বরিশাল সরকারি মডেল স্কুলের ৬১ শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন বন্ধ - দৈনিক বরিশাল ২৪ দৈনিক বরিশাল ২৪বরিশাল সরকারি মডেল স্কুলের ৬১ শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন বন্ধ - দৈনিক বরিশাল ২৪

প্রকাশিতঃ জুন ১৫, ২০২০ ২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
A- A A+ Print

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুলের ৬১ শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন বন্ধ

৪১

শামীম আহমেদ, বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের স্বেচ্চাচারিতা
খামখেয়ালিপনা ও একক একটি অমানবিক আদেশে প্রতিষ্ঠানটির ৬১ শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মে মাস থেকে বেতন বন্ধ রয়েছে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তহবিল তসরুপ,শিক্ষামন্ত্রনালয়ের আদেশ অমান্যসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষকদের পক্ষ থেকে।

মে মাস থেকে বেতন বন্ধ হওয়ায় ৬১ শিক্ষক ও কর্মচারিদের পরিবারে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ১৭ ম্#ে৩৯;২০২০ তারিখ বেতন বন্ধের অধ্যক্ষের অবৈধ আদেশ প্রত্যাহারের জন্য ২১ জন খন্ডকালীন শিক্ষক ও কর্মচারীরা পৃথক পৃথক আবেদন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের নিকট।

১৭ মে বৈশ্বিক মহামারি করোনা চলাকালীন সময়ে নিয়মিত বেতন প্রদান শিরোনামে তারা আবেদন করেন।
এবার ১১ জুন বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ৪০ জন স্থায়ী শিক্ষক ,কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে বেতন ভাতা সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী আত্তীকরন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত রাখার শিরোনামে আবেদন করেন।

আবেদনে এ ৪০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন উলে­খ করেন ম্#ে৩৯;২০২০ মাসের বেতন ভাতা জুনের ১০ তারিখ পর্যন্ত পাইনি। এ বিষয়ে অধ্যক্ষের সাথে ৩ জুন আলোচনা করলে তিনি জানান কোন বেতন দেয়া হবেনা। কারন হিসাবে তিনি বলেন ফান্ডে কোন টাকা নাই।

আবার বলেন,সরকার শুধু এপ্রিল ও মে মাসের মুল বেতন দিতে বলেছে। কলেজের প্রায় ৪০ লাখ টাকার ফান্ড ও তিন কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের যে নির্দেশনা রয়েছে তা সদ্য বা নতুন সরকারিকরনকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নন এমপিও শিক্ষকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আবেদনে আরো উলে­খ করা হয় আত্তীকরন না হওয়া পর্যন্ত পুর্বের ন্যায় বেতন ভাতা আমাদের অব্যাহত থাকবে।

নিয়মিত বেতন ভাতা পরিচালনা পর্ষদ অব্যাহত রাখবেন এ মর্মে নির্দেশনা রয়েছে। ৪০ জন আবেদনকারী অধ্যক্ষ প্রসঙ্গে আবেদনে উলে­খ করেন,পরিতাপের বিষয় এই করোনা দুর্যোগ মুহুর্তে প্রতিষ্ঠানটির প্রেষনে নিয়োজিত অধ্যক্ষ করোনার অজুহাতে সু কৌশলে পরিচালনা পর্ষদের কোন সভা আহবান না করে একক সিদ্ধান্তে বেতন দেওয়ার দীর্ঘ সূত্রতা সৃষ্টি করছে।

অথচ অধ্যক্ষ তার মুল বেতনসহ অন্যান্য ভাতাদি কলেজ ফান্ড থেকে গ্রহন করছেন। তারা আবেদনে আরো উলে­খ করেন অধ্যক্ষ যোগদানের তারিখ থেকে শতকরা বিশ ভাগ প্রেষন ভাতা গ্রহন করে আসছেন যা মন্ত্রনালয়ের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

শিক্ষক ও কর্মচারিরা বেতন ভাতা না পাওয়ায় তারা বেতন বন্ধের আদেশকে অন্যায় ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সভাপতির নিকট মে মাসের বেতন ও এডহক না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত বেতন ভাতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।

