মুক্তিযুদ্ধে স্বীকৃতিহীন নারীর সন্তানকে খুঁজে নিয়ে ঘর দিলেন ফারজানা ওহাব - দৈনিক বরিশাল ২৪ দৈনিক বরিশাল ২৪মুক্তিযুদ্ধে স্বীকৃতিহীন নারীর সন্তানকে খুঁজে নিয়ে ঘর দিলেন ফারজানা ওহাব - দৈনিক বরিশাল ২৪

প্রকাশিতঃ জুলাই ০৫, ২০২০ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
A- A A+ Print

মুক্তিযুদ্ধে স্বীকৃতিহীন নারীর সন্তানকে খুঁজে নিয়ে ঘর দিলেন ফারজানা ওহাব

১০৯

মো: শহিদুল ইসলাম: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখে ব্যাপক প্রশংসীত হলেও হতভাগা নারীর ভাগ্যে জোটেনি সেই মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি। স্বাধীন দেশে বাস করে নিভু নিভু করে চরম বঞ্চনা নিয়েই নিভে গেলো শেষ জীবনের আলোর প্রদীপ। কারো কাছ থেকেই পেলো না এতোটুকু সহযোগীতা। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সেই হতভাগ্য নারী আলেয়া বেগমকে খুঁজে বের করলেন জনপ্রিয় ভাইসচেয়ারম্যান ফারজানা বিনতে ওহাব।

৭১ এর সময় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আলেয়া বেগমের মা বাবুগঞ্জ থানায় রান্নার কাজ করতেন। আলোর মা বলেই সকলের কাছে বেশ পরিচিতি ছিলো তার। থানায় কাজ করার সুযোগ পেয়ে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার চেষ্টা ছিলো এই নারীর। ফলে থানা থেকে অস্ত্র সরবারহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেন আলেয়া বেগমের মা।

কালের পরিবর্তনে সেই সময়ে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখে অনেকেই স্বিকৃতি লাভ করলেও লোকচক্ষুর আঁড়ালে রয়ে যান আলেয়া বেগমের মা। দারিদ্রতার অভিশাপ নিয়ে চির বিদায় নেন পৃথিবী থেকে। রয়ে যায় তার সন্তান আলেয়া। বহু বছর পেড়িয়ে গেলেও কেউ খোঁজ নেয়নি আলেয়ার। ইতিহাস থেকে প্রথম জানায় বর্তমান জেলা পরিষদের সদস্য পারভেজ আলেয়ার মায়ের করুণ ইতিহাস জানান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা ওহাবকে।

ফারজানা ওহাব আলেয়ার অসহায়ত্ব জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার অসহায় ও দুস্তদের জন্য বিনামূল্যের একটি বসত ঘর নির্মাণ করে দেন। ঘর পেয়ে আলেয়া মহাখুশি। শুধু আলেয়া বেগমকে নয়, প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়েছে অসহায় দুস্থ আইয়ুব আলী। দুজনেই উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা। 

ফারজানা ওহাব সব সময়ই নিজের পরিচ্ছন্ন কাজগুলোকে জনসাধারণের কাছে জানান দিতে আগ্রহী থাকেন। নিজের দ্বায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এমন উদ্যোগ বলে জানা গেছে। তিনি তার ফেসবুক ওয়ালে পোষ্ট  এ লিখেছেন………………

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। অনেক কাজের কথাই আপনাদের জানানো হয়না অলসতার কারনে। আপনারা অবশ্যই জানেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অসহায় ও দুস্তদের জন্য বিনামূল্যে বসত ঘর দেন প্রতিটি উপজেলায়। আমি মাত্র দুই টি ঘরের বরাদ্দ পেয়েছি এক বছরে। একটি ঘর দেয়া হয়েছে আলেয়া বেগম কে যার ইতিহাস না বললেই নয়।

মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন এই আলেয়া আপার মা বাবুগঞ্জ থানায় রান্নার কাজ করতো তাকে আলোর মা বলে ডাকতো সবাই, আর তিনি তখন জীবনের ঝুকি নিয়ে বাবুগঞ্জ থানা থেকে অস্ত্র এনে আমার বাবার হাতে তুলে দেন।

এই ইতিহাস আমাকে প্রথম জানায় বর্তমান জেলা পরিষদের সদস্য পারভেজ ভাই। সবচেয়ে নির্মম কথা হলো এই বীর নারী শেষ বয়সে মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায়, রাস্তায় ঘুরে রাস্তায়ই মৃত্যু বরন করেছেন যার খোজ আর এ জাতি রাখেনি। আর দ্বিতীয় জন আইয়ুব আলী তিনি খুব ছোট বয়সে বাবা কে হারিয়ে তার মা কে নিয়ে কঠিন সংগ্রাম করে টিকে আছে আর এখন তার তিন মেয়ে এক ছেলে নিয়ে সংগ্রাম করে চলছে।

