ইসলামী অর্থনীতিতে চাষাবাদের ভূমিকা - দৈনিক বরিশাল ২৪ দৈনিক বরিশাল ২৪ইসলামী অর্থনীতিতে চাষাবাদের ভূমিকা - দৈনিক বরিশাল ২৪

প্রকাশিতঃ আগস্ট ০৫, ২০২৬ ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
A- A A+ Print

ইসলামী অর্থনীতিতে চাষাবাদের ভূমিকা

৩৭
অনলাইন ডেস্ক: মানবসভ্যতার সূচনা থেকেই কৃষি মানুষের জীবন, জীবিকা ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। খাদ্য, বস্ত্র, পশুখাদ্য, ঔষধি উদ্ভিদ—মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকাংশ উপকরণের উৎসই কৃষি।

তাই ইসলাম কৃষিকে শুধু একটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখেনি; বরং একে ইবাদত, মানবকল্যাণ এবং আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক মহৎ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেছে। পবিত্র কোরআনে কৃষিজমি, বৃষ্টি, বীজ, ফসল, ফলমূল, বাগান ও বৃক্ষরাজির কথা বারবার উল্লেখ করে মানুষকে চিন্তা, গবেষণা এবং আল্লাহর অসীম কুদরতের নিদর্শন উপলব্ধি করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি হলো বৈধ উপার্জন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ। কৃষি এ তিনটি লক্ষ্যই বাস্তবায়ন করে।

একজন কৃষক যখন জমি চাষ করেন, বীজ বপন করেন এবং মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করেন, তখন তিনি শুধু নিজের জীবিকা অর্জন করেন না; বরং সমগ্র সমাজের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও অবদান রাখেন। এ কারণেই ইসলামে কৃষিকাজকে অত্যন্ত সম্মানজনক পেশা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দিয়ে আমি সব ধরনের উদ্ভিদ উৎপন্ন করি।

তারপর তা থেকে সবুজ ফসল নির্গত করি, যা থেকে ঘন শস্যদানা উৎপাদন করি। আর খেজুরগাছের মাথি থেকে ঝুলন্ত কাঁদি বের করি এবং আঙুরের বাগান, জলপাই (জয়তুন) ও আনার সৃষ্টি করি—যেগুলো কিছু ক্ষেত্রে পরস্পর সদৃশ আবার কিছু ক্ষেত্রে বিসদৃশ। তোমরা এর ফলের দিকে লক্ষ্য করো, যখন তা ফলবান হয় এবং যখন তা পরিপক্ব হয়। নিশ্চয়ই এতে ঈমানদারদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৯৯)এই আয়াত আমাদের শেখায় যে কৃষির প্রকৃত স্রষ্টা মানুষ নয়; বরং মহান আল্লাহ।

কৃষক জমি চাষ করেন, বীজ বপন করেন, সেচ দেন এবং পরিচর্যা করেন; কিন্তু একটি নিষ্প্রাণ বীজকে জীবন্ত অঙ্কুরে পরিণত করা, তাকে বৃক্ষে রূপ দেওয়া এবং ফলে-ফুলে সুশোভিত করা একমাত্র আল্লাহরই কুদরত। মানুষের কাজ কেবল উপায় অবলম্বন করা; ফল দান করেন আল্লাহ। এ কারণেই কোরআন মানুষকে আত্মম্ভরিতা থেকে বিরত রেখে প্রশ্ন করেছে, ‘তোমরা কি ওই বীজগুলো দেখো না, যা তোমরা মাটিতে বপন করো? সেগুলো থেকে তোমরা ফসল উৎপন্ন করো, না আমি উৎপন্ন করি?’ (সুরা : ওয়াকিয়া, আয়াত : ৬৩–৬৪)কোরআনের এই প্রশ্ন মানুষের অন্তরে তাওহিদের চেতনা জাগিয়ে তোলে। কৃষিকাজের প্রতিটি ধাপ মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়—সৃষ্টির মালিক, জীবনদাতা এবং রিজিকদাতা একমাত্র আল্লাহ।

কোরআন শুধু কৃষির কথা বলেনি; বরং কৃষিকে আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করেছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক। আমিই প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করি। তারপর আমি ভূমিকে বিদীর্ণ করি। অতঃপর আমি তাতে উৎপন্ন করি শস্য, আঙুর, শাকসবজি, জলপাই, খেজুর, ঘন বৃক্ষবিশিষ্ট উদ্যান, বিভিন্ন ফল এবং তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর জন্য খাদ্য।’ (সুরা : আবাসা, আয়াত : ২৪–৩২)