আবেদনের সতত্য নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটির সহকারি অধ্যাপক (গনিত) মোঃ আবু মামুন বলেন,আমরা এখন পর্যন্ত মে মাসের বেতন পাইনি। অধ্যক্ষকে বলা হলেও তিনি বেতন দিবেনা এজন্য আমরা ১১ জুন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির নিকট বেতন নিয়মিত দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে ৪০ জন স্থায়ী শিক্ষক , কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আবেদন করেছি।বেতন না দেয়াকে তিনি অমানবিক বিষয় উলে­খ করে বলেন ফান্ডে টাকা রয়েছে।

অথচ অধ্যক্ষের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারনে ৬১ জনের আজ বেতন বন্ধ এই করোনা মহামারি দুর্যোগে যা চরম দুঃখজনক। মে মাসের বেতন আজ ১৩ জুন পর্যন্ত দেয়া হয়নি বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানটির হিসাব
রক্ষন কর্মকর্তা মোঃ আমির হোসেন।

এছাড়া মে মাসের বেতন এখনো পায়নি জানালেন প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তারক্ষী মামুন হোসেন মৃধা।
প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তারা জানান, দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাহিদুর রহমান মজুমদার। একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে এক সময়ের বরিশাল বাশীর আন্দোলনের ফসল বরিশালের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার প্রতিষ্ঠানটি সভাপতি হলে ও সভাপতি ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই একক ভাবে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ। এমনকি সভাপতি ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ও না মানার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

প্রথমে খন্ডকালীন শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করার পরে এবার একক সিদ্ধান্তে বন্ধ করে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ৪০ জন স্থায়ী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন। তারা অধ্যক্ষের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন অধ্যক্ষ তিনি আদৌ যোগ্য নন প্রতিষ্ঠান পরিচালনায়। তিনি যোগদানের পর থেকে একটি সুন্দর প্রতিষ্ঠানকে অসুন্দর করছেন প্রতি মুহুর্তে।

তিনি একজন স্বার্থপর উলে­খ করে বলেন অধ্যক্ষ নিজে বেতন নিলেন আর ৬১ জনের বেতন দিলেন না এ কেমন অধ্যক্ষ। তারা বলেন তিনি আসলে একজন অধ্যক্ষ নন তিনি হলেন অদক্ষ।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বরাবরে খন্ডকালীন ১৩ শিক্ষক স্বাক্ষরিত আবেদনে উলে­খ করা হয় আমরা বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড করেজে কর্মরত আছি। বর্তমান সময় গোটা বিশ্ব করোনা ভাইরাস নামক এক ভয়ংকর মহামারির কবলে।

যেখানে দীর্ঘ মৃত্যুর মিছিল ও ঘরবন্ধি মানুষ অসহায় ভাবে জিবন যাপন করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ও প্রশাসন নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী পরিস্কার নির্দেশনা দিয়েছেন যে,সকল প্রতিষ্ঠানকে তার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন ভাতা প্রদান করতে।

সেখানে আমাদেরকে ম্#ে৩৯;২০২০ সাল থেকে বেতন অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ থাকবে বলে জানিয়ে দেয়া হয়। অথচ প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী শিক্ষক ও কর্মচারিরা বেতন পাবেন নিয়মিত। স্থায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীরা ঈদে বেতন বোনাস সহ অর্ধ লাখ থেকে এক লাখ টাকা পেয়েছে। সেখানে খন্ডকালীন ও আমন্ত্রিত শিক্ষকদের মাত্র মাসিক আট হাজার টাকা বন্ধের স্বিদ্ধান্ত দেয়া একটি অমানবিক স্বিদ্ধান্ত।

আবেদনকারী শিক্ষকদের এই আট হাজার টাকা ছাড়া অন্য কোন আয়ের উৎস নেই।বর্তমানে এ বেতন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হলে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দুদর্শায় ও না খেয়ে দিন যাপন করতে হবে বলে আবেদনে উলে­খ করা হয়। সকল প্রেক্ষাপট, পরিবার ও পরিজনদেরকথা বিবেচনায় বেতন নিয়মিত প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সভাপতির নিকট আবেদন করেন।

এদিকে ১৭্#৩৯;মে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের নিকট প্রতিষ্ঠানটির খন্ডকালীন আট কর্মচারী স্বাক্ষরিত পৃথক একটি আবেদন করেন। আবেদনে তারা খন্ডকালীন শিক্ষকদের ন্যায় তাদের বেতন নিয়মিত প্রদানের ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন।