তিনি গ্রাম থেকে ডাব কিনে নিয়ে ভ্যানগাড়িতে করে বিক্রি করে। তাও আবার নিয়মিত করতে পারে না। খুব কষ্টে তার সংসার চলে যা আমার নিজের চোখে দেখা। কথা হলো এই বিনামূল্যের ঘরের জন্য নাকি কেউ, কেউ টাকার লেনদেন করেছেন। 

আমি কিন্তু বলেছি কেউ, কেউ টাকা নিয়েছেন সব জনপ্রতিনিধিরা কিন্তু তা করেনি। এক একটি ঘরের জন্য বরাদ্দের পরিমান ২,৯৯,০০০ টাকা। ঘরের কাজ সম্পন্ন করেছে পি আই ও অফিস। যাদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাদের ঠিকানা দিয়ে দিলাম যাতে যে কেউ চাইলেই সব জানতে পারবে।

১|আলেয়া বেগম, স্বামীঃকালাম খান, গ্রামঃ চাঁদপাশা কিসমৎ ২| আইয়ুব আলী, পিতাঃ জাবেদআলী গ্রামঃ দরিয়াবাদ,চাঁদপাশা। সাবই ভালো থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন আমিন।

দৈনিক বরিশাল ২৪

মুক্তিযুদ্ধে স্বীকৃতিহীন নারীর সন্তানকে খুঁজে নিয়ে ঘর দিলেন ফারজানা ওহাব

রবিবার, জুলাই ৫, ২০২০ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেটঃ জুলাই ০৫, ২০২০ ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
১০৯

মো: শহিদুল ইসলাম: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখে ব্যাপক প্রশংসীত হলেও হতভাগা নারীর ভাগ্যে জোটেনি সেই মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি। স্বাধীন দেশে বাস করে নিভু নিভু করে চরম বঞ্চনা নিয়েই নিভে গেলো শেষ জীবনের আলোর প্রদীপ। কারো কাছ থেকেই পেলো না এতোটুকু সহযোগীতা। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সেই হতভাগ্য নারী আলেয়া বেগমকে খুঁজে বের করলেন জনপ্রিয় ভাইসচেয়ারম্যান ফারজানা বিনতে ওহাব।

৭১ এর সময় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আলেয়া বেগমের মা বাবুগঞ্জ থানায় রান্নার কাজ করতেন। আলোর মা বলেই সকলের কাছে বেশ পরিচিতি ছিলো তার। থানায় কাজ করার সুযোগ পেয়ে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার চেষ্টা ছিলো এই নারীর। ফলে থানা থেকে অস্ত্র সরবারহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেন আলেয়া বেগমের মা।

কালের পরিবর্তনে সেই সময়ে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখে অনেকেই স্বিকৃতি লাভ করলেও লোকচক্ষুর আঁড়ালে রয়ে যান আলেয়া বেগমের মা। দারিদ্রতার অভিশাপ নিয়ে চির বিদায় নেন পৃথিবী থেকে। রয়ে যায় তার সন্তান আলেয়া। বহু বছর পেড়িয়ে গেলেও কেউ খোঁজ নেয়নি আলেয়ার। ইতিহাস থেকে প্রথম জানায় বর্তমান জেলা পরিষদের সদস্য পারভেজ আলেয়ার মায়ের করুণ ইতিহাস জানান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা ওহাবকে।

ফারজানা ওহাব আলেয়ার অসহায়ত্ব জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার অসহায় ও দুস্তদের জন্য বিনামূল্যের একটি বসত ঘর নির্মাণ করে দেন। ঘর পেয়ে আলেয়া মহাখুশি। শুধু আলেয়া বেগমকে নয়, প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়েছে অসহায় দুস্থ আইয়ুব আলী। দুজনেই উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা। 

ফারজানা ওহাব সব সময়ই নিজের পরিচ্ছন্ন কাজগুলোকে জনসাধারণের কাছে জানান দিতে আগ্রহী থাকেন। নিজের দ্বায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এমন উদ্যোগ বলে জানা গেছে। তিনি তার ফেসবুক ওয়ালে পোষ্ট  এ লিখেছেন………………