এই আয়াতগুলো ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শনেরও ভিত্তি। কারণ মানুষের খাদ্য, পশুর খাদ্য এবং সমাজের জীবনধারণের প্রধান উপকরণ কৃষির মাধ্যমেই আসে। তাই কৃষি কেবল একটি পেশা নয়; এটি মানবসভ্যতার স্থায়িত্বের অন্যতম স্তম্ভ। আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য তা (বৃষ্টি) দ্বারা উৎপন্ন করেন শস্য, জলপাই, খেজুরগাছ, আঙুর এবং সব ধরনের ফল। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১১)

বৃষ্টি, মাটি ও বীজের সমন্বয়ে ফসলের উৎপাদন মানুষের কাছে একটি স্বাভাবিক ঘটনা মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি মহান আল্লাহর অসীম রহমতের প্রকাশ। তাই কৃষি মানুষকে কৃতজ্ঞতা, ধৈর্য ও তাওয়াক্কুলের শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহ মৃত জমিনকে জীবন্ত করে তোলার দৃশ্যের মাধ্যমে পুনরুত্থানের বাস্তবতাও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘তুমি ভূমিকে শুষ্ক দেখবে। অতঃপর আমি যখন তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয় এবং উদ্গত করে সব ধরনের নয়নাভিরাম উদ্ভিদ।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৫)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘আমি আকাশ থেকে কল্যাণকর বৃষ্টি বর্ষণ করি। অতঃপর তা দিয়ে বাগান, পরিপক্ব শস্যরাজি এবং সুউচ্চ খেজুরগাছ উৎপন্ন করি—যার মধ্যে রয়েছে গুচ্ছ গুচ্ছ ফল। এগুলো আমার বান্দাদের জীবিকার জন্য। আর এ পানি দ্বারা আমি মৃত ভূমিকে জীবিত করি। এভাবেই পুনরুত্থান ঘটবে।’ (সুরা : ক্বাফ, আয়াত : ৯–১১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) কৃষিকাজকে সদকায়ে জারিয়ার মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যদি একটি গাছ রোপণ করে অথবা কোনো ফসল ফলায়, অতঃপর তা থেকে মানুষ, পাখি কিংবা কোনো প্রাণী আহার করে, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৩২০)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার মুহূর্তেও তোমাদের কারো হাতে একটি চারা থাকে এবং তা রোপণের সুযোগ থাকে, তবে সে যেন তা রোপণ করে।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ১২৯০২)

এই হাদিস ইসলামের উৎপাদনমুখী মানসিকতা, আশাবাদ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের অনন্য শিক্ষা বহন করে। পৃথিবীর শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও উৎপাদন ও কল্যাণমূলক কাজ অব্যাহত রাখার নির্দেশ ইসলামের অর্থনৈতিক চিন্তার গভীরতা প্রকাশ করে।

ইসলামী অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব বহুমাত্রিক। কৃষি মানুষের জন্য হালাল জীবিকার উৎস, জাতীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি, খাদ্যনিরাপত্তার ভিত্তি, কর্মসংস্থানের অন্যতম ক্ষেত্র এবং দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যকর মাধ্যম। একই সঙ্গে কৃষির মাধ্যমে জাকাত, সদকা ও সামাজিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও প্রসারিত হয়। কৃষিভিত্তিক উৎপাদন বাড়লে সমাজে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকে, খাদ্যসংকট কমে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হয়।

ইসলাম অপচয়, জমি অনাবাদি রাখা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অবহেলাকে নিরুৎসাহিত করেছে। বরং জমিকে আবাদ করা, বৃক্ষরোপণ, পানির সঠিক ব্যবহার এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকে উৎসাহিত করেছে। ফলে ইসলামী অর্থনীতিতে কৃষি শুধু উৎপাদনের মাধ্যম নয়; বরং এটি নৈতিকতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার এক সমন্বিত ব্যবস্থা।

দৈনিক বরিশাল ২৪

ইসলামী অর্থনীতিতে চাষাবাদের ভূমিকা

বুধবার, আগস্ট ৫, ২০২৬ ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
৩৭
অনলাইন ডেস্ক: মানবসভ্যতার সূচনা থেকেই কৃষি মানুষের জীবন, জীবিকা ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। খাদ্য, বস্ত্র, পশুখাদ্য, ঔষধি উদ্ভিদ—মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকাংশ উপকরণের উৎসই কৃষি।

তাই ইসলাম কৃষিকে শুধু একটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখেনি; বরং একে ইবাদত, মানবকল্যাণ এবং আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক মহৎ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেছে। পবিত্র কোরআনে কৃষিজমি, বৃষ্টি, বীজ, ফসল, ফলমূল, বাগান ও বৃক্ষরাজির কথা বারবার উল্লেখ করে মানুষকে চিন্তা, গবেষণা এবং আল্লাহর অসীম কুদরতের নিদর্শন উপলব্ধি করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি হলো বৈধ উপার্জন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ। কৃষি এ তিনটি লক্ষ্যই বাস্তবায়ন করে।