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের এমন সিদ্ধান্তে ২১ পরিবারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তারা হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা ও একঘুয়েমির কারনে এসব হচ্ছে। কিভাবে একজন দ্বায়িত্বশীল লোক আড়াই মাস প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকেন। মার্চের ২০ তারিখ কর্মস্থল ত্যাগ করে ২ জুন সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানে এসেছেন।

খন্ডকালীন ঐ শিক্ষকরা বলেন, কিছু বলার নেই বললে খন্ডকালীন কর্মটি হারাতে হবে। তারা অধ্যক্ষের অমানবিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন,গত ঈদে খন্ডকালীন ও আমন্ত্রিত শিক্ষক ও কর্মচারীদের ঈদ বোনাস দেয়নি যা দুঃখজনক। তারা বলেন প্রতিষ্ঠানটিতে স্থায়ীরা ক্লাশ কম নেন। খন্ডকালীন ও আমন্ত্রিত শিক্ষকরা অতিরিক্ত ক্লাশ নেন।

অথচ এই করোনার মহামারিতে আমাদের বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তিনি যা গভর্নিং বডি বা একাডেমিক কাউন্সিলের কেউ কিছু জানেন না। খন্ডকালীন শিক্ষকদের বেতন বন্ধের ব্যাপারে সহকারি শিক্ষক (গনিত) মোঃ আজিম উদ্দিন জানান,এপ্রিলের বেতন যখন দেয়া হয় তখন মে মাস থেকে আমাদের বেতন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে বলে জানিয়ে দেয়া হয়।

আমরা আমন্ত্রিত ও খন্ডকালীন শিক্ষকরা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির নিকট আবেদন করেছি নিয়মিত বেতন প্রদানের জন্য। তিনি বলেন, অধ্যক্ষের নির্দেশে আমির হোসেন আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। একই কথা বললেন সহকারি শিক্ষক (গনিত) মোঃ জাকির হোসেন। তিনি বলেন আমাদের মাত্র সামান্য
টাকা বেতন তা বন্ধের সিদ্ধান্তে আমরা হতবাক।

এব্যাপারে অফিস সহকারি মোঃ রাশেদুজ্জামান জানান আমরা খন্ডকালীন আট কর্মচারি পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির নিকট আবেদন করেছি নিয়মিত বেতন প্রদানের জন্য। আমাদের বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত অমানবিক। বেতন না পেলে আমরা কিভাবে চলবো কি খাবো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষকরা জানিয়েছেন,অধ্যক্ষ এক একটি সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন যা অমানবিক । তিনি একজন স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত তিনি একটিও কার্যকর করেন নি। বরং পরিচালনা পর্ষদ কে পাশ কাটিয়ে একেকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম আজ তলানীতে।

পরিচালনা পর্ষদ স্থায়ী শিক্ষক পুনিল সরকারকে অর্ধেক বেতন প্রদানের সিদ্ধান্ত দিলেও এখনো সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি যা সরকারি আদেশ অবমাননার শামিল। নাম প্রকাশে অপারগ একাধিক শিক্ষকরা জানিয়েছেন,অধ্যক্ষের অনিয়মের ফলে আজ ডুবে যাচ্ছে এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির সুনাম।

অধ্যক্ষ থাকেন বেশীর ভাগ সময়ইে ঢাকা : বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ স্টেশন লিভ দেয়ায় ও তিনি একটি গ্র“পকে বেশী পছন্দ করায় তার আদেশ কেউ মানছেন না। অধ্যক্ষ মাসের অর্ধ সময় ঢাকা থাকেন। করোনার এই দুঃসময়েও তিনি বরিশালে নেই। ঢাকায় থাকার কারনে
মার্চের বেতন গত ১০ এপ্রিল দেয়া হয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ফল ফলাদী অধ্যক্ষ বিগত দিনের রেওয়াজ ভেঙ্গে বস্তা ভরে নিয়ে যান ঢাকাতে
বলে অভিযোগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।

এদিকে অধ্যক্ষ হাজার হাজার টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছেন টেন্ডার পরিচালনা পর্ষদ ও একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ছাড়াই। অথচ প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ঘোষনার ফলে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য আর্থিক ব্যয়ের জন্য শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন নিতে হয়।