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। অনেক কাজের কথাই আপনাদের জানানো হয়না অলসতার কারনে। আপনারা অবশ্যই জানেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অসহায় ও দুস্তদের জন্য বিনামূল্যে বসত ঘর দেন প্রতিটি উপজেলায়। আমি মাত্র দুই টি ঘরের বরাদ্দ পেয়েছি এক বছরে। একটি ঘর দেয়া হয়েছে আলেয়া বেগম কে যার ইতিহাস না বললেই নয়।

মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন এই আলেয়া আপার মা বাবুগঞ্জ থানায় রান্নার কাজ করতো তাকে আলোর মা বলে ডাকতো সবাই, আর তিনি তখন জীবনের ঝুকি নিয়ে বাবুগঞ্জ থানা থেকে অস্ত্র এনে আমার বাবার হাতে তুলে দেন।

এই ইতিহাস আমাকে প্রথম জানায় বর্তমান জেলা পরিষদের সদস্য পারভেজ ভাই। সবচেয়ে নির্মম কথা হলো এই বীর নারী শেষ বয়সে মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায়, রাস্তায় ঘুরে রাস্তায়ই মৃত্যু বরন করেছেন যার খোজ আর এ জাতি রাখেনি। আর দ্বিতীয় জন আইয়ুব আলী তিনি খুব ছোট বয়সে বাবা কে হারিয়ে তার মা কে নিয়ে কঠিন সংগ্রাম করে টিকে আছে আর এখন তার তিন মেয়ে এক ছেলে নিয়ে সংগ্রাম করে চলছে।

তিনি গ্রাম থেকে ডাব কিনে নিয়ে ভ্যানগাড়িতে করে বিক্রি করে। তাও আবার নিয়মিত করতে পারে না। খুব কষ্টে তার সংসার চলে যা আমার নিজের চোখে দেখা। কথা হলো এই বিনামূল্যের ঘরের জন্য নাকি কেউ, কেউ টাকার লেনদেন করেছেন। 

আমি কিন্তু বলেছি কেউ, কেউ টাকা নিয়েছেন সব জনপ্রতিনিধিরা কিন্তু তা করেনি। এক একটি ঘরের জন্য বরাদ্দের পরিমান ২,৯৯,০০০ টাকা। ঘরের কাজ সম্পন্ন করেছে পি আই ও অফিস। যাদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাদের ঠিকানা দিয়ে দিলাম যাতে যে কেউ চাইলেই সব জানতে পারবে।

১|আলেয়া বেগম, স্বামীঃকালাম খান, গ্রামঃ চাঁদপাশা কিসমৎ ২| আইয়ুব আলী, পিতাঃ জাবেদআলী গ্রামঃ দরিয়াবাদ,চাঁদপাশা। সাবই ভালো থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন আমিন।

প্রকাশক: মোসাম্মাৎ মনোয়ারা বেগম। সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা। সম্পাদক : শামিম আহমেদ যুগ্ন-সম্পাদক : মো:মনিরুজ্জামান। প্রধান উপদেষ্টা: মোসাম্মৎ তাহমিনা খান বার্তা সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম ।
প্রধান কার্যালয় : রশিদ প্লাজা,৪র্থ তলা,সদর রোড,বরিশাল।
সম্পাদক: 01711970223 বার্তা বিভাগ: 01764- 631157
ইমেল: sohelahamed2447@gmail.com
  রোহিঙ্গাদের চিরকাল বাস্তুচ্যুত রাখতে চায় না বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী   বাঁশির সুরে তুমুল জনপ্রিয় শেখ সোলায়মান এবার নিয়ে এলেন ‘মানব জীবন’   বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ডিআইজি আবু রায়হান সালেহ্   পাঁচ দেশি মাছে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে বেশি কই মাছে   গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় এগিয়ে চলছে দেশ-তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী   চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত   জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান   গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুখবর দিলো কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন   চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ   বরিশালে আস্থার নাম সমাজসেবার মানবিক মুখ সাজ্জাদ পারভেজ   জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী   ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ, দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন   বরিশালে বিস্ফোরণ: চিপসের প্যাকেটের আড়ালে ‘বুবি ট্র্যাপ’   নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন নিষিদ্ধ   ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ   আর্থিক সংকটে সাংবাদিক কাজী জাহিদ, বাবার জীবন বাঁচাতে চাইলেন সহযোগিতা   প্রবাসফেরত অসুস্থ জামালকে রাস্তার পা‌শে ফেলে গেল স্ত্রী-সন্তান   ১৩০ বছর বয়সী মায়ের খেয়াল রাখেন ১০০ বছরের মেয়ে!   ১৫ বছর পরও ভুলে যাননি ১০০ টাকার দেনা, ছুটে এলেন শোধ করতে   সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি কাল