সত্যিই সেলুকাস, বিচিত্র এই দেশ !
ইকবাল হোসেন তাপসঃ
করোনা সঙ্কটের মধ্যে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মত বাহিরে বেড় হয়েছিলাম । এই বেড় হওয়ার জন্য দায়ি পোশাক কারখানা। আমার মতো যারা পোশাক কারখানার সাথে পরোক্ষ ভাবে জড়িত তাদেরকেও বের হতে হয়েছে ইচ্ছার বিরুদ্ধে । সামাজিক দূরত্ব রক্ষা ও নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিজেই গাড়ী চালানোর সিদ্ধান্ত নিলাম।যেতে হবে আদমজী ইপিজেড রাস্তা বেশ ফাকাই বলা যায় তবে রিকশা উৎপাত চোখে পরার মতন ছিল আইন কানুনের বালাই নাই যে যার মত চলছে।
পথে নানান দৃশ্য দেখছি আর আনমনে ভাবছি আমারা আজ মধ্যম আয়ের দেশ, উন্নয়নে সিঙ্গাপুরকে ধরে ফেলেছি আরও কত কিছু ঠিক এমন সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিন দিকটা চান খাঁর পুলের ঠিক আগে হটাৎ মনে হল চাঁদের দেশের কোন এক নভোচারী মাটিতে নেমে এসেছেন। কিছু ক্ষণের জন্য মনে হচ্ছিলো নিজেই মনে হয় চাঁদে পৌঁছে গিয়েছি। কিন্তু উল্টা দিক দিয়ে একটা ইঞ্জিন লাগানো রিক্সা সাঁই সাঁই করে এসে আর একটু হলেই আমাকে মেরে দিচ্ছিল।
নির্বোধের গায়ে ইঞ্জিন লাগালে যেটা হয় । জোড়ে ব্রেক করারা পড়ে দেখলাম চাঁদের দেশের কোন নভচারি নয় । আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পিপিপি ( পিপিই ) পরিধান করে একজন করোনা বিজয়ী হেটে যাচ্ছেন। অন্য দিকে রাস্তায় হাজারও মানুষ নাকের উপর একটুকরা কাপড় লাগিয়ে সরকারের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন।আসলে দেশটার কোথায় যে কি ঘটছে বুঝাই মুশকিল। বিচিত্র এই দেশ!
টেলিভিশনে রাস্তা ঘাটে চলাচলে অনেক কড়াকড়ি দেখা যায় । সেদিন দেখলাম কোনো এক টেলিভিশন কর্মী এক বাজারের লাইভ দেখলাচ্ছিলেন। পাশেই সেনা বাহিনীর এক কর্মকর্তা হ্যান্ড মাইকে চিৎকার করে জনগণকে সচেতনতা মূলক নির্দেশনা দিয়েই চলছেন পাশে একটা টেলিভিশন লাইভ চলছে থোরাই পরওয়া নাই । দেখে মনে হচ্ছিলো তেনারা ভীষণ পরিশ্রম করছেন আর টেলিভিশন কর্মী কি বলতে চাচ্ছেন তা মাইকের আওয়াজে উধাও । আজকে সচেতনতার বিন্দু বিসর্গও কোথাও চোখে পড়ল না।
রাস্তার লোকজন কারো কারো শারীরিক ভঙ্গিতে মনে হচ্ছিলো সরকার অহেতুক জুজুর ভয় দেখাচ্ছেন কিছু মানুষ আছেন কোন কিছু না বুঝেই নাকের উপর এক টুকরো কাপড় লাগিয়ে ঘুরছে। অপর দিকে কেউ আবার চাঁদে যাওয়ার সুযোগ জীবনে আসবেনা ভেবে এই সুযোগে চাঁদের ড্রেসটা পড়ে ফেলছেন। আবার কেউ কেউ এই পোশাক ফুটপাতে বিক্রিও করছে। ভাবতে অবাক লাগছে যেখানে হাসপাতালে পি পি ই ঠিক মতো সরবার নাই সেখানে কিছু আহমক ফুটপাতের পি পি ই পড়ে রাস্তায় হাটে।
অদ্ভুত এক জাতী আমারা শীত কালে দেখা যায় কেহ কেহ দিব্যি লুঙ্গি আর পাতলা একটা পাঞ্জাবি বা গেঞ্জি পড়ে ঘুরছেন, পাশাপাশি কেউ আবার গায়ে চাদর গলায় মাফ্লার,মাথায় কান টুপি পরেছেন , অথচ নীচে লুঙ্গির তার নীচে ফাকা । কেউ কেউ আবার ছুটকোট , কেউ আবার এমন সব জ্যাকেট পড়ে বেড় হয় যা দেখে শীত না বরফ পরছে বুঝা মুশকিল । সব কিছু দেখে ভিনদেশী যে কেহ বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন । ভাবতে পারেন এদেশে কি শীতকাল, নাকি বরফ কাল নাকি বসন্ত কাল । আজব জাতী লুঙ্গির নীচ দিয়ে ঠাণ্ডা বাতাস একদম পোঁদে ঢুকছে ওদিকে মাথায় মাফ্লার আর কান টুপি ।
সারা দেশে পোশাক কর্মীদের নিয়ে এক অমানবিক সারকাস চলছে। একবার যান বাহন বন্ধ করে বাড়ি পাঠালো । আবার ফিরে আসতে বাধ্য করল । আবার বাড়ি পাঠালো । এখন আবার কারখানা গুলো ঘুলে দিলো অথছ পরিবহন চলাচল বন্ধ। আবার এই অসাহয় নির্বোধ প্রানি গুলো নাকে একটুকরা কাপড় লাগিয়ে ঢাকায় আসছে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য। আর অন্য দিকে কিছু নির্বোধ চাঁদের দেশের ড্রেস পড়ে বাজারে যায়। ঠিক যেনে লুঙ্গির নীচ দিয়ে পোঁদে করোনা ঠুকানোর মত।
প্রধান মন্ত্রীর তাহাজ্জুত নামাজ আর আল্লাহর রহমতের দোহাই দিয়ে যদি পার হয়ে যাওয়া যায় তাহলেতো ভালই। আর যদি তা না হয় তা হলে আগামী দিনে পোশাক কারখানায় কাজ করার মতো লোক খুঁজে পেতে সমস্যা হয়ে যেতে পারে।
লেখকঃ ইকবাল হোসেন তাপস, যুগ্ন-মহাসচিব, জাতীয় পার্টি।












