দৈনিক বরিশাল ২৪সেদিন শুক্রবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, যেভাবে শুরু হ্রদয়ে রক্তক্ষরন | দৈনিক বরিশাল ২৪

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০ ৯:২৯ অপরাহ্ণ
A- A A+ Print

সেদিন শুক্রবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, যেভাবে শুরু হ্রদয়ে রক্তক্ষরন

সোহেল আহমেদঃ সেদিন শুক্রবার। ২৪ ফেব্রুয়ারির কালো অধ্যায়ের সুচনা! সকাল ১১ টার দিকে। ফেসবুক অন করতেই সহকর্মী শাহিন সুমনের স্টাটাস ভেসে উঠল মোবাইলের স্কিনে! সাংবাদিক মীর মনিরুজ্জামান অসুস্থ। ফেসবুক ছেড়ে গুরুর ব্যবহৃত ফোনে কল দিলাম। রিং বাজছে, ওই প্রান্ত থেকে কল রিসিভ হচ্ছে না। অসুস্থতার সংবাদ শুনে যতটা খারাপ লেগেছে কল রিসিভ না হওয়াতে তারচেয়ে বেশি খারাপ লাগা শুরু হলো।

শাহিনের নিকট ফোন করে জানলাম হাসপাতালে সবারই ব্যস্ততা। ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য গুরু মীর মনিরুজ্জামান কে ঢাকায় প্রেরণ করতে বলছেন। মনটাকে বুঝাতে পারলাম না। আবার গুরুর ফোনে কল। এবার রিসিভ হলো। কিন্তু গুরু ধরবেন না তাকি জানতাম? ভাবি রিসিভ করে বলল,সোহেল ভাই আপনার ভাইয়ের জন্য দোয়া করেন। তার অবস্থা ভালো নয়। সংক্ষেপে আরও জানতে চেস্টা করলাম গুরুর অসুস্থতা সম্পর্কে। বিপদের সময় এই প্রান্ত থেকে আমার ফোনে কথা বলা ভাবিকে বিরক্তিকর মনে হচ্ছে। তবুও কি করব মনকে তো মানাতে পারছি না। এই কয়েক মাস আগেও যে ভালো মানুষটিকে তার ব্যবসায়ী ক কার্যালয় দেখে এলাম। একসাথে কত আশা প্রত্যাশার কথা বলে এলাম। পাশের দোকান থেকে আনা চা খেলাম। তিনি যে মৃত্যুপথের যাত্রী হতে চলেছেন তাতো একটি বারের জন্যও মনের ভেতর কল্পনাতেও আসে নি।

গুরুর অসুস্থতার জন্য জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে সৃস্টিকর্তার নিকট দোয়া চাইলাম। বাসায় ফিরে ভাত আর খেলাম না। আবার গুরুর নম্বরে ফোন দিলাম। ভাবিকে জানতে চাইলাম এখন কি অবস্থা? ভাইয়াকি কথা বলতে পারছেন? ভাবি বলল না,ভালো নয়। বুকে ব্যাথাটি বেরেছে। যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন গুরু,আমি একটু আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। ভাবিকে অনুরোধ করলাম। আমার কলটি যেনো রিসিভ করেন। আমিতো দুরে। না পারছি দেখতে,না পারছি গুরুর বিপদের দিনে পাশে থেকে একটু সেবা করতে। গুরু আমার চলে যাচ্ছেন এটাও তো দুর থেকে অনুভব করতে পারছি না।