অনুমোদন না নিয়েই প্রতিষ্ঠানটির সংস্করন কাজসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। তারা বলেন অধ্যক্ষ সরকারি কোন আইন -কানুন ও নির্দেশনা মানছেন না। কলেজ ফান্ডের টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের ফলে বর্তমানে শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন -ভাতা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে করোনার এই দুর্যোগে গুরুত্বপুর্ন এ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম হতাশায় ভুগছে। শিক্ষার্থীদের এই মহামারি দুর্যোগে কোন নির্দেশনা না দেয়ায় অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব থাকলেও অনলাইন ক্লাশের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।প্রায় আড়াই মাস যাবৎ অধ্যক্ষ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেছেন বলে জানান অফিসে কর্মরতগন।

সরকার বিরোধী জামাত-বিএনপির মিছিল থেকে নাশকতার অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হওয়া মডেলের
আরবি শিক্ষক মোস্তফা কামালকে বর্তমান অধ্যক্ষ গুরু বলে ডাকেন এক অজানা রহস্যের কারনে। আর এই গুরু মোস্তফাও মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সুনাম নষ্টের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাহিদুর রহমান মজুমদারের সাথে যোগাযোগের জন্য কলেজের টেলিফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কেউ রিসিভ করেন নি।

দৈনিক বরিশাল ২৪

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুলের ৬১ শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন বন্ধ

সোমবার, জুন ১৫, ২০২০ ২:৪৯ পূর্বাহ্ণ | আপডেটঃ জুন ১৫, ২০২০ ২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
৪১

শামীম আহমেদ, বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের স্বেচ্চাচারিতা
খামখেয়ালিপনা ও একক একটি অমানবিক আদেশে প্রতিষ্ঠানটির ৬১ শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মে মাস থেকে বেতন বন্ধ রয়েছে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তহবিল তসরুপ,শিক্ষামন্ত্রনালয়ের আদেশ অমান্যসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষকদের পক্ষ থেকে।

মে মাস থেকে বেতন বন্ধ হওয়ায় ৬১ শিক্ষক ও কর্মচারিদের পরিবারে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ১৭ ম্#ে৩৯;২০২০ তারিখ বেতন বন্ধের অধ্যক্ষের অবৈধ আদেশ প্রত্যাহারের জন্য ২১ জন খন্ডকালীন শিক্ষক ও কর্মচারীরা পৃথক পৃথক আবেদন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের নিকট।

১৭ মে বৈশ্বিক মহামারি করোনা চলাকালীন সময়ে নিয়মিত বেতন প্রদান শিরোনামে তারা আবেদন করেন।
এবার ১১ জুন বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ৪০ জন স্থায়ী শিক্ষক ,কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে বেতন ভাতা সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী আত্তীকরন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত রাখার শিরোনামে আবেদন করেন।

আবেদনে এ ৪০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন উলে­খ করেন ম্#ে৩৯;২০২০ মাসের বেতন ভাতা জুনের ১০ তারিখ পর্যন্ত পাইনি। এ বিষয়ে অধ্যক্ষের সাথে ৩ জুন আলোচনা করলে তিনি জানান কোন বেতন দেয়া হবেনা। কারন হিসাবে তিনি বলেন ফান্ডে কোন টাকা নাই।

আবার বলেন,সরকার শুধু এপ্রিল ও মে মাসের মুল বেতন দিতে বলেছে। কলেজের প্রায় ৪০ লাখ টাকার ফান্ড ও তিন কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের যে নির্দেশনা রয়েছে তা সদ্য বা নতুন সরকারিকরনকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নন এমপিও শিক্ষকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আবেদনে আরো উলে­খ করা হয় আত্তীকরন না হওয়া পর্যন্ত পুর্বের ন্যায় বেতন ভাতা আমাদের অব্যাহত থাকবে।

নিয়মিত বেতন ভাতা পরিচালনা পর্ষদ অব্যাহত রাখবেন এ মর্মে নির্দেশনা রয়েছে। ৪০ জন আবেদনকারী অধ্যক্ষ প্রসঙ্গে আবেদনে উলে­খ করেন,পরিতাপের বিষয় এই করোনা দুর্যোগ মুহুর্তে প্রতিষ্ঠানটির প্রেষনে নিয়োজিত অধ্যক্ষ করোনার অজুহাতে সু কৌশলে পরিচালনা পর্ষদের কোন সভা আহবান না করে একক সিদ্ধান্তে বেতন দেওয়ার দীর্ঘ সূত্রতা সৃষ্টি করছে।