একজন কৃষক যখন জমি চাষ করেন, বীজ বপন করেন এবং মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করেন, তখন তিনি শুধু নিজের জীবিকা অর্জন করেন না; বরং সমগ্র সমাজের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও অবদান রাখেন। এ কারণেই ইসলামে কৃষিকাজকে অত্যন্ত সম্মানজনক পেশা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দিয়ে আমি সব ধরনের উদ্ভিদ উৎপন্ন করি।

তারপর তা থেকে সবুজ ফসল নির্গত করি, যা থেকে ঘন শস্যদানা উৎপাদন করি। আর খেজুরগাছের মাথি থেকে ঝুলন্ত কাঁদি বের করি এবং আঙুরের বাগান, জলপাই (জয়তুন) ও আনার সৃষ্টি করি—যেগুলো কিছু ক্ষেত্রে পরস্পর সদৃশ আবার কিছু ক্ষেত্রে বিসদৃশ। তোমরা এর ফলের দিকে লক্ষ্য করো, যখন তা ফলবান হয় এবং যখন তা পরিপক্ব হয়। নিশ্চয়ই এতে ঈমানদারদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৯৯)এই আয়াত আমাদের শেখায় যে কৃষির প্রকৃত স্রষ্টা মানুষ নয়; বরং মহান আল্লাহ।

কৃষক জমি চাষ করেন, বীজ বপন করেন, সেচ দেন এবং পরিচর্যা করেন; কিন্তু একটি নিষ্প্রাণ বীজকে জীবন্ত অঙ্কুরে পরিণত করা, তাকে বৃক্ষে রূপ দেওয়া এবং ফলে-ফুলে সুশোভিত করা একমাত্র আল্লাহরই কুদরত। মানুষের কাজ কেবল উপায় অবলম্বন করা; ফল দান করেন আল্লাহ। এ কারণেই কোরআন মানুষকে আত্মম্ভরিতা থেকে বিরত রেখে প্রশ্ন করেছে, ‘তোমরা কি ওই বীজগুলো দেখো না, যা তোমরা মাটিতে বপন করো? সেগুলো থেকে তোমরা ফসল উৎপন্ন করো, না আমি উৎপন্ন করি?’ (সুরা : ওয়াকিয়া, আয়াত : ৬৩–৬৪)কোরআনের এই প্রশ্ন মানুষের অন্তরে তাওহিদের চেতনা জাগিয়ে তোলে। কৃষিকাজের প্রতিটি ধাপ মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়—সৃষ্টির মালিক, জীবনদাতা এবং রিজিকদাতা একমাত্র আল্লাহ।

কোরআন শুধু কৃষির কথা বলেনি; বরং কৃষিকে আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করেছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক। আমিই প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করি। তারপর আমি ভূমিকে বিদীর্ণ করি। অতঃপর আমি তাতে উৎপন্ন করি শস্য, আঙুর, শাকসবজি, জলপাই, খেজুর, ঘন বৃক্ষবিশিষ্ট উদ্যান, বিভিন্ন ফল এবং তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর জন্য খাদ্য।’ (সুরা : আবাসা, আয়াত : ২৪–৩২)

এই আয়াতগুলো ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শনেরও ভিত্তি। কারণ মানুষের খাদ্য, পশুর খাদ্য এবং সমাজের জীবনধারণের প্রধান উপকরণ কৃষির মাধ্যমেই আসে। তাই কৃষি কেবল একটি পেশা নয়; এটি মানবসভ্যতার স্থায়িত্বের অন্যতম স্তম্ভ। আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য তা (বৃষ্টি) দ্বারা উৎপন্ন করেন শস্য, জলপাই, খেজুরগাছ, আঙুর এবং সব ধরনের ফল। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১১)