তার সুস্থতার জন্য সকলের দোয়া চেয়েএকটি লেখা পোস্ট করার জন্য টাইপ শুরু করলাম। কিছুতেই যেনো সে লেখাটি সমাপ্ত হচ্ছেনা। তাহলে কি মনের আবেগটি বুঝতে পেরেছিলো যে,আজই আমার সাংবাদিক জগতের কালো অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে? বাস্তব জীবনের এক একটি বিষশন লিখতে লিখতে আমি ক্লান্ত। আমার দেহ দুরে। মনেহচ্ছে লিখছি সেই চিরোচেনা পত্রিকা অফিসে। আমার লেখার একপর্যায় আবার কল দিলাম। গুরু এবার ঢাকার উন্নত চিকিৎসার জন্য পথে। ভাবি বলল আমরা ভাঙ্গা নামক স্থানে রয়েছি। আপনার ভাই’ অবস্থা বেশি ভালো নয়। বমি করছে। আমি কি আহম্মক? গুরুর বমি করার শব্দ আর আর্তনাদ এবার শুনেও ভাবিকে বললাম,ভাইয়ার সাথে একটু কথা বলতে পারব? ভাবি বলল, বমি কমলে তারপর দেখি বলতে পারবেন কি না! ভাবি তখনও স্বাভাবিক মনোবল নিয়ে এ্যম্বুলেন্সে। তবে সেই এ্যাম্বুলেন্সে অক্্রিজেন ছিলো না। ভাবি এটাই বলেছিলেন। থাকলে ভাইয়ার অনেক উপকার হত।

ফোন কেটে দিয়ে আবার লেখা শুরু করলাম। বিকেল তখন চারটার মত। পোস্ট দিলাম গুরুর জন্য দোয়া প্রার্থনা করা লেখাটি। এই লেখাটিই যে শেষ প্রার্থনা মুলক লেখা তখনও ভেবেছিলাম?

ফেসবুকের পাতায় হঠাৎ সাংবাদিক জিয়া শাহিন এর স্টাটাসে আমার সব শেষ হয়ে গেলো। সাংবাদিক মীর মনিরুজ্জামান আর নেই। এই স্টাটাসে হ্রদয়ে কম্পন শুরু হলো। ফোন দিলাম গুরুর নম্বরে। এবার ভাবি আর কল ধরলেন না। কেনোইবা ধরবেন? একজন নারীর কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে মুল্যবান সম্পদ তার স্বামীর অকাল প্রস্থান। এর চেয়েও কি করুণ সময় আর আছে? শাহিন সুমনকে ফোন দিলাম। কাঁদতে কাঁদতে বলল মামা আর নেই।

জীবনের কঠিন বাস্তবতায় বিপদের সম্মখিন আমি। কি বলব কাকে,কেইবা আমায় একটু শান্তনা দিবে। সারাদিন অনাহারে থাকা আমি এবার কোলাহলপুর্ণ শহরের রাস্তায় পাগলেরর মত ঘুরছি। চোখের জ্বল আটকাতেই রাস্তায় এদিক সেদিক তাকিয়ে নিজেকে কন্ট্রোল করতে চাইলাম। কই পারছিলাম না। গুরুর সমস্ত পরামর্শ গুলো ভেসে আসছে। আর মনেকরিয়ে দিচ্ছে সোহেল আহমেদ তোমার জীবনের স্বপ্নদ্রষ্টার বিদায় হয়েছে। মেনে নাও,মেনে নাও!!!!

দৈনিক বরিশাল ২৪

সেদিন শুক্রবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, যেভাবে শুরু হ্রদয়ে রক্তক্ষরন

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০ ৯:২৯ অপরাহ্ণ

সোহেল আহমেদঃ সেদিন শুক্রবার। ২৪ ফেব্রুয়ারির কালো অধ্যায়ের সুচনা! সকাল ১১ টার দিকে। ফেসবুক অন করতেই সহকর্মী শাহিন সুমনের স্টাটাস ভেসে উঠল মোবাইলের স্কিনে! সাংবাদিক মীর মনিরুজ্জামান অসুস্থ। ফেসবুক ছেড়ে গুরুর ব্যবহৃত ফোনে কল দিলাম। রিং বাজছে, ওই প্রান্ত থেকে কল রিসিভ হচ্ছে না। অসুস্থতার সংবাদ শুনে যতটা খারাপ লেগেছে কল রিসিভ না হওয়াতে তারচেয়ে বেশি খারাপ লাগা শুরু হলো।