অথচ অধ্যক্ষ তার মুল বেতনসহ অন্যান্য ভাতাদি কলেজ ফান্ড থেকে গ্রহন করছেন। তারা আবেদনে আরো উলে­খ করেন অধ্যক্ষ যোগদানের তারিখ থেকে শতকরা বিশ ভাগ প্রেষন ভাতা গ্রহন করে আসছেন যা মন্ত্রনালয়ের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

শিক্ষক ও কর্মচারিরা বেতন ভাতা না পাওয়ায় তারা বেতন বন্ধের আদেশকে অন্যায় ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সভাপতির নিকট মে মাসের বেতন ও এডহক না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত বেতন ভাতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।

আবেদনের সতত্য নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটির সহকারি অধ্যাপক (গনিত) মোঃ আবু মামুন বলেন,আমরা এখন পর্যন্ত মে মাসের বেতন পাইনি। অধ্যক্ষকে বলা হলেও তিনি বেতন দিবেনা এজন্য আমরা ১১ জুন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির নিকট বেতন নিয়মিত দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে ৪০ জন স্থায়ী শিক্ষক , কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আবেদন করেছি।বেতন না দেয়াকে তিনি অমানবিক বিষয় উলে­খ করে বলেন ফান্ডে টাকা রয়েছে।

অথচ অধ্যক্ষের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারনে ৬১ জনের আজ বেতন বন্ধ এই করোনা মহামারি দুর্যোগে যা চরম দুঃখজনক। মে মাসের বেতন আজ ১৩ জুন পর্যন্ত দেয়া হয়নি বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানটির হিসাব
রক্ষন কর্মকর্তা মোঃ আমির হোসেন।

এছাড়া মে মাসের বেতন এখনো পায়নি জানালেন প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তারক্ষী মামুন হোসেন মৃধা।
প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তারা জানান, দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাহিদুর রহমান মজুমদার। একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে এক সময়ের বরিশাল বাশীর আন্দোলনের ফসল বরিশালের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার প্রতিষ্ঠানটি সভাপতি হলে ও সভাপতি ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই একক ভাবে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ। এমনকি সভাপতি ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ও না মানার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

প্রথমে খন্ডকালীন শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করার পরে এবার একক সিদ্ধান্তে বন্ধ করে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ৪০ জন স্থায়ী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন। তারা অধ্যক্ষের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন অধ্যক্ষ তিনি আদৌ যোগ্য নন প্রতিষ্ঠান পরিচালনায়। তিনি যোগদানের পর থেকে একটি সুন্দর প্রতিষ্ঠানকে অসুন্দর করছেন প্রতি মুহুর্তে।

তিনি একজন স্বার্থপর উলে­খ করে বলেন অধ্যক্ষ নিজে বেতন নিলেন আর ৬১ জনের বেতন দিলেন না এ কেমন অধ্যক্ষ। তারা বলেন তিনি আসলে একজন অধ্যক্ষ নন তিনি হলেন অদক্ষ।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বরাবরে খন্ডকালীন ১৩ শিক্ষক স্বাক্ষরিত আবেদনে উলে­খ করা হয় আমরা বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড করেজে কর্মরত আছি। বর্তমান সময় গোটা বিশ্ব করোনা ভাইরাস নামক এক ভয়ংকর মহামারির কবলে।

যেখানে দীর্ঘ মৃত্যুর মিছিল ও ঘরবন্ধি মানুষ অসহায় ভাবে জিবন যাপন করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ও প্রশাসন নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী পরিস্কার নির্দেশনা দিয়েছেন যে,সকল প্রতিষ্ঠানকে তার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন ভাতা প্রদান করতে।

সেখানে আমাদেরকে ম্#ে৩৯;২০২০ সাল থেকে বেতন অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ থাকবে বলে জানিয়ে দেয়া হয়। অথচ প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী শিক্ষক ও কর্মচারিরা বেতন পাবেন নিয়মিত। স্থায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীরা ঈদে বেতন বোনাস সহ অর্ধ লাখ থেকে এক লাখ টাকা পেয়েছে। সেখানে খন্ডকালীন ও আমন্ত্রিত শিক্ষকদের মাত্র মাসিক আট হাজার টাকা বন্ধের স্বিদ্ধান্ত দেয়া একটি অমানবিক স্বিদ্ধান্ত।

