মাথায় লাশ নিয়ে সাঁকো পারাপার করতে হয় তাদের
অনলাইন ডেস্কঃ তিন যুবক একটি মরদেহ মাথায় নিয়ে বাঁশের সাঁকো পর হচ্ছেন। পেছন থেকে স্বজনরা কালেমা শাহাদাত পড়ছেন। তাদের মুহূর্তের অসাবধানতায় ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা।
এমন একটি ভিডিও শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। হৃদয়বিদারক এ দৃশ্যটি মানুষের বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। টনক নড়ে প্রশাসনের। ব্যস্ত হয়ে পড়েন রাজনীতিবিদরা।
সেতু দিয়ে লাশ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ব্রিজ ভাঙ্গা থাকায় গত দুই বছর ধরে এভাবেই সাঁকোর উপর দিয়ে লাশ নিয়ে কবরস্থানে যান এলাকাবাসী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের টান মান্দাইল কবরস্থানে যাওয়ার সড়কে এ সেতু। গত দুই বছর ধরে নতুন সেতু নির্মাণ না করায় যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চার গ্রামের কয়েকশ মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের জাঙ্গাল গ্রামের ভেতর দিয়ে দক্ষিণ দিকে একটি পাকা সড়ক শান্তিপুর-মান্দাইল গ্রামকে যুক্ত করেছে। জাঙ্গাল গ্রামের শেষপ্রান্তে খালের উপর একটি সেতু রয়েছে।
২০২৪ সালের শেষদিকে পানির তীব্র স্রোতে সেতুটির অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙে পড়ে। এরপর নতুন করে আর সেতু নির্মাণ করা হয়নি। এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে সেতুর পাশে বাঁশ দিয়ে সাকো তৈরি করে চলাচল করছেন।
এই সেতুর দুই পাশের ৩-৪টি গ্রামের কয়েকশ মানুষ সেতু দিয়ে যাতায়াত করেন। সেতুর একপ্রান্তে একটি ঈদগাহও রয়েছে। এছাড়াও জমিতে চাষাবাদ করার জন্য কৃষক-শ্রমিকরা এই সেতু ব্যবহার করেন। সাধারণ মানুষসহ ছাত্রছাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হয়। কবরস্থানে লাশ দাফনে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
রোববার দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, খালের পানিতে ব্রিজের ভাঙা অংশ পড়ে আছে। এর পাশেই বাঁশ দিয়ে সেতু তৈরি করা হয়েছে। লোকজন সেই সেতু দিয়ে চলাচল করছেন।
জাঙ্গাল গ্রামের আবুল হাসেম মিয়া বলেন, শনিবার টানমান্দাইল গ্রামের একজন লোক মারা যান। তিন যুবক মাথায় লাশ নিয়ে সেতু পার করেছেন। এর আগেও একবার লাশ নেওয়ার সময় দুইজন সেতু থেকে পড়ে আহত হন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, প্রায় দুই বছর আগে বৃষ্টির সময় তীব্র পানির স্রোতে ব্রিজটি ভেঙে যায়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম; কিন্তু অদ্যাবধি নতুন ব্রিজ করেনি। ব্রিজ না থাকায় ৩-৪টি গ্রামের মানুষ খুব কষ্ট করছে। সেতুর দক্ষিণ পাশে টানমান্দাইল গ্রামের কবরস্থান। লাশ নিয়ে কবরস্থানে যেতে খুব অসুবিধা হয়। দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ করার জন্য আমি বর্তমান সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, প্রকল্পের সংশোধনী পাশ না হওয়ায় সেতুটি করা হয়নি। সেতু দিয়ে লাশ নেওয়ার ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আবারও অবহিত করব।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপসী রাবেয়া বলেন, খবর পেয়ে আমি সকালে ব্রিজটি দেখতে গিয়েছিলাম। এটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ। ব্রিজটি দ্রুত করার জন্য আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখব এবং জেলা উন্নয়ন সমন্বয় মিটিংয়ে উপস্থাপন করব। সূত্রঃযুগান্তর