শাহিনের নিকট ফোন করে জানলাম হাসপাতালে সবারই ব্যস্ততা। ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য গুরু মীর মনিরুজ্জামান কে ঢাকায় প্রেরণ করতে বলছেন। মনটাকে বুঝাতে পারলাম না। আবার গুরুর ফোনে কল। এবার রিসিভ হলো। কিন্তু গুরু ধরবেন না তাকি জানতাম? ভাবি রিসিভ করে বলল,সোহেল ভাই আপনার ভাইয়ের জন্য দোয়া করেন। তার অবস্থা ভালো নয়। সংক্ষেপে আরও জানতে চেস্টা করলাম গুরুর অসুস্থতা সম্পর্কে। বিপদের সময় এই প্রান্ত থেকে আমার ফোনে কথা বলা ভাবিকে বিরক্তিকর মনে হচ্ছে। তবুও কি করব মনকে তো মানাতে পারছি না। এই কয়েক মাস আগেও যে ভালো মানুষটিকে তার ব্যবসায়ী ক কার্যালয় দেখে এলাম। একসাথে কত আশা প্রত্যাশার কথা বলে এলাম। পাশের দোকান থেকে আনা চা খেলাম। তিনি যে মৃত্যুপথের যাত্রী হতে চলেছেন তাতো একটি বারের জন্যও মনের ভেতর কল্পনাতেও আসে নি।

গুরুর অসুস্থতার জন্য জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে সৃস্টিকর্তার নিকট দোয়া চাইলাম। বাসায় ফিরে ভাত আর খেলাম না। আবার গুরুর নম্বরে ফোন দিলাম। ভাবিকে জানতে চাইলাম এখন কি অবস্থা? ভাইয়াকি কথা বলতে পারছেন? ভাবি বলল না,ভালো নয়। বুকে ব্যাথাটি বেরেছে। যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন গুরু,আমি একটু আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। ভাবিকে অনুরোধ করলাম। আমার কলটি যেনো রিসিভ করেন। আমিতো দুরে। না পারছি দেখতে,না পারছি গুরুর বিপদের দিনে পাশে থেকে একটু সেবা করতে। গুরু আমার চলে যাচ্ছেন এটাও তো দুর থেকে অনুভব করতে পারছি না।

তার সুস্থতার জন্য সকলের দোয়া চেয়েএকটি লেখা পোস্ট করার জন্য টাইপ শুরু করলাম। কিছুতেই যেনো সে লেখাটি সমাপ্ত হচ্ছেনা। তাহলে কি মনের আবেগটি বুঝতে পেরেছিলো যে,আজই আমার সাংবাদিক জগতের কালো অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে? বাস্তব জীবনের এক একটি বিষশন লিখতে লিখতে আমি ক্লান্ত। আমার দেহ দুরে। মনেহচ্ছে লিখছি সেই চিরোচেনা পত্রিকা অফিসে। আমার লেখার একপর্যায় আবার কল দিলাম। গুরু এবার ঢাকার উন্নত চিকিৎসার জন্য পথে। ভাবি বলল আমরা ভাঙ্গা নামক স্থানে রয়েছি। আপনার ভাই’ অবস্থা বেশি ভালো নয়। বমি করছে। আমি কি আহম্মক? গুরুর বমি করার শব্দ আর আর্তনাদ এবার শুনেও ভাবিকে বললাম,ভাইয়ার সাথে একটু কথা বলতে পারব? ভাবি বলল, বমি কমলে তারপর দেখি বলতে পারবেন কি না! ভাবি তখনও স্বাভাবিক মনোবল নিয়ে এ্যম্বুলেন্সে। তবে সেই এ্যাম্বুলেন্সে অক্্রিজেন ছিলো না। ভাবি এটাই বলেছিলেন। থাকলে ভাইয়ার অনেক উপকার হত।

ফোন কেটে দিয়ে আবার লেখা শুরু করলাম। বিকেল তখন চারটার মত। পোস্ট দিলাম গুরুর জন্য দোয়া প্রার্থনা করা লেখাটি। এই লেখাটিই যে শেষ প্রার্থনা মুলক লেখা তখনও ভেবেছিলাম?

