যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের মৃত প্রায় শতবর্ষী রেইনট্রি গাছগুলো মরণফাঁদ!
ফারুক হাসান, বেনাপোল প্রতিনিধি: ঘ‚র্ণিঝড় আম্পান’র পর যশোর রোডের শতবর্ষী রেইনট্রি গাছগুলো আরও ঝুঁকিপ‚র্ণ হয়ে পড়েছে। ভয়াবহ এই ঝড়ে যশোর- বেনাপোল মহাসড়কের নাভারন অংশে জীর্ণ ও মৃতপ্রায় ২৩টি শতবর্ষী গাছ উপড়ে ও ভেঙে পড়েছে। শতবর্শী জীবন হানিকর জীর্ণ মৃতপ্রায় রেইনট্রি গাছ গুলোকেটে ফেলার দাবিতে আজ মঙ্গলবার সকালে নাভারন বাজারে মানববন্ধনকরেছে যশোর নাগরিক অধিকার আন্দোলন।
এর আগে শার্শা উপজেলাচেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জুর বাড়িতে একটি গাছ ভেঙে পড়ে একজনমারা যান। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিহতের পরিবারকে সমবেদনা জানাতেগেলেও সেদিন কোনো পরিবেশবাদি সেখানে যাননি।
বেনাপোল বন্দরেরউন্নয়ন ও মহাসড়ক প্রশস্তকরণের জন্য তিনি জীর্ণ ও মৃতপ্রায় গাছগুলোঅপসারণের দাবি জানান। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে গিয়ে দেখা গেল বহু
গাছ ভেঙে মাটিতে শুয়ে আছে। কিছু গাছ ডালপালা খুইয়ে কঙ্কালেরমতো দাঁড়িয়ে আছে।
স্থানীয়দের দাবি, যশোর- বেনাপোল সড়কের শতবর্ষী এই গাছগুলো এখন‘জীর্ণ ও মৃতপ্রায়’। ঘ‚র্ণিঝড় আম্পান’র তাÐবের পর বেশকিছু গাছউপড়ে ও ভেঙে পড়লেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবগাছই। আর এতে শতবর্ষীগাছগুলো হয়ে পড়েছে আরও ঝুঁকিপ‚র্ণ।
একারণে গত বুধবারেরকালবৈশাখী ঝড়ে অনেক স্থানেই এই গাছগুলোর ডালপালা ভেঙে পড়েছে।দুর্বল হয়ে পড়া গাছগুলো আসন্ন ঝড়ে আরও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারেবলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর। এসব নিয়ে আতঙ্কিতও তারা।
যশোর জেলা পরিষদ স‚ত্রে জানা গেছে, ঐতিহাসিক যশোর রোডের যশোর-বেনাপোল অংশের ৩৮ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে দুই শতাধিক শতবর্ষীরেইনট্রি গাছ রয়েছে। গত ২০ মে রাতে ঘ‚র্ণিঝড় আম্পান’র তাÐবে এইমহাসড়কের ২৩টি শতবর্ষী রেইনট্রি গাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে। ভেঙেপড়া গাছগুলো, ঝিকরগাছার হাজের আলী, বালিখোলা, গদখালি, বেনেয়ালি,নাভারণ ও শার্শা বাজার এলাকার।
এছাড়াও অসংখ্য গাছের ডালপালা ভেঙেদুর্ঘটনা ও সম্পদহানির ঘটনা ঘটেছে। গাছ পড়ে নাভারণ বাজারের ৫টিদোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরদিন প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস’র তৎপরতায়গাছের কিছু অংশ সরিয়ে সড়ক চলাচলের আংশিক উপযোগী করা হয়।
এদিকে, নাগরিক অধিকার আন্দোলন, যশোরের সমন্বয়ক মাসুদুজ্জামানমিঠু জানিয়েছেন, আম্পান ও ঘ‚র্ণিঝড়ে যশোর-বেনাপোল সড়কেতেইশটি গাছ উপড়ে পড়ে জনগণের জানমাল ও নবনির্মিত রাস্তার ব্যাপকক্ষতিসাধন করেছে। যশোর-বেনাপোল সড়কের জীর্ণশীর্ণ মৃতপ্রায়গাছগুলো বর্তমানে ‘হিউম্যান থ্রেড’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোর প্রথম থেকে বেনাপোল বন্দর ওঅর্থনৈতিক অঞ্চল বিবেচনায় উন্নত সড়কের কথা বলে আসছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না হলে অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি হবে না এবং এলাকারমানুষের কর্মের যে আপার সম্ভাবনা তা নষ্ট হবে।যশোর-বেনাপোল সড়কের জীর্ণশীর্ণ মৃতপ্রায় গাছগুলো অপসারণ করে টেকসই সড়ক তৈরি করার উপর জোর দাবি জানান।












