যেসব আমলে সওয়াব বহুগুণ বেড়ে যায় - দৈনিক বরিশাল ২৪ দৈনিক বরিশাল ২৪যেসব আমলে সওয়াব বহুগুণ বেড়ে যায় - দৈনিক বরিশাল ২৪

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ০৪, ২০২৬ ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
A- A A+ Print

যেসব আমলে সওয়াব বহুগুণ বেড়ে যায়

৪৬
অনলাইন নিউজঃ  রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন কিছু আমল আমাদের শিখিয়েছেন, যেগুলো পালন করা সহজ। সামান্য পরিশ্রমসাধ্য হলেও এগুলোর সওয়াব অনেক বেশি।

এসব আমল জীবনে বরকত ও বেশি সওয়াব অর্জনের সুযোগ করে দেয়। এগুলোকে ‘বহুগুণ সওয়াবের আমল’ বলা যেতে পারে।চলুন, এর কয়েকটি আমল জেনে নিই। এ বিষয়ে যারা আগ্রহী, তারা যেন নেক আমলের ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে।

১. উত্তম চরিত্র : আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মিজানে (পরকালের দাঁড়িপাল্লায়) উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী কোনো আমল নেই।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৯৯)

২. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ু বৃদ্ধি করা হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০৬৭)

৩. ইমামের সঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জামাতে নামাজ একাকী নামাজের চেয়ে ২৭ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৬)

৪. বাড়িতে নফল নামাজ আদায় করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজ ছাড়া মানুষের সর্বোত্তম নামাজ হলো তার ঘরে আদায় করা নামাজ।

’ (বুখারি, হাদিস : ৭২৯০)৫. মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে নামাজ পড়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার এই মসজিদে এক নামাজ অন্য মসজিদে এক হাজার নামাজের চেয়ে উত্তম; তবে মসজিদুল হারাম এর ব্যতিক্রম। আর মসজিদুল হারামে এক নামাজ অন্যত্র এক লাখ নামাজের চেয়ে উত্তম।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ১৬১১৭; ইবনু হিব্বান, হাদিস : ১৬২০)

এ ছাড়া মসজিদে কুবায় নামাজ আদায়েরও বিশেষ ফজিলত আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করে মসজিদে কুবায় এসে নামাজ আদায় করে, তার জন্য একটি ওমরাহর সমান সওয়াব আছে।’ (নাসায়ি ও ইবনু মাজাহ)

৬. জুমার দিনের আদব পালন করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গোসল করে, উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে সকালে মসজিদে যায়, আগে আগে উপস্থিত হয়, ইমামের নিকটবর্তী হয় এবং অনর্থক কথা বলে না, তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও রাতের নামাজের সওয়াব রয়েছে।

’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৭)৭. সালাতুদ দুহা বা চাশতের নামাজ : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি জোড়ার ওপর প্রতিদিন সদকা রয়েছে। প্রত্যেক তাসবিহ সদকা, প্রত্যেক তাহমিদ সদকা, প্রত্যেক তাহলিল সদকা, প্রত্যেক তাকবির সদকা, সৎকাজের নির্দেশ দেওয়া সদকা এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করাও সদকা। আর চাশতের দুই রাকাত নামাজ এগুলোর পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়ে যায়।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭২০)

মানুষের শরীরে ৩৬০টি জোড় রয়েছে আর চাশতের সময় সূর্যোদয়ের প্রায় ১৫ মিনিট পর থেকে শুরু হয়ে জোহরের কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত থাকে।

৮. মসজিদে গিয়ে ফরজ নামাজ আদায় করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ফরজ নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে নিজ ঘর থেকে বের হয়, তার সওয়াব ইহরাম পরিহিত হাজির সওয়াবের মতো।’ আবু দাউদ, হাদিস : ৫৫৮)

৯. প্রথম কাতারে থাকার চেষ্টা করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথম কাতারের জন্য তিনবার এবং দ্বিতীয় কাতারের জন্য একবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। (ইবন মাজাহ, হাদিস : ৯৯৬)

১০. আজানের জবাব দেওয়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তারা (মুয়াজ্জিনরা) যা বলে, তোমরাও তা বলো। এরপর যখন শেষ করবে, তখন দোয়া করবে; তোমাকে তা দেওয়া হবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫২৪)

১১. হজ ও ওমরাহ করা অথবা অন্যকে এর জন্য সহযোগিতা করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পর পর হজ ও উমরা পালন করো। কারণ এগুলো দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮১০)

১২. মসজিদে ইলমের মজলিসে অংশগ্রহণ করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শুধু কোনো কল্যাণকর বিষয় শেখা বা শেখানোর উদ্দেশ্যে সকালে মসজিদের দিকে যায়, তার জন্য পূর্ণ হজ আদায়কারী ব্যক্তির সমান সওয়াব রয়েছে।’ (সহিহুত তারগিব, হাদিস : ৮৬; তাবারানি, হাদিস : ৭৪৭৩)

১৩. প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখে, তা যেন সারা বছর রোজা রাখার মতো।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৭৬২)

কারণ একটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ গুণ পর্যন্ত হতে পারে।

১৪. কোরআন তিলাওয়াত : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে। আর প্রতিটি নেকি ১০ গুণ করা হয়। আমি বলছি না যে ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মিম একটি অক্ষর।’’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৯১০)

১৫. বেশি সওয়াবের জিকির করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি বাক্য জিহ্বায় হালকা, মিজানে ভারী এবং রহমানের কাছে প্রিয় : ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৬৮২)

