৪০০ কুমির রপ্তানি করবে বাংলাদেশ - দৈনিক বরিশাল ২৪ দৈনিক বরিশাল ২৪৪০০ কুমির রপ্তানি করবে বাংলাদেশ - দৈনিক বরিশাল ২৪

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৪, ২০২০ ২:২৮ অপরাহ্ণ
A- A A+ Print

৪০০ কুমির রপ্তানি করবে বাংলাদেশ

৮৮
অনলাইন নিউজ: ৪০০ কুমির রপ্তানি করবে বাংলাদেশ। এসব কুমির যাবে মালয়েশিয়ায়। রপ্তানি করে এক বছরে এক খামার থেকে আয় হবে প্রায় আড়াই শ কোটি টাকা। দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম কুমিরের খামারটি পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলায়। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম মৌজার ২৫ একর পাহাড়ি জমিতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ খামার গড়ে তোলে ২০০৮ সালে। বাণিজ্যিকভাবে সেখানে কুমিরের চাষ শুরু হয় ২০১০ সালে। কুমিরের এ খামারটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কাছাকাছি ঘুমধুম পাহাড়ি এলাকার তুমব্রু গ্রামে অবস্থিত। এ গ্রামটি মিয়ানমার সীমান্তের একেবারে কাছে। খামারের পাহাড় থেকে দেখা যায় মিয়ানমারও। বর্তমানে ওই খামারে কাজ করছেন দুজন প্রকল্প কর্মকর্তার অধীনে ২০ জন কর্মচারী। আসছে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এ ওয়াইল্ড লাইফ ফার্ম থেকে ৪ শতাধিক কুমির মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হতে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উপপরিচালক রবীন্দ্র ঘোষ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কুমির রপ্তানি আশার আলো দেখাচ্ছে। এ খাত এগিয়ে নিতে কাজ করছে সরকার।

২০১০ সালের আগস্টে অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে ৫০টি অস্ট্রেলীয় প্রজাতির কুমির আনা হয়। এর একেকটির দাম পড়ে ৩ লাখ টাকা। পরে নাইক্ষ্যংছড়ির ওই খামারের উন্মুক্ত জলাশয়ে সেগুলো ছাড়া হয়। এর মধ্যে মারা যায় ৪টি কুমির। ৪৬টি সুস্থ কুমিরের মধ্যে পরে স্ত্রী কুমিরের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১ ও পুরুষ ১৫-তে। সেই ৪৬টি কুমির থেকে নাইক্ষ্যংছড়ির ওয়াইল্ড লাইফ ফার্মে বর্তমানে বাচ্চাসহ ছোট-বড় কুমিরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪০০-তে। খামারে উন্মুক্ত জলাশয় ও খাঁচার ভিতর- দুই ভাবেই কুমির রাখা হয়েছে। প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, এসব কুমির প্রায় ১০০ বছর বাঁচে। প্রাপ্তবয়স্ক হতে একেকটি কুমিরের লাগে ৮ থেকে ১২ বছর। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তারা হাঁস-মুরগির মতো ডিম দেয়। তবে কুমিরের ডিমের আকৃতি রাজহাঁসের মতো বড়। এরা ডিম দেয় সাধারণত বর্ষাকালে। ২০ থেকে ৮০টি করে ডিম দেয় একেকটি প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী কুমির। ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৮০ থেকে ৮৬ দিনেই ডিম থেকে কুমিরছানারা চোখ ফুটে বের হয়। এ খামারে কুমিরের বাচ্চা ফোটানো হয় ইনকিউবেটরে। ডিম ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই বাচ্চাদের সংগ্রহ করে আরেকটি ইনকিউবেটরে রাখা হয়। কারণ বাচ্চাগুলোর নাভি থেকে কুসুম ছাড়তে লাগে ৭২ ঘণ্টা। এরপর শিশু কুমিরদের নার্সারিতে নিয়ে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয়। জন্মের সময় একটি কুমির প্রায় ১২ ইঞ্চি লম্বা হয়। দুই বছর বয়স হওয়ার পর বাচ্চা কুমিরগুলোকে আকারভেদে পুকুরে স্থানান্তর করা হয়। রপ্তানির জন্য তৈরি এসব কুমির গড়ে ৫ ফুট লম্বা। এগুলোর ওজন ২০ থেকে ২৫ কেজি। চামড়া ছাড়াও কুমিরের প্রতি কেজি মাংস ৩০ ডলারে বিক্রি হয় বিদেশে। ১২ ডলারে বিক্রি হয় ১ বর্গ সেন্টিমিটার চামড়া। কুমির রপ্তানি থেকে বছরে কমপক্ষে আড়াই শ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। কুমিরের চামড়া বেশ দামি। এ চামড়া দিয়ে ব্যাগ, জুতাসহ অনেক দামি জিনিস তৈরি করা হয়। এ ছাড়া কুমিরের মাংস, হাড়, দাঁতও দামি। কুমিরের হাড় থেকে তৈরি হয় পারফিউম, দাঁত থেকে গয়না, পায়ের থাবা থেকে চাবির রিং। কুমিরের মাংসও বেশ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। তাই দেশে ও বিদেশে চাহিদা অনেক। এক কথায়, কুমিরের কোনো কিছুই ফেলনা নয়। কুমিরকে বলা হয় গোল্ড আয়রন অর্থাৎ সোনালি লোহা। দেশের একমাত্র সরকারি কুমির প্রজনন কেন্দ্র বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের করমজল। ২০০০ সালে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র শুরু হওয়ার পর সেখানে কুমির প্রথম ডিম দেয় ২০০৫ সালে। এখন পর্যন্ত করমজলে বিভিন্ন সময় ২৯২টি কুমিরের ছানা জন্ম নিয়েছে।সূত্র: বিডি প্রতিদিন।

