ভারত থেকে আসা পানির ঢলে নিমজ্জিত গোমস্তাপুরের বিস্তীর্ণ বোরো খেত, দিশাহারা কৃষক - দৈনিক বরিশাল ২৪ দৈনিক বরিশাল ২৪ভারত থেকে আসা পানির ঢলে নিমজ্জিত গোমস্তাপুরের বিস্তীর্ণ বোরো খেত, দিশাহারা কৃষক - দৈনিক বরিশাল ২৪

প্রকাশিতঃ মে ০৬, ২০২৬ ২:৫৪ অপরাহ্ণ
A- A A+ Print

ভারত থেকে আসা পানির ঢলে নিমজ্জিত গোমস্তাপুরের বিস্তীর্ণ বোরো খেত, দিশাহারা কৃষক

৪৯৪

অনলাইন নিউজঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বিলকুজাইন বিল এলাকায় ভারতের পুনর্ভবা নদী থেকে নেমে আসা পানিতে হাজার হাজার বিঘা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। ধান কাটা, পরিবহন ও বাড়তি খরচের চাপে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাপক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করলেও কৃষি বিভাগ বলছে, ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম।

গতকাল মঙ্গলবার বিলকুজাইন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পানিবন্দী জমি থেকে ধান তুলতে নৌকা না পেয়ে অনেক কৃষক মোটা পলিথিন দিয়ে অস্থায়ী নৌকা বানিয়ে ধান পার করছেন। কৃষক তরিকুল ইসলামের ২০ বিঘা জমির মধ্যে অধিকাংশই পানিতে তলিয়ে গেছে। পাঁচ বিঘা নিজের, বাকিটা বর্গা নেওয়া। ছয় বিঘার ধান কাটতে পারলেও শ্রমিকসংকটে বাকিটা কাটতে পারেননি।

তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই দুর্দনে দিনে হাজার টাকা মজুরিতেও ধান কাটা শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ধান বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নৌকাও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে পলিথিনের নৌকা বানিয়ে ধান লিয়া যাছি। নদীর ওপারে গিয়া ট্রাক্টরে কইর্যা বাড়িতে লিয়া যাব। খরচও পড়বে অনেক বেশি। খরচ তো উঠবেই না। ক্ষতির হিসাব এখনো বুঝতি পারছি না। ধারদেনা করে আবাদ কইরাছিলাম। মাথায় আমার বাজ পড়ার মতো অবস্থা।’

ধরা গলায় কৃষক তরিকুল বলেন, ‘তিন-চার বচ্ছর আগেও এ রকমভাবে ধান ডুইবাছিল। ওই ক্ষতি এখুনো পোষাইতে পারিনি। আবারও ডুবনু। এই ডাহি (সংকট) আর ভাল্লাগে না। মনে হোইছে সব ছাইড়্যা পালিয়্যা যায়। দুই লাখ টাকা লোন লিয়া আবাদ কইরাছি। ধান তুইল্যা শোধ করা কথা। এখুন তো নিজের খাবার সমান জুটবে না। লোন কী দিয়া শোধ করব? কৃষি পেশা ছাইড়্যা পালিয়্যা যাওয়া ছাড়া উপায় নাই দেখছি না।’

ধান কাটতে গিয়ে দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন শ্রমিকেরাও। দান্দিপুর গ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর রতন তিগগ্যা জানান, চার দিন কোমরপানিতে দাঁড়িয়ে জোঁকের কামড় সহ্য করে কাজ করেও কাঙ্ক্ষিত মজুরি না পাওয়ায় তাঁরা কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।

স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে নদীর পানি ঠেকাতে তিন দিন ধরে মাটির বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা ভেঙে আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে নদীর এপারের জমিও ডুবে যেতে শুরু করেছে।

