আজ মহান ২১, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
সোহেল আহমেদঃ জন্মের পর থেকেই মানুষ সাধারণত তার মায়ের নিকট প্রতিপালিত হয়। শেখে তার মায়ের বলা কথা। জন্মলগ্ন থেকেই মানুষের সেই ভাষাকে বলা হয় মাতৃভাষা।
আজ বাঙ্গালি জাতীর সেই রক্তঝড়া একুশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক, শফিকসহ নাম না জানা অনেক ভাষাসৈনিক রক্ত দিয়েছেন।
ইতিহাস থেকে পাওয়া তথ্যে জানাযায়, তৎকালীন পাকিস্তানি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার ঘোষোনা দিলে বাংলার তরুন ছাত্রজনতা এর বিরোধীতা করে। ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় আবারও রাষ্ট্রভাষাকে উর্দু করার ঘোষনা দেয়। শুরু হয় গোলযোগ। ছাত্র, জনতাসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষের তিব্রক্ষোভের আন্দলন একসময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রুপ নেয়। ২১ শে ফেব্রুয়ারি একযোগে ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। কিন্তু এ ধর্মঘটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ঢাকায় ১৪৪ দ্বারা জারি করা হয়।
কোনো প্রকার মিছিল সমাবেশের উপর পাকসরকারের নিশেধাজ্ঞা থাকা সত্তেও রাষ্ট্রভাষার জন্য উৎসুক ছাত্রজনতাকে দমাতে পারেনি। ছাত্রপরিষদ ভবনের সামনে দিয়েই বিক্ষোভ মিছিলে অটল থাকে ছাত্রসমাজ। একপর্যায় সকলে রাস্তায় বের হলে মুহ মুহ শব্দে প্রকম্পিত হয় নগরী। রক্তে রঞ্জিত হয় ঢাকার রাজপথ। পুলিশের নির্মম গুলিতে নিহত হয় সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক, শফিকসহ আরো অনেক নিবেদিত প্রান।
এরপর ১৯৫৬ সালে তুমুল প্রতিবাদী ঝড়ে রাষ্ট্রভাষাকে পাকিস্তানেরর সংবিধানে স্বিকৃতি প্রদান করা হয়। ১৯৯৫ সালে এটি জাতিসংঘেরর ইউনেস্ক কমিশনে ” আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশসমুহের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়। অবশেষে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের এক সাধারণ পরিষদের ৩০ তম অধিভেশনে ২৭ টি দেশের সমর্থন নিয়ে স্বীকৃতি লাভ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা।
যে ভাষার জন্য প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছে আমার দেশের বীর সৈনিকেরা,তাদের রক্তের সম্মান জানাতে যথাযথ মর্যাদায় প্রতি বছর আজকের এই দিনে পালিত হয় দিবসটি। এ উপলক্ষে রাজনৈতিক, সামাজিক, সেচ্ছাসেবী সহ বিভিন্ন সংগঠন শহিদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। শহর ছাড়িয়ে গ্রামের স্কুল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও এক যোগে শ্রদ্ধা জানানো হয় ভাষা শহীদদের।
লেখক: সোহেল আহমেদ।












