানা,পারভেজ হাসান রাসেল,মীর মাফী,বায়েজীদ,শাহিন সুমন কে একের পর এক ফোন দিলাম। এর মধ্যে ঘন্টা কেটে গেছে আমার সন্ধানে।

ডানে বামে সামনে পেছনে শুধুই ঘুমিয়ে থাকা মানুষের অবস্থান। রাসেল কিছুটা বিরোক্ত হলো। তারপরেও আমায় শান্তনা দিয়ে বলল আজ চল,পরে ঠিকানা নিয়ে আবার আসব। আমি রাসেলে কথার জবাব না দিয়ে শাহীন সুমনকে আবারো কল দিলাম। জীবনের এতোটা সময় চলে গিয়েছে কোথাও ব্যার্থ হয়নি। শুধু লক্ষ্য পৌছাতে সময় লেগেছে মাত্র। আজ যদি গুরুর দেখা না পাই সেটাই হয়ত বড় ব্যার্থতা। শাহিন সুমন ফোন ধরল। ঠিকানা না নিয়ে কেনো গেলাম জানতে চাইলো। আমি এড়িয়ে গিয়ে বললাম শুধু একটু নির্দশনা দিন। আমি খুজে পাবো। শাহিন সুমন আমায় সুন্দর করে একটি লোকেশন দিলো। তারপরেও সন্দেহ করল পাবো কি পাবো না।

শাহিনের ফোন কেটে দিয়ে রাসেল কে বললাম চল আমরা বের হই। রাসেল মনে করল আমরা মনে হয় রিটার্ন চলে আসব। আমি বললাম মাদ্রাসার গেট দিয়ে এবার আবার প্রবেশ করব। শাহিনের লোকেশন অনুযায়ী আমার ছুটে চলার গতি আরা হার্ডবিড অনেকখানি বেরে গেছে। রাসেলও আমার পিছনে আসতে লাগল।

তারপর অামার গতি বন্ধ। বামে চেয়ে দেখি একজনের পরেই আমার হ্রদয়ের সেই মহান পুরুষের কবর। একটি নেইমপ্লেটে লেখা। খোদার এই কি পরীক্ষা? ঘুমিয়ে আছেন মীর মনিরুজ্জামান। এ ঘুমতো আর ভাঙবে না। নিস্তব্দ আমি। দাড়িয়ে থাকার পর একটু বসে গুরুর জন্য যতটুকু জানি দোয়া পাঠ করতে শুরু করলাম।
রাসেল আমার আগেই দোয়া পড়তে লাগল। রাসেল আমার চেয়ে অনেক জানলেওয়ালা। আরবিতে ওর বিশেষ জ্ঞান। আমি আল্লাহর কাছে গুরুর জন্য জান্নাত দাবি করলাম।

গুরুর কাছে অনেক সময় দিলাম। গুরুর জন্য কত প্রার্থনা করলাম। সবই আমি। গুরু তো আর আমায় বলতে পারলেন না সোহেল তুমি এসেছো? সোহেল তোমার মা কেমন আছেন? সোহেল তোমার মাকে আমার ছালাম দিও,আমার জন্য দোয়া করতে বল।

গুরু না পারলেও মাকে আমি ঠিকই বলেছি। মা গুরুর জন্য করো। এ আমার গুরু নয়, বরিশালে একজন সোহেল আহমেদ এর প্রতিষ্টিত হওয়ার মহানায়ক। এতো শুধু আমার গুরু নয়,একটি পিতৃহীন একটি অবহেলিত বালকের পিতাসমতুল্য ব্যক্তিত্ব। এ তো শুধু গুরু নয়,সমাজের নানা অন্যায়,অনাচারের প্রতিবাদি কন্ঠস্বর। ভালো থেকো মীর মনিরুজ্জামান। দেখা হবে আবার এ জনমে নয়,পরপারে।
ক্ষমা করে দিয়ো আমায়,
যতটুকু করেছি ভুল ভ্রান্তি অন্যথায়
কাছে নয়,তোমার অগচরে।
ভালো থেকো, তোমার আত্বার শান্তি কামনায়,,,,,,,,,,,,

সোহেল আহমেদ, সাংবাদিক,  দৈনিক বরিশাল ২৪.কম।

প্রকাশক: মোসাম্মাৎ মনোয়ারা বেগম। সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা। সম্পাদক : শামিম আহমেদ যুগ্ন-সম্পাদক : মো:মনিরুজ্জামান। প্রধান উপদেষ্টা: মোসাম্মৎ তাহমিনা খান বার্তা সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম ।
প্রধান কার্যালয় : রশিদ প্লাজা,৪র্থ তলা,সদর রোড,বরিশাল।
সম্পাদক: 01711970223 বার্তা বিভাগ: 01764- 631157
ইমেল: sohelahamed2447@gmail.com
  বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ডিআইজি আবু রায়হান সালেহ্   পাঁচ দেশি মাছে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে বেশি কই মাছে   গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় এগিয়ে চলছে দেশ-তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী   চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত   জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান   গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুখবর দিলো কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন   চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ   বরিশালে আস্থার নাম সমাজসেবার মানবিক মুখ সাজ্জাদ পারভেজ   জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী   ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ, দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন   বরিশালে বিস্ফোরণ: চিপসের প্যাকেটের আড়ালে ‘বুবি ট্র্যাপ’   নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন নিষিদ্ধ   ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ   আর্থিক সংকটে সাংবাদিক কাজী জাহিদ, বাবার জীবন বাঁচাতে চাইলেন সহযোগিতা   প্রবাসফেরত অসুস্থ জামালকে রাস্তার পা‌শে ফেলে গেল স্ত্রী-সন্তান   ১৩০ বছর বয়সী মায়ের খেয়াল রাখেন ১০০ বছরের মেয়ে!   ১৫ বছর পরও ভুলে যাননি ১০০ টাকার দেনা, ছুটে এলেন শোধ করতে   সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি কাল   সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে: বরিশালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী   ১০ গোলের ম্যাচেও জিততে পারলো ফ্রান্স, তৃতীয় ইংল্যান্ড