আবেদনকারী শিক্ষকদের এই আট হাজার টাকা ছাড়া অন্য কোন আয়ের উৎস নেই।বর্তমানে এ বেতন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হলে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দুদর্শায় ও না খেয়ে দিন যাপন করতে হবে বলে আবেদনে উলে­খ করা হয়। সকল প্রেক্ষাপট, পরিবার ও পরিজনদেরকথা বিবেচনায় বেতন নিয়মিত প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সভাপতির নিকট আবেদন করেন।

এদিকে ১৭্#৩৯;মে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের নিকট প্রতিষ্ঠানটির খন্ডকালীন আট কর্মচারী স্বাক্ষরিত পৃথক একটি আবেদন করেন। আবেদনে তারা খন্ডকালীন শিক্ষকদের ন্যায় তাদের বেতন নিয়মিত প্রদানের ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন।

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের এমন সিদ্ধান্তে ২১ পরিবারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তারা হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা ও একঘুয়েমির কারনে এসব হচ্ছে। কিভাবে একজন দ্বায়িত্বশীল লোক আড়াই মাস প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকেন। মার্চের ২০ তারিখ কর্মস্থল ত্যাগ করে ২ জুন সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানে এসেছেন।

খন্ডকালীন ঐ শিক্ষকরা বলেন, কিছু বলার নেই বললে খন্ডকালীন কর্মটি হারাতে হবে। তারা অধ্যক্ষের অমানবিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন,গত ঈদে খন্ডকালীন ও আমন্ত্রিত শিক্ষক ও কর্মচারীদের ঈদ বোনাস দেয়নি যা দুঃখজনক। তারা বলেন প্রতিষ্ঠানটিতে স্থায়ীরা ক্লাশ কম নেন। খন্ডকালীন ও আমন্ত্রিত শিক্ষকরা অতিরিক্ত ক্লাশ নেন।

অথচ এই করোনার মহামারিতে আমাদের বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তিনি যা গভর্নিং বডি বা একাডেমিক কাউন্সিলের কেউ কিছু জানেন না। খন্ডকালীন শিক্ষকদের বেতন বন্ধের ব্যাপারে সহকারি শিক্ষক (গনিত) মোঃ আজিম উদ্দিন জানান,এপ্রিলের বেতন যখন দেয়া হয় তখন মে মাস থেকে আমাদের বেতন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে বলে জানিয়ে দেয়া হয়।

আমরা আমন্ত্রিত ও খন্ডকালীন শিক্ষকরা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির নিকট আবেদন করেছি নিয়মিত বেতন প্রদানের জন্য। তিনি বলেন, অধ্যক্ষের নির্দেশে আমির হোসেন আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। একই কথা বললেন সহকারি শিক্ষক (গনিত) মোঃ জাকির হোসেন। তিনি বলেন আমাদের মাত্র সামান্য
টাকা বেতন তা বন্ধের সিদ্ধান্তে আমরা হতবাক।

এব্যাপারে অফিস সহকারি মোঃ রাশেদুজ্জামান জানান আমরা খন্ডকালীন আট কর্মচারি পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির নিকট আবেদন করেছি নিয়মিত বেতন প্রদানের জন্য। আমাদের বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত অমানবিক। বেতন না পেলে আমরা কিভাবে চলবো কি খাবো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষকরা জানিয়েছেন,অধ্যক্ষ এক একটি সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন যা অমানবিক । তিনি একজন স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত তিনি একটিও কার্যকর করেন নি। বরং পরিচালনা পর্ষদ কে পাশ কাটিয়ে একেকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম আজ তলানীতে।

পরিচালনা পর্ষদ স্থায়ী শিক্ষক পুনিল সরকারকে অর্ধেক বেতন প্রদানের সিদ্ধান্ত দিলেও এখনো সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি যা সরকারি আদেশ অবমাননার শামিল। নাম প্রকাশে অপারগ একাধিক শিক্ষকরা জানিয়েছেন,অধ্যক্ষের অনিয়মের ফলে আজ ডুবে যাচ্ছে এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির সুনাম।

