নড়াইলের ভ্যান চালক মায়ের সন্তান এখন পুলিশ কনস্টেবল - দৈনিক বরিশাল ২৪ দৈনিক বরিশাল ২৪নড়াইলের ভ্যান চালক মায়ের সন্তান এখন পুলিশ কনস্টেবল - দৈনিক বরিশাল ২৪

প্রকাশিতঃ জুলাই ১০, ২০১৯ ১:৩৩ অপরাহ্ণ
A- A A+ Print

নড়াইলের ভ্যান চালক মায়ের সন্তান এখন পুলিশ কনস্টেবল

১৯

অনলাইন নিউজ: একবুক আশা নিয়ে নড়াইল পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে অপেক্ষমান চাকরিপ্রার্থী তরুণ-তরুণীরা নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর পরই আনন্দে কেঁদে ফেললেন।

নির্বাচিতদের মধ্যে পিতৃহীন হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে সাকিবুর রহমানের কাছে এ চাকরি যেন পৃথিবীটাই হাতের মুঠোয় পাওয়ার মতো ঘটনা। এছাড়া সুপ্তিকণাসহ অনেকেরই অনুভূতি এমনটাই।

জেলা সদরের বরাশুলা গ্রামের প্রয়াত সেকেন্দার আলীর ছেলে কনস্টেবল পদে চাকরিপ্রাপ্ত সাকিবুর রহমানের মা সাবিনা ইয়াসমিন ভ্যান চালিয়ে বাড়ি বাড়ি এবং হাটবাজারে সবজি বিক্রি করে তিন সন্তানসহ চার সদস্যের সংসার চালান। সাকিবুর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

অন্য দুই ভাইবোনের মধ্যে একজন দ্বাদশ শ্রেণিতে, অপরজন সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন। সরকারি জমিতে খুপরি ঘরে তাদের বসবাস। ভ্যানচালক বাবা সেকেন্দার আলী প্রায় তিন বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এরপর তাদের পরিবারের সদস্যরা খেয়ে না-খেয়ে বেঁচে আছেন। সেই থেকে অসহায় পরিবারটির হাল ধরেন মা সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি ভ্যানে করে ফেরি করে সবজি বিক্রি করে যে আয় করতেন, সামান্য টাকায় চলত তার সংসার। চরম অনটনের মধ্যেও লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন সাকিবুর।

পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাওয়ার পর চোখে আনন্দ অশ্রু নিয়ে সাকিবুর জানান, ‘আমাদের খুব অভাব-অনটনের সংসার। এভাবে যে চাকরিটা পাবো, কল্পনাই করিনি।

কোনো প্রকার ঘুষ ও তদবির ছাড়াই কনস্টেবল পদে চাকরি পাওয়ার কথা জানালেন সাকিবুর।

তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার ‘ফি’ বাবদ ব্যাংকে ট্রেজারি চালানের ১০০ টাকা ব্যতীত একটি টাকাও কোথাও খরচ করতে হয়নি।

শুধু সাকিবুর নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছেন সুপ্তিকণা বিশ্বাসও। সে নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ বাজারে রুটির দোকানি সমির বিশ্বাসের মেয়ে। তার বাড়ি সদর পৌরসভার বেতবাড়িয়া গ্রামে।

সুপ্তিকণা বিশ্বাস জানান, ‘বাবার নিকট থেকে টাকা নিয়ে ট্রেজারি চালান ফরম সংগ্রহ করে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি খাতে ১০০ টাকা জমা করি। এর পর গত ২৯ জুন শারীরিক পরীক্ষার দিনে পুলিশ লাইনসে গিয়ে দাঁড়িয়ে প্রথম স্তরে সফলতা পাই।

‘এরপর লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা শেষে আমি চাকরির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হই। আমার ইচ্ছে ছিল পুলিশে চাকরি করবো, সেটি পূরণ হয়েছে। যেভাবে স্বচ্ছ পদ্ধতির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, এজন্য পুলিশ বিভাগের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

এছাড়া মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এবার নড়াইল জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পেলেন ২০ জন। এর মধ্যে ৬ জন নারী ও ১৪ জন পুরুষ নির্বাচিত হয়েছেন।

গত ২৯ জুন থেকে নড়াইলে কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গত ৪ জুলাই সমাপ্ত হওয়া বাছাইপর্বে টিকে থাকা ৬২৪ জনের মধ্যে অবশেষে ২০ জন চাকরি পেলেন।

নির্বাচিতদের মধ্যে নড়াইল সদরের শিমুলিয়া গ্রামের ফাতেমা, মাইজপাড়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের হাসিবুল ইসলাম হাসিব, লোহাগড়া উপজেলার ছত্রহাজারী গ্রামের আনিয়া খাতুন, মঙ্গলহাটার মাহফুজ শেখসহ অনেক গরিব পরিবারের যোগ্য ও মেধাবী ছেলে-মেয়ের চাকরি হয়েছে।

ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচিত ২০ জন ও তাদের অভিভাবকদের ফুলেল শুভেচ্ছা এবং মিষ্টিমুখ করান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

ফলাফল ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন, খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম, নড়াইলের পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি নাহিদা আক্তার চৌধুরী সুমিসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

সুত্র:যুগান্তর

দৈনিক বরিশাল ২৪

নড়াইলের ভ্যান চালক মায়ের সন্তান এখন পুলিশ কনস্টেবল

বুধবার, জুলাই ১০, ২০১৯ ১:৩৩ অপরাহ্ণ
১৯

অনলাইন নিউজ: একবুক আশা নিয়ে নড়াইল পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে অপেক্ষমান চাকরিপ্রার্থী তরুণ-তরুণীরা নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর পরই আনন্দে কেঁদে ফেললেন।

নির্বাচিতদের মধ্যে পিতৃহীন হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে সাকিবুর রহমানের কাছে এ চাকরি যেন পৃথিবীটাই হাতের মুঠোয় পাওয়ার মতো ঘটনা। এছাড়া সুপ্তিকণাসহ অনেকেরই অনুভূতি এমনটাই।

জেলা সদরের বরাশুলা গ্রামের প্রয়াত সেকেন্দার আলীর ছেলে কনস্টেবল পদে চাকরিপ্রাপ্ত সাকিবুর রহমানের মা সাবিনা ইয়াসমিন ভ্যান চালিয়ে বাড়ি বাড়ি এবং হাটবাজারে সবজি বিক্রি করে তিন সন্তানসহ চার সদস্যের সংসার চালান। সাকিবুর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

অন্য দুই ভাইবোনের মধ্যে একজন দ্বাদশ শ্রেণিতে, অপরজন সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন। সরকারি জমিতে খুপরি ঘরে তাদের বসবাস। ভ্যানচালক বাবা সেকেন্দার আলী প্রায় তিন বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এরপর তাদের পরিবারের সদস্যরা খেয়ে না-খেয়ে বেঁচে আছেন। সেই থেকে অসহায় পরিবারটির হাল ধরেন মা সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি ভ্যানে করে ফেরি করে সবজি বিক্রি করে যে আয় করতেন, সামান্য টাকায় চলত তার সংসার। চরম অনটনের মধ্যেও লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন সাকিবুর।

পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাওয়ার পর চোখে আনন্দ অশ্রু নিয়ে সাকিবুর জানান, ‘আমাদের খুব অভাব-অনটনের সংসার। এভাবে যে চাকরিটা পাবো, কল্পনাই করিনি।

কোনো প্রকার ঘুষ ও তদবির ছাড়াই কনস্টেবল পদে চাকরি পাওয়ার কথা জানালেন সাকিবুর।

তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার ‘ফি’ বাবদ ব্যাংকে ট্রেজারি চালানের ১০০ টাকা ব্যতীত একটি টাকাও কোথাও খরচ করতে হয়নি।

শুধু সাকিবুর নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছেন সুপ্তিকণা বিশ্বাসও। সে নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ বাজারে রুটির দোকানি সমির বিশ্বাসের মেয়ে। তার বাড়ি সদর পৌরসভার বেতবাড়িয়া গ্রামে।

সুপ্তিকণা বিশ্বাস জানান, ‘বাবার নিকট থেকে টাকা নিয়ে ট্রেজারি চালান ফরম সংগ্রহ করে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি খাতে ১০০ টাকা জমা করি। এর পর গত ২৯ জুন শারীরিক পরীক্ষার দিনে পুলিশ লাইনসে গিয়ে দাঁড়িয়ে প্রথম স্তরে সফলতা পাই।

‘এরপর লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা শেষে আমি চাকরির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হই। আমার ইচ্ছে ছিল পুলিশে চাকরি করবো, সেটি পূরণ হয়েছে। যেভাবে স্বচ্ছ পদ্ধতির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, এজন্য পুলিশ বিভাগের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

এছাড়া মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এবার নড়াইল জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পেলেন ২০ জন। এর মধ্যে ৬ জন নারী ও ১৪ জন পুরুষ নির্বাচিত হয়েছেন।

গত ২৯ জুন থেকে নড়াইলে কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গত ৪ জুলাই সমাপ্ত হওয়া বাছাইপর্বে টিকে থাকা ৬২৪ জনের মধ্যে অবশেষে ২০ জন চাকরি পেলেন।

নির্বাচিতদের মধ্যে নড়াইল সদরের শিমুলিয়া গ্রামের ফাতেমা, মাইজপাড়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের হাসিবুল ইসলাম হাসিব, লোহাগড়া উপজেলার ছত্রহাজারী গ্রামের আনিয়া খাতুন, মঙ্গলহাটার মাহফুজ শেখসহ অনেক গরিব পরিবারের যোগ্য ও মেধাবী ছেলে-মেয়ের চাকরি হয়েছে।

ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচিত ২০ জন ও তাদের অভিভাবকদের ফুলেল শুভেচ্ছা এবং মিষ্টিমুখ করান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

ফলাফল ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন, খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম, নড়াইলের পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি নাহিদা আক্তার চৌধুরী সুমিসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

সুত্র:যুগান্তর

প্রকাশক: মোসাম্মাৎ মনোয়ারা বেগম। সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা। সম্পাদক : শামিম আহমেদ যুগ্ন-সম্পাদক : মো:মনিরুজ্জামান। প্রধান উপদেষ্টা: মোসাম্মৎ তাহমিনা খান বার্তা সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম ।
প্রধান কার্যালয় : রশিদ প্লাজা,৪র্থ তলা,সদর রোড,বরিশাল।
সম্পাদক: 01711970223 বার্তা বিভাগ: 01764- 631157
ইমেল: sohelahamed2447@gmail.com
  ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের আগেই বস্তিবাসীর মোবাইলে পৌঁছে গেল টাকা   ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান   আজ নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান   জনগণের অধিকার হরণ হলে প্রতিরোধ করব: বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান   দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত বোর্ড পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী   জুলাই কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, পুলিশও রাজপথে ছিল: আইজিপি   বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হতে আলোচনায় বিএনপির ১০ নেতা!   বাবুগঞ্জে প্রগতি মানবকল্যান ট্রাস্টের উদ্যোগে শতাধিক পরিবারে আর্থিক সহায়তা প্রদান   সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা   দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, উদ্বেগের কারণ নেই : জ্বালানিমন্ত্রী   ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান   খামেনিকে হত্যায় ‘ব্লু স্প্যারো’ মিসাইল ছুড়েছিল ইসরায়েল   সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘অলটারনেটিভস’র কমিটি ঘোষণা   ২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ   বাগেরহাটে খাদে পড়ল হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বিয়ের বাস, উদ্ধার করলেন মসজিদের মুসল্লিরা   দক্ষিণাঞ্চলে বিস্তৃত প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সুন্দরবন   সম্মিলিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক পরিষদের পক্ষকাল ব্যাপী সহীহ কোরআন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন   বরিশাল বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় তসলিম উদ্দিন, দাবি জোড়ালো হচ্ছে তৃণমূলে    রাষ্ট্রের মালিক জনগণ; আমরা তাদের সেবক মাত্র: চট্টগ্রামে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী   প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের মানবন্টন দেখুন