বৃষ্টি, মাটি ও বীজের সমন্বয়ে ফসলের উৎপাদন মানুষের কাছে একটি স্বাভাবিক ঘটনা মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি মহান আল্লাহর অসীম রহমতের প্রকাশ। তাই কৃষি মানুষকে কৃতজ্ঞতা, ধৈর্য ও তাওয়াক্কুলের শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহ মৃত জমিনকে জীবন্ত করে তোলার দৃশ্যের মাধ্যমে পুনরুত্থানের বাস্তবতাও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘তুমি ভূমিকে শুষ্ক দেখবে। অতঃপর আমি যখন তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয় এবং উদ্গত করে সব ধরনের নয়নাভিরাম উদ্ভিদ।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৫)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘আমি আকাশ থেকে কল্যাণকর বৃষ্টি বর্ষণ করি। অতঃপর তা দিয়ে বাগান, পরিপক্ব শস্যরাজি এবং সুউচ্চ খেজুরগাছ উৎপন্ন করি—যার মধ্যে রয়েছে গুচ্ছ গুচ্ছ ফল। এগুলো আমার বান্দাদের জীবিকার জন্য। আর এ পানি দ্বারা আমি মৃত ভূমিকে জীবিত করি। এভাবেই পুনরুত্থান ঘটবে।’ (সুরা : ক্বাফ, আয়াত : ৯–১১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) কৃষিকাজকে সদকায়ে জারিয়ার মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যদি একটি গাছ রোপণ করে অথবা কোনো ফসল ফলায়, অতঃপর তা থেকে মানুষ, পাখি কিংবা কোনো প্রাণী আহার করে, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৩২০)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার মুহূর্তেও তোমাদের কারো হাতে একটি চারা থাকে এবং তা রোপণের সুযোগ থাকে, তবে সে যেন তা রোপণ করে।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ১২৯০২)

এই হাদিস ইসলামের উৎপাদনমুখী মানসিকতা, আশাবাদ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের অনন্য শিক্ষা বহন করে। পৃথিবীর শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও উৎপাদন ও কল্যাণমূলক কাজ অব্যাহত রাখার নির্দেশ ইসলামের অর্থনৈতিক চিন্তার গভীরতা প্রকাশ করে।

ইসলামী অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব বহুমাত্রিক। কৃষি মানুষের জন্য হালাল জীবিকার উৎস, জাতীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি, খাদ্যনিরাপত্তার ভিত্তি, কর্মসংস্থানের অন্যতম ক্ষেত্র এবং দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যকর মাধ্যম। একই সঙ্গে কৃষির মাধ্যমে জাকাত, সদকা ও সামাজিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও প্রসারিত হয়। কৃষিভিত্তিক উৎপাদন বাড়লে সমাজে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকে, খাদ্যসংকট কমে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হয়।

ইসলাম অপচয়, জমি অনাবাদি রাখা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অবহেলাকে নিরুৎসাহিত করেছে। বরং জমিকে আবাদ করা, বৃক্ষরোপণ, পানির সঠিক ব্যবহার এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকে উৎসাহিত করেছে। ফলে ইসলামী অর্থনীতিতে কৃষি শুধু উৎপাদনের মাধ্যম নয়; বরং এটি নৈতিকতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার এক সমন্বিত ব্যবস্থা।

প্রকাশক: মোসাম্মাৎ মনোয়ারা বেগম। সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা। সম্পাদক : শামিম আহমেদ যুগ্ন-সম্পাদক : মো:মনিরুজ্জামান। প্রধান উপদেষ্টা: মোসাম্মৎ তাহমিনা খান বার্তা সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম ।
প্রধান কার্যালয় : রশিদ প্লাজা,৪র্থ তলা,সদর রোড,বরিশাল।
সম্পাদক: 01711970223 বার্তা বিভাগ: 01764- 631157
ইমেল: sohelahamed2447@gmail.com
  গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় এগিয়ে চলছে দেশ-তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী   চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত   জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান   গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুখবর দিলো কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন   চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ   বরিশালে আস্থার নাম সমাজসেবার মানবিক মুখ সাজ্জাদ পারভেজ   জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী   ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ, দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন   বরিশালে বিস্ফোরণ: চিপসের প্যাকেটের আড়ালে ‘বুবি ট্র্যাপ’   নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন নিষিদ্ধ   ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ   আর্থিক সংকটে সাংবাদিক কাজী জাহিদ, বাবার জীবন বাঁচাতে চাইলেন সহযোগিতা   প্রবাসফেরত অসুস্থ জামালকে রাস্তার পা‌শে ফেলে গেল স্ত্রী-সন্তান   ১৩০ বছর বয়সী মায়ের খেয়াল রাখেন ১০০ বছরের মেয়ে!   ১৫ বছর পরও ভুলে যাননি ১০০ টাকার দেনা, ছুটে এলেন শোধ করতে   সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি কাল   সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে: বরিশালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী   ১০ গোলের ম্যাচেও জিততে পারলো ফ্রান্স, তৃতীয় ইংল্যান্ড   শিক্ষার মানোন্নয়নে পি.আর.সি ইনষ্টিটিউশনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত   বরিশালকে বঞ্চিত রেখে দেশের সুষম উন্নয়ন হবে না: জামায়াত আমির