দৈনিক বরিশাল ২৪

৪০০ কুমির রপ্তানি করবে বাংলাদেশ

শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২০ ২:২৮ অপরাহ্ণ
৮৮
অনলাইন নিউজ: ৪০০ কুমির রপ্তানি করবে বাংলাদেশ। এসব কুমির যাবে মালয়েশিয়ায়। রপ্তানি করে এক বছরে এক খামার থেকে আয় হবে প্রায় আড়াই শ কোটি টাকা। দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম কুমিরের খামারটি পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলায়। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম মৌজার ২৫ একর পাহাড়ি জমিতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ খামার গড়ে তোলে ২০০৮ সালে। বাণিজ্যিকভাবে সেখানে কুমিরের চাষ শুরু হয় ২০১০ সালে। কুমিরের এ খামারটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কাছাকাছি ঘুমধুম পাহাড়ি এলাকার তুমব্রু গ্রামে অবস্থিত। এ গ্রামটি মিয়ানমার সীমান্তের একেবারে কাছে। খামারের পাহাড় থেকে দেখা যায় মিয়ানমারও। বর্তমানে ওই খামারে কাজ করছেন দুজন প্রকল্প কর্মকর্তার অধীনে ২০ জন কর্মচারী। আসছে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এ ওয়াইল্ড লাইফ ফার্ম থেকে ৪ শতাধিক কুমির মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হতে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উপপরিচালক রবীন্দ্র ঘোষ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কুমির রপ্তানি আশার আলো দেখাচ্ছে। এ খাত এগিয়ে নিতে কাজ করছে সরকার।

