পরীক্ষার লম্বা ছুটিতে ভালোই নাদুসনুদুস হয়ে ছিলাম
মেহেদী মেহবুবঃ “সে বছর আমি পরীক্ষার রেজাল্ট প্রত্যাশী। বেশিদিন আগের কথা নয়, ২৬ জুন, ২০০৮ সাল, আমাদের সময় বিকাল ৫ টার পরে রেজাল্ট পাওয়া যেত। যাইহোক পরীক্ষার পরে লম্বা একটা ছুটিতে ভালোই নাদুসনুদুস হয়েছিলাম।
দীর্ঘ তিনমাস ক্রিকেট, ফুটবল অন্যান্য খেলাধুলাসহ মাছধরা, নদীতে সাঁতার কাটাসহ দুরন্তপনা করে বেরিয়েছি। রেজাল্টের ৩/৪ দিন আগে নাওয়া খাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কেন জানি, খুব ভয় ভয় লাগছিল। সেটা ছিল, ফেল করার ভয়। যদি ফেল করে বসি….
রেজাল্টের দিন বিকাল ৫ টার অনেক আগেই স্কুলে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকলাম। উপজেলা অফিস থেকে অনেক পরে কোন স্যার ( মনে পড়ছে না) যেন রেজাল্ট আনলেন।। সহকারী প্রধান শিক্ষক আঃ লতিফ স্যার রেজাল্ট ঘোষনা করা শুরু করলেন…
আমরা সবাই চাতক পাখির মত কান খাড়া করে শুনছিলাম। একটা সময় স্যার আমার রোল/রেজাল্ট ঘোষনা করলেন। আলহামদুলিল্লাহ। আমি খুশি হয়েছিলাম।
সাথে সাথে যেন একটা বিশাল বোঝা মাথার উপর দিয়ে নেমে গেল। নিজেকে হালকা মনে হল। সবার প্রথম খুশির সংবাদ টা আমি মা কে শুনিয়ে ছিলাম। মা খুব খুশি হয়ে ছিল।
বিজ্ঞানে খুব কম নম্বর পেয়েছিলাম। যার কারনে জিপিএ ৪.৮৮ নিয়ে আমাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। যদিও সেই অপূর্ণতা টুকু কলেজে/ইন্টারমিডিয়েটে ঘুঁচিয়েছি। জিপিএ- ৫.০০ পেয়েছিলাম।
বরাবরের মত আজও আমি বিজ্ঞানে দুর্বল। কেন জানি মাথায় ঢোকে না, ঢুকলেও মষ্তিকের নিউরন ছিঁড়ে বের হয়ে যায়! পরবর্তীতে অবশ্য সাহিত্য পড়ে জীবনের রসদ জুগিয়েছিলাম।
ভালো লাগার মায়াজালে বন্ধি হয়েছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ সাহিত্য, ইংরেজি সাহিত্য। তাঁকে খুব ভালোবেসেছিলাম, যেমনি ভালোবাসি আমার মা, মাটি ও মাতৃরত্ন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে।
আজ যারা রেজাল্ট পেলে সবার জন্য শুভ কামনা। মনে রাখবে, জিপিএ-৫ জীবনে সবকিছু না, ভালো মানুষ হতে হবে। দেশ, এখনও ভালো মানুষের খুব অভাব বোধ করছে।
সত্যিই সেদিনের অনূভূতি ছিল অসধারন। এখন কেবলই স্মৃতি। প্রতিবছর রেজাল্টের দিন এলেই মনে পড়ে…
লেখকঃ মেহেদী মেহেবুব, কবি, সাহিত্যিক ও সাব-ইনস্পেক্টার, বাংলাদেশ পুলিশ।