ফেসবুকের পাতায় হঠাৎ সাংবাদিক জিয়া শাহিন এর স্টাটাসে আমার সব শেষ হয়ে গেলো। সাংবাদিক মীর মনিরুজ্জামান আর নেই। এই স্টাটাসে হ্রদয়ে কম্পন শুরু হলো। ফোন দিলাম গুরুর নম্বরে। এবার ভাবি আর কল ধরলেন না। কেনোইবা ধরবেন? একজন নারীর কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে মুল্যবান সম্পদ তার স্বামীর অকাল প্রস্থান। এর চেয়েও কি করুণ সময় আর আছে? শাহিন সুমনকে ফোন দিলাম। কাঁদতে কাঁদতে বলল মামা আর নেই।

জীবনের কঠিন বাস্তবতায় বিপদের সম্মখিন আমি। কি বলব কাকে,কেইবা আমায় একটু শান্তনা দিবে। সারাদিন অনাহারে থাকা আমি এবার কোলাহলপুর্ণ শহরের রাস্তায় পাগলেরর মত ঘুরছি। চোখের জ্বল আটকাতেই রাস্তায় এদিক সেদিক তাকিয়ে নিজেকে কন্ট্রোল করতে চাইলাম। কই পারছিলাম না। গুরুর সমস্ত পরামর্শ গুলো ভেসে আসছে। আর মনেকরিয়ে দিচ্ছে সোহেল আহমেদ তোমার জীবনের স্বপ্নদ্রষ্টার বিদায় হয়েছে। মেনে নাও,মেনে নাও!!!!

প্রকাশক: মোসাম্মাৎ মনোয়ারা বেগম। সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা। সম্পাদক : শামিম আহমেদ যুগ্ন-সম্পাদক : মো:মনিরুজ্জামান। প্রধান উপদেষ্টা: মোসাম্মৎ তাহমিনা খান বার্তা সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম ।
প্রধান কার্যালয় : রশিদ প্লাজা,৪র্থ তলা,সদর রোড,বরিশাল।
সম্পাদক: 01711970223 বার্তা বিভাগ: 01764- 631157
ইমেল: sohelahamed2447@gmail.com
  ভোলার লঞ্চঘাটে কেউ মানছে না স্বাস্থ্যবিধি   ওয়াসিম আকরাম কখনও আমার জুতা টানেননি: শোয়েব   ফজিলাতুননেছা মুজিব ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর: প্রধানমন্ত্রী   লাইফ সাপোর্টে সুরকার আলাউদ্দিন আলী   করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মাশরাফির বাবা, মা   কাশিমপুর থানা পুলিশের সফল অভিযান, ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক   বরিশালে পুলিশের অভিযানে চোরাই মোবাইল সহ আটক-৭   বরিশালে আরও ২৬ জন করোনা আক্রান্ত   চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেড় কোটি টাকার হেরোইনসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব   বরগুনার আমতলীতে দু পক্ষের সংঘর্সে একজন নিহত   বেনাপোল সীমান্তে ফেন্সিডিলসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক   ১০০ ছাড়িয়েছে বৈরুত বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা, দেশজুড়ে শোকের ছায়া   মনপুরায় ১৩ বস্তা ভিজিডির চালসহ একজন আটক   যশোরের শার্শায় পদ্ম ফুলের চাষ করে সিরাজুল ইসলামের ভাগ্য বদল   বসুন্ধরা কিংসে নতুন চমক ব্রাজিলের রবিনহো    জোয়ারের পানিতে চরফ্যাশনের চরাঞ্চল প্লাবিত   বরিশালে পুলিশের অভিযানে চোরাই ট্রলিগাড়ি সহ চক্রের সদস্য আটক   ৮ আগস্ট কওমি মাদরাসা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত স্থগিত   চট্টগ্রামের জনপ্রিয় পুলিশ কর্মকর্তা মো: মহসীন করোনায় আক্রান্ত   করোনাকালে একমাত্র জাতীয় পার্টিই মাঠে আছে: জিএম কাদের