২০১০ সালের আগস্টে অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে ৫০টি অস্ট্রেলীয় প্রজাতির কুমির আনা হয়। এর একেকটির দাম পড়ে ৩ লাখ টাকা। পরে নাইক্ষ্যংছড়ির ওই খামারের উন্মুক্ত জলাশয়ে সেগুলো ছাড়া হয়। এর মধ্যে মারা যায় ৪টি কুমির। ৪৬টি সুস্থ কুমিরের মধ্যে পরে স্ত্রী কুমিরের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১ ও পুরুষ ১৫-তে। সেই ৪৬টি কুমির থেকে নাইক্ষ্যংছড়ির ওয়াইল্ড লাইফ ফার্মে বর্তমানে বাচ্চাসহ ছোট-বড় কুমিরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪০০-তে। খামারে উন্মুক্ত জলাশয় ও খাঁচার ভিতর- দুই ভাবেই কুমির রাখা হয়েছে। প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, এসব কুমির প্রায় ১০০ বছর বাঁচে। প্রাপ্তবয়স্ক হতে একেকটি কুমিরের লাগে ৮ থেকে ১২ বছর। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তারা হাঁস-মুরগির মতো ডিম দেয়। তবে কুমিরের ডিমের আকৃতি রাজহাঁসের মতো বড়। এরা ডিম দেয় সাধারণত বর্ষাকালে। ২০ থেকে ৮০টি করে ডিম দেয় একেকটি প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী কুমির। ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৮০ থেকে ৮৬ দিনেই ডিম থেকে কুমিরছানারা চোখ ফুটে বের হয়। এ খামারে কুমিরের বাচ্চা ফোটানো হয় ইনকিউবেটরে। ডিম ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই বাচ্চাদের সংগ্রহ করে আরেকটি ইনকিউবেটরে রাখা হয়। কারণ বাচ্চাগুলোর নাভি থেকে কুসুম ছাড়তে লাগে ৭২ ঘণ্টা। এরপর শিশু কুমিরদের নার্সারিতে নিয়ে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয়। জন্মের সময় একটি কুমির প্রায় ১২ ইঞ্চি লম্বা হয়। দুই বছর বয়স হওয়ার পর বাচ্চা কুমিরগুলোকে আকারভেদে পুকুরে স্থানান্তর করা হয়। রপ্তানির জন্য তৈরি এসব কুমির গড়ে ৫ ফুট লম্বা। এগুলোর ওজন ২০ থেকে ২৫ কেজি। চামড়া ছাড়াও কুমিরের প্রতি কেজি মাংস ৩০ ডলারে বিক্রি হয় বিদেশে। ১২ ডলারে বিক্রি হয় ১ বর্গ সেন্টিমিটার চামড়া। কুমির রপ্তানি থেকে বছরে কমপক্ষে আড়াই শ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। কুমিরের চামড়া বেশ দামি। এ চামড়া দিয়ে ব্যাগ, জুতাসহ অনেক দামি জিনিস তৈরি করা হয়। এ ছাড়া কুমিরের মাংস, হাড়, দাঁতও দামি। কুমিরের হাড় থেকে তৈরি হয় পারফিউম, দাঁত থেকে গয়না, পায়ের থাবা থেকে চাবির রিং। কুমিরের মাংসও বেশ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। তাই দেশে ও বিদেশে চাহিদা অনেক। এক কথায়, কুমিরের কোনো কিছুই ফেলনা নয়। কুমিরকে বলা হয় গোল্ড আয়রন অর্থাৎ সোনালি লোহা। দেশের একমাত্র সরকারি কুমির প্রজনন কেন্দ্র বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের করমজল। ২০০০ সালে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র শুরু হওয়ার পর সেখানে কুমির প্রথম ডিম দেয় ২০০৫ সালে। এখন পর্যন্ত করমজলে বিভিন্ন সময় ২৯২টি কুমিরের ছানা জন্ম নিয়েছে।সূত্র: বিডি প্রতিদিন।

প্রকাশক: মোসাম্মাৎ মনোয়ারা বেগম। সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা। সম্পাদক : শামিম আহমেদ যুগ্ন-সম্পাদক : মো:মনিরুজ্জামান। প্রধান উপদেষ্টা: মোসাম্মৎ তাহমিনা খান বার্তা সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম ।
প্রধান কার্যালয় : রশিদ প্লাজা,৪র্থ তলা,সদর রোড,বরিশাল।
সম্পাদক: 01711970223 বার্তা বিভাগ: 01764- 631157
ইমেল: sohelahamed2447@gmail.com
  বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনই শিক্ষার্থীরা পাবে নতুন বই: শিক্ষামন্ত্রী   বরিশালে যুবদলের উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসুচি অনুষ্ঠিত   বরিশালে বাসচাপায় কাতার প্রবাসী নিহত   বর্ণিল আয়োজনে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত   ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু   ‘এই জার্সিটাই ছিল আমার জীবন, এত ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ’   কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে রাজনীতিবীদদের ইতিবাচক ভুমিকা জরুরী   বরিশালে শ্রমিকদল নেতা রাজ্জাক সরদার আর নেই, শোকে স্তব্ধ ২নং কাশিপুর   রোহিঙ্গাদের চিরকাল বাস্তুচ্যুত রাখতে চায় না বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী   বাঁশির সুরে তুমুল জনপ্রিয় শেখ সোলায়মান এবার নিয়ে এলেন ‘মানব জীবন’   বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ডিআইজি আবু রায়হান সালেহ্   পাঁচ দেশি মাছে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে বেশি কই মাছে   গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় এগিয়ে চলছে দেশ-তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী   চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত   জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান   গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুখবর দিলো কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন   চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ   বরিশালে আস্থার নাম সমাজসেবার মানবিক মুখ সাজ্জাদ পারভেজ   জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী   ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ, দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন