বরিশালে আস্থার নাম সমাজসেবার মানবিক মুখ সাজ্জাদ পারভেজ
বিশেষ প্রতিবেদক : সরকারি চাকরি অনেকেই করেন। কিন্তু দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম। বরিশালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ সেই ব্যতিক্রমী মানুষদের একজন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অসহায়, দুস্থ ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন।
সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বরিশাল-এর অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে সাজ্জাদ পারভেজকে। তার এই পদায়নের খবর প্রকাশের পর সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক মহলে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে তিনি সমাজসেবা অঙ্গনে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ সহকারী পরিচালক হিসেবে সম্মাননাও অর্জন করেছেন।সরকারি দায়িত্বের বাইরেও মানবিক উদ্যোগ
সাজ্জাদ পারভেজের সহকর্মীরা জানান, সমাজসেবা অফিসে সহযোগিতা চাইতে এসে তার কাছ থেকে নিরাশ হয়ে ফিরে গেছেন—এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। সরকারি নীতিমালার কারণে কোনো ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা দেওয়া সম্ভব না হলে, অনেক সময় তিনি নিজের ব্যক্তিগত অর্থ দিয়েও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
বরিশালের বিভিন্ন হতদরিদ্র পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তায় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রেই এসব সহযোগিতা হয়েছে নীরবে, প্রচারের বাইরে।সমাজসেবাকে দেখেন মানবিক দায়িত্ব হিসেবে
১৯৯৭ সালে বরিশাল সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন সাজ্জাদ পারভেজ। এরপর দীর্ঘ সময় বরিশাল জেলা সমাজসেবা অফিসের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সুনামের সঙ্গে।
সহকর্মীদের মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। সাংবাদিকদের প্রতিও তিনি সহযোগিতাপরায়ণ ও ইতিবাচক মনোভাবের জন্য পরিচিত।বন্ধুদের সঙ্গে মানবিক উদ্যোগ
সরকারি সহায়তার বাইরে ব্যক্তিগতভাবেও সামাজিক উদ্যোগ পরিচালনা করে আসছেন সাজ্জাদ পারভেজ। তিনি এসএসসি ১৯৮৪ ব্যাচের বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন ‘৮৪ ইভেন্ট’ নামে একটি সামাজিক উদ্যোগ। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অসহায়, অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা হয়।
বন্ধুদের ভাষ্য, যেখানেই কোনো অসহায় মানুষের খবর পান, সেখানেই সহযোগিতার চেষ্টা করেন সাজ্জাদ পারভেজ।
নতুন দায়িত্ব নিয়ে প্রত্যাশা
সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বরিশালের অধ্যক্ষ হিসেবে তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণকে সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখছেন।তাদের প্রত্যাশা, তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং মানবিক নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে এবং সমাজসেবা খাতের মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।
একটি ছোট সহায়তা, বড় মানবিকতা
সাজ্জাদ পারভেজের মানবিকতার মতোই সমাজে আরও অনেক নীরব মানবিক গল্প রয়েছে। এমনই একটি ঘটনার কথা জানালেন তার এক পরিচিত ব্যক্তি।
প্রতিদিন ভোরে একটি পত্রিকা বাসায় পৌঁছে দিতে আসতেন এক সংবাদপত্র পরিবেশক। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি জানান, পুরোনো মোটরসাইকেল চালাতে প্রতিদিন অতিরিক্ত খরচ ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাই তিনি একটি নতুন সাইকেল কিনতে চান। নিজের সঞ্চয় ছিল ৩ হাজার টাকা, কিন্তু আরও ৬ হাজার টাকার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছিল না। স্ত্রী অনার্সে অধ্যয়নরত এবং দুই ছেলে স্কুলে পড়ায় সংসারের ব্যয় সামলে অতিরিক্ত অর্থ জোগাড় করা তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিল।
তার প্রয়োজন বিবেচনায় একটি দূরন্ত সাইকেল কিনে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সহায়তাটি পাওয়ার পর তিনি জানান, নতুন সাইকেল তার কর্মজীবনকে অনেক সহজ করে দেবে।মানবিকতার বার্তা
সাজ্জাদ পারভেজের বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা মনে করেন, সমাজে যদি আরও বেশি মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সামাজিক বৈষম্য অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
তাদের ভাষায়, মানবিকতা কেবল একটি শব্দ নয়—এটি দায়িত্ববোধের একটি বাস্তব প্রয়োগ। আর সেই প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবেই দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত হয়ে উঠেছেন সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ।













