ধান কাটা বিনোদন
ইকবাল হোসেন তাপসঃ
আমি তখন দশম শ্রেণীর ছাত্র । আমাদের গ্রামের মগরব আলীর বিবাহ যোগ্যা একটি কন্যা ছিল। দেখতে খুব খারাপ না হলেও কুচ বর্ণ নিগ্র ধাঁচের চেহারা। অন্য দিকে মগরব আলীর একটু হাতের দোষ আছে বলে জন শ্রুতি ছিল । মেয়েটির বিয়ে হচ্ছিলো না, তার উপর বিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য নাই মগরব আলীর।
একদিন আমাদের গ্রামেরই এক জন মেয়েটিকে বিয়ে করতে রাজি হলেন। কিন্তু তার শর্ত মতে পঞ্চাশ জন মেহমান খাওয়ানোর সমর্থ মগরব আলীর ছিল না । সে সময় গ্রামে আমদের একটা কিশোর গ্যাং ছিল। আমিও সেই গ্যাং এর একজন সদস্য মগরব আলীর সমস্যা আমাদের কাছে আসলো। আমারা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম যে ভাবেই হউক মগরব আলীর মেয়ের বিয়ে দিতেই হবে। কিন্তু টাকার যোগান কিভাবে হবে।
আমাদের গ্যাং এর সব চেয়ে চতুর দাঁত নাই বারেক বললো আমারা সবাই মিলে অন্যর খেতে কাজ করব। তখন ছিল ধান কাটার মৌসুম। তখনকার সময় আমাদের গ্রামে একটা প্রচলন ছিল যার নাম বেগার দেওয়া। বেগার মানে হল বিনা পারিশ্রমিকে অন্যকে কাজ করে দেওয়া যার বিনিময়ে মালিক ধুমধাম করে একবেলা খাবার খাওয়াতেন ।
আমারা ছিলাম সংখ্যায় ৮/১০ জন । আমাদের গ্রামের বড় গিরস্থ মন্সুর খান সাহেব কে আমাদের অভিপ্রায়ের কথা জানালাম বললাম আমরা আপনার সব ধান কেটে দিবো বিনিময়ে আপনি মগরব আলীর মেয়ের বরযাত্রীর পঞ্চাশজন কে এক বেলা খাওয়াবেন। আমারা যথারীতি দুইদিন মন্সুর আলী খানের ধান কেটে দিলাম বিনিময়ে ধুমধাম করে মগরব আলীর মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলো। সেকি আনন্দ কিন্তু ক্যামেরা ও ফেইসবুক না থাকায় আপনাদেরকে তা দেখাতে পারলাম না। রাজনৈতিক নেতাদের ধান কাঁটা বিনোদন দেখে বহু পুরান ঘটনা মনে পড়ে গেল।
একটা কথা হলপ করে বলতে পারি কাজটা করে যে আনন্দ পেয়েছিলাম তা জীবনে ভুলার মতো নয় বিধায় ঘটনাটা আজও মনে আছে । গত কয়েকদিন ধরে ফেইসবুক ও টেলিভিশন সংবাদে দেখলাম কিছু মানসিক দৈন্যদশা গ্রস্থ রাজনিতিক ধান কেটে ফেইসবুকে দিয়ে জনদরদী সাজার চেষ্টা করছেন। তাদের মধ্যে দু একজন সংসদ সদস্যও রয়েছেন।
এক বারও চিন্তা করেন নাই সেই ধান কাঁচা না পাকা আর এই ধান কাঁটাতে কৃষকের আদৌ লাভ হল না লোকসান হল। এই সকল নির্বোধের নাম ও ছবি ফেইসবুকে প্রকাশ হওয়ার পর একটা বিষয় জানতে পাড়লাম যে এত দিন সন্ত্রাসীদের নাম শুনেছি পিচ্ছি হান্নান, কালা জাহাঙ্গীর, বাইটটা সামিম, ল্যাংরা বাচ্ছু… এখন দেখছি সংসদ সদস্যর নামও …ছোট……।
জনগণ যদি তার প্রতিনিধিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে না পারেন তার ফল এমনই হবে সেটা নিশ্চয়ই এতদিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুভব করতে পেরেছেন। আমার এক বন্ধু ফোন করে বললেন তিনি নাকি খুব বিপদে আছেন এমনিতেই অসুস্থ তার উপড়ে করোনা ভয় । একদম বাসা থেকে বেড় হতে পারছেন না । তার চুল দাঁড়ি নাকি অনেক বড় হয়ে গিয়েছে ঘুব বিরক্ত লাগছে।
চারিদিকে ধান কাটার বেগার দেখে বললেন একটা চুল কাটার সার্ভিস যদি চালু হত তাহলে নাকি তার বেশ উপকার হতো। সাথে এও বললেন সেই চুলকাটার ছবি ফেইসবুকে দিলেও তার কোন আপত্তি থাকবে না।
লেখকঃ ইকবাল হোসেন তাপস, যুগ্ন-মহাসচিব, জাতীয় পার্টি।