অধ্যক্ষ থাকেন বেশীর ভাগ সময়ইে ঢাকা : বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ স্টেশন লিভ দেয়ায় ও তিনি একটি গ্র“পকে বেশী পছন্দ করায় তার আদেশ কেউ মানছেন না। অধ্যক্ষ মাসের অর্ধ সময় ঢাকা থাকেন। করোনার এই দুঃসময়েও তিনি বরিশালে নেই। ঢাকায় থাকার কারনে
মার্চের বেতন গত ১০ এপ্রিল দেয়া হয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ফল ফলাদী অধ্যক্ষ বিগত দিনের রেওয়াজ ভেঙ্গে বস্তা ভরে নিয়ে যান ঢাকাতে
বলে অভিযোগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।

এদিকে অধ্যক্ষ হাজার হাজার টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছেন টেন্ডার পরিচালনা পর্ষদ ও একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ছাড়াই। অথচ প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ঘোষনার ফলে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য আর্থিক ব্যয়ের জন্য শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন নিতে হয়।

অনুমোদন না নিয়েই প্রতিষ্ঠানটির সংস্করন কাজসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। তারা বলেন অধ্যক্ষ সরকারি কোন আইন -কানুন ও নির্দেশনা মানছেন না। কলেজ ফান্ডের টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের ফলে বর্তমানে শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন -ভাতা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে করোনার এই দুর্যোগে গুরুত্বপুর্ন এ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম হতাশায় ভুগছে। শিক্ষার্থীদের এই মহামারি দুর্যোগে কোন নির্দেশনা না দেয়ায় অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব থাকলেও অনলাইন ক্লাশের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।প্রায় আড়াই মাস যাবৎ অধ্যক্ষ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেছেন বলে জানান অফিসে কর্মরতগন।

সরকার বিরোধী জামাত-বিএনপির মিছিল থেকে নাশকতার অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হওয়া মডেলের
আরবি শিক্ষক মোস্তফা কামালকে বর্তমান অধ্যক্ষ গুরু বলে ডাকেন এক অজানা রহস্যের কারনে। আর এই গুরু মোস্তফাও মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সুনাম নষ্টের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাহিদুর রহমান মজুমদারের সাথে যোগাযোগের জন্য কলেজের টেলিফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কেউ রিসিভ করেন নি।

প্রকাশক: মোসাম্মাৎ মনোয়ারা বেগম। সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা। সম্পাদক : শামিম আহমেদ যুগ্ন-সম্পাদক : মো:মনিরুজ্জামান। প্রধান উপদেষ্টা: মোসাম্মৎ তাহমিনা খান বার্তা সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম ।
প্রধান কার্যালয় : রশিদ প্লাজা,৪র্থ তলা,সদর রোড,বরিশাল।
সম্পাদক: 01711970223 বার্তা বিভাগ: 01764- 631157
ইমেল: sohelahamed2447@gmail.com
  রোহিঙ্গাদের চিরকাল বাস্তুচ্যুত রাখতে চায় না বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী   বাঁশির সুরে তুমুল জনপ্রিয় শেখ সোলায়মান এবার নিয়ে এলেন ‘মানব জীবন’   বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ডিআইজি আবু রায়হান সালেহ্   পাঁচ দেশি মাছে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে বেশি কই মাছে   গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় এগিয়ে চলছে দেশ-তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী   চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত   জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান   গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুখবর দিলো কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন   চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ   বরিশালে আস্থার নাম সমাজসেবার মানবিক মুখ সাজ্জাদ পারভেজ   জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী   ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ, দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন   বরিশালে বিস্ফোরণ: চিপসের প্যাকেটের আড়ালে ‘বুবি ট্র্যাপ’   নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন নিষিদ্ধ   ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ   আর্থিক সংকটে সাংবাদিক কাজী জাহিদ, বাবার জীবন বাঁচাতে চাইলেন সহযোগিতা   প্রবাসফেরত অসুস্থ জামালকে রাস্তার পা‌শে ফেলে গেল স্ত্রী-সন্তান   ১৩০ বছর বয়সী মায়ের খেয়াল রাখেন ১০০ বছরের মেয়ে!   ১৫ বছর পরও ভুলে যাননি ১০০ টাকার দেনা, ছুটে এলেন শোধ করতে   সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি কাল