কৃষকেরা জানান, দুই-এক বছর পরপর ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে একই দুর্ভোগ তৈরি হয়। নদীর নাব্যতা সংকট, খননের অভাব ও সেতু না থাকায় ক্ষতি আরও বাড়ছে। তাঁদের ভাষ্য, একটি সেতু হলে দ্রুত ধান সরানো যেত, আর নদী খনন হলে জলাবদ্ধতাও কমত।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী সুমন আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কাছে এটি পুনর্ভবার উপনদী। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরিদর্শনে এসেছি। এখানে নদী খনন দরকার। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এটা জানাব।’

রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান জানালেন, বিলকুজাইন ও সিংগাবাদ পাথার মিলিয়ে কয়েক হাজার বিঘা জমির ধান ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাকলাইন বলেন, এলাকায় ২০৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, এর মধ্যে ৬০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সাত দিন আগে পানি আসায় অনেক কৃষক ধান কাটার পর্যাপ্ত সময় পাননি।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, ২০১৭, ২০২২, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে একইভাবে ভারতীয় পানির ঢলে হাজার হাজার বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে তাঁদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু সরকার বিষয়টিতে নজর দিচ্ছে না।

দৈনিক বরিশাল ২৪

ভারত থেকে আসা পানির ঢলে নিমজ্জিত গোমস্তাপুরের বিস্তীর্ণ বোরো খেত, দিশাহারা কৃষক

বুধবার, মে ৬, ২০২৬ ২:৫৪ অপরাহ্ণ
৪৯৪

অনলাইন নিউজঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বিলকুজাইন বিল এলাকায় ভারতের পুনর্ভবা নদী থেকে নেমে আসা পানিতে হাজার হাজার বিঘা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। ধান কাটা, পরিবহন ও বাড়তি খরচের চাপে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাপক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করলেও কৃষি বিভাগ বলছে, ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম।

গতকাল মঙ্গলবার বিলকুজাইন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পানিবন্দী জমি থেকে ধান তুলতে নৌকা না পেয়ে অনেক কৃষক মোটা পলিথিন দিয়ে অস্থায়ী নৌকা বানিয়ে ধান পার করছেন। কৃষক তরিকুল ইসলামের ২০ বিঘা জমির মধ্যে অধিকাংশই পানিতে তলিয়ে গেছে। পাঁচ বিঘা নিজের, বাকিটা বর্গা নেওয়া। ছয় বিঘার ধান কাটতে পারলেও শ্রমিকসংকটে বাকিটা কাটতে পারেননি।

তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই দুর্দনে দিনে হাজার টাকা মজুরিতেও ধান কাটা শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ধান বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নৌকাও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে পলিথিনের নৌকা বানিয়ে ধান লিয়া যাছি। নদীর ওপারে গিয়া ট্রাক্টরে কইর্যা বাড়িতে লিয়া যাব। খরচও পড়বে অনেক বেশি। খরচ তো উঠবেই না। ক্ষতির হিসাব এখনো বুঝতি পারছি না। ধারদেনা করে আবাদ কইরাছিলাম। মাথায় আমার বাজ পড়ার মতো অবস্থা।’

ধরা গলায় কৃষক তরিকুল বলেন, ‘তিন-চার বচ্ছর আগেও এ রকমভাবে ধান ডুইবাছিল। ওই ক্ষতি এখুনো পোষাইতে পারিনি। আবারও ডুবনু। এই ডাহি (সংকট) আর ভাল্লাগে না। মনে হোইছে সব ছাইড়্যা পালিয়্যা যায়। দুই লাখ টাকা লোন লিয়া আবাদ কইরাছি। ধান তুইল্যা শোধ করা কথা। এখুন তো নিজের খাবার সমান জুটবে না। লোন কী দিয়া শোধ করব? কৃষি পেশা ছাইড়্যা পালিয়্যা যাওয়া ছাড়া উপায় নাই দেখছি না।’

ধান কাটতে গিয়ে দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন শ্রমিকেরাও। দান্দিপুর গ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর রতন তিগগ্যা জানান, চার দিন কোমরপানিতে দাঁড়িয়ে জোঁকের কামড় সহ্য করে কাজ করেও কাঙ্ক্ষিত মজুরি না পাওয়ায় তাঁরা কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।

স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে নদীর পানি ঠেকাতে তিন দিন ধরে মাটির বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা ভেঙে আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে নদীর এপারের জমিও ডুবে যেতে শুরু করেছে।

কৃষকেরা জানান, দুই-এক বছর পরপর ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে একই দুর্ভোগ তৈরি হয়। নদীর নাব্যতা সংকট, খননের অভাব ও সেতু না থাকায় ক্ষতি আরও বাড়ছে। তাঁদের ভাষ্য, একটি সেতু হলে দ্রুত ধান সরানো যেত, আর নদী খনন হলে জলাবদ্ধতাও কমত।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী সুমন আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কাছে এটি পুনর্ভবার উপনদী। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরিদর্শনে এসেছি। এখানে নদী খনন দরকার। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এটা জানাব।’

রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান জানালেন, বিলকুজাইন ও সিংগাবাদ পাথার মিলিয়ে কয়েক হাজার বিঘা জমির ধান ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাকলাইন বলেন, এলাকায় ২০৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, এর মধ্যে ৬০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সাত দিন আগে পানি আসায় অনেক কৃষক ধান কাটার পর্যাপ্ত সময় পাননি।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, ২০১৭, ২০২২, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে একইভাবে ভারতীয় পানির ঢলে হাজার হাজার বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে তাঁদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু সরকার বিষয়টিতে নজর দিচ্ছে না।

প্রকাশক: মোসাম্মাৎ মনোয়ারা বেগম। সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা। সম্পাদক : শামিম আহমেদ যুগ্ন-সম্পাদক : মো:মনিরুজ্জামান। প্রধান উপদেষ্টা: মোসাম্মৎ তাহমিনা খান বার্তা সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম ।
প্রধান কার্যালয় : রশিদ প্লাজা,৪র্থ তলা,সদর রোড,বরিশাল।
সম্পাদক: 01711970223 বার্তা বিভাগ: 01764- 631157
ইমেল: sohelahamed2447@gmail.com
  এক মাসে এক ডজন ডিমে দাম বেড়েছে ৩০–৪০ টাকা, সবজি–মাছ–মাংসও চড়া   তরমুজে ইঁদুর মারার বিষেই মৃত্যু একই পরিবারের সেই ৪ জনের   ভারত থেকে আসা পানির ঢলে নিমজ্জিত গোমস্তাপুরের বিস্তীর্ণ বোরো খেত, দিশাহারা কৃষক   চৌদ্দগ্রামে দুর্বৃত্তদের আগুনে ঘরহারা পরিবারগুলো পাচ্ছে নতুন ঠিকানা, উদ্যোগ নিলেন প্রধানমন্ত্রী   রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশ   বৃষ্টির কাছে হার মানছে সবাই, চট্টগ্রাম শহরে অসহনীয় জলাবদ্ধতা   চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী   বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের   ইমতিয়াজ চৌধুরী লাখুটিয়া দাখিল মাদরাসার সভাপতি নির্বাচিত   ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে স্কলার আইডিয়াল স্কুলের বিদায় সংর্বধনা অনুষ্ঠিত   বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের টার্গেট দিলো নিউজিল্যান্ড   সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি, ভোগান্তিতে ক্রেতারা   বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা হাইস্কুলের এসএসসি পরিক্ষার্থীদের দোয়া অনুষ্ঠিত   ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ চলছে   প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু আজ, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা   নাতে রাসূল ইভেন্টে বাবুগঞ্জ উপজেলায় ১ম হলেন চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের ছাত্র সাদমান ইসলাম   আজ বাংলা নববর্ষ, উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজন বরগুনার বেতাগীতে   শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষাও আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে: বরিশালে শিক্ষামন্ত্রী   বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল   ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে বাদপড়া শিক্ষার্থীদের ফের রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