১৬. মুমিনদের জন্য ইস্তিগফার করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তার জন্য প্রত্যেক মুমিন পুরুষ ও নারীর বিনিময়ে একটি করে নেকি লিখে দেন।’ (সহিহুল জামি, হাদিস : ৬০২৬; তাবারানি, আল-মুজামুল কাবির ২৩/৩৭০)

১৭. মানুষের প্রয়োজন পূরণে সহযোগিতা করা : অন্যের কল্যাণে এগিয়ে আসা এবং অকল্যাণ থেকে নিজেকে বিরত রাখা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সালেম (রহ.) তাঁর বাবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। কাজেই সে তার ওপর নির্যাতন করবে না এবং তাকে অসহায় অবস্থায়ও ছেড়ে যাবে না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন মেটাবেন।

একইভাবে যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদ দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৯৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, ‘আমার কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে তার সঙ্গে হাঁটা আমার কাছে মসজিদে এক মাস ইতিকাফ করার চেয়েও প্রিয়।’ (সহিহুত তারগিব, হাদিস : ২৬২৩)

১৮. মৃত্যুর পরও যার সওয়াব অব্যাহত থাকে : কিছু আমল এমন আছে, যেগুলোর সওয়াব মানুষ মৃত্যুবরণ করার পরও অব্যাহত থাকতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘চার ব্যক্তির আমলের সওয়াব তাদের মৃত্যুর পরও চলতে থাকে : যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে সীমান্ত পাহারা দিতে গিয়ে মারা যায়; যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান শিক্ষা দেয় এবং তার দ্বারা আমল করা হয়, তার সওয়াব চলতে থাকে; যে ব্যক্তি কোনো সদকার ব্যবস্থা করে যায়, যত দিন তা থেকে উপকার নেওয়া হয় তত দিন তার সওয়াব চলতে থাকে; এবং যে ব্যক্তি এমন সৎ সন্তান রেখে যায়, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহুত তারগিব, হাদিস : ১১৪)

১৯. ইশরাকের নামাজ : ইশরাকের নামাজের বিশেষ ফজিলত রয়েছে।  রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করে, তারপর সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে বসে থাকে, এরপর দুই রাকাত নামাজ পড়ে, তার জন্য পূর্ণ হজ ও ওমরাহর সমান সওয়াব।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৫৮৬)

২০. সবরের ফজিলত : মহান আল্লাহ বলেন, ‘….ধৈর্যশীলদের অপরিমিত (অগণিত) পুরস্কার দেওয়া হবে।’ (সুরা : ঝুমার, আয়াত : ১০)

সুতরাং ছোট ও সহজ আমলকে কখনো তুচ্ছ মনে করা উচিত নয়। আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে সামান্য পরিশ্রমেও অনেক সওয়াব অর্জনের সুযোগ আছে।

দৈনিক বরিশাল ২৪

যেসব আমলে সওয়াব বহুগুণ বেড়ে যায়

রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
৪৬
অনলাইন নিউজঃ  রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন কিছু আমল আমাদের শিখিয়েছেন, যেগুলো পালন করা সহজ। সামান্য পরিশ্রমসাধ্য হলেও এগুলোর সওয়াব অনেক বেশি।

এসব আমল জীবনে বরকত ও বেশি সওয়াব অর্জনের সুযোগ করে দেয়। এগুলোকে ‘বহুগুণ সওয়াবের আমল’ বলা যেতে পারে।চলুন, এর কয়েকটি আমল জেনে নিই। এ বিষয়ে যারা আগ্রহী, তারা যেন নেক আমলের ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে।

১. উত্তম চরিত্র : আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মিজানে (পরকালের দাঁড়িপাল্লায়) উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী কোনো আমল নেই।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৯৯)

২. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ু বৃদ্ধি করা হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০৬৭)

৩. ইমামের সঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জামাতে নামাজ একাকী নামাজের চেয়ে ২৭ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৬)

৪. বাড়িতে নফল নামাজ আদায় করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজ ছাড়া মানুষের সর্বোত্তম নামাজ হলো তার ঘরে আদায় করা নামাজ।

’ (বুখারি, হাদিস : ৭২৯০)৫. মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে নামাজ পড়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার এই মসজিদে এক নামাজ অন্য মসজিদে এক হাজার নামাজের চেয়ে উত্তম; তবে মসজিদুল হারাম এর ব্যতিক্রম। আর মসজিদুল হারামে এক নামাজ অন্যত্র এক লাখ নামাজের চেয়ে উত্তম।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ১৬১১৭; ইবনু হিব্বান, হাদিস : ১৬২০)

এ ছাড়া মসজিদে কুবায় নামাজ আদায়েরও বিশেষ ফজিলত আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করে মসজিদে কুবায় এসে নামাজ আদায় করে, তার জন্য একটি ওমরাহর সমান সওয়াব আছে।’ (নাসায়ি ও ইবনু মাজাহ)

৬. জুমার দিনের আদব পালন করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গোসল করে, উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে সকালে মসজিদে যায়, আগে আগে উপস্থিত হয়, ইমামের নিকটবর্তী হয় এবং অনর্থক কথা বলে না, তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও রাতের নামাজের সওয়াব রয়েছে।

’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৭)৭. সালাতুদ দুহা বা চাশতের নামাজ : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি জোড়ার ওপর প্রতিদিন সদকা রয়েছে। প্রত্যেক তাসবিহ সদকা, প্রত্যেক তাহমিদ সদকা, প্রত্যেক তাহলিল সদকা, প্রত্যেক তাকবির সদকা, সৎকাজের নির্দেশ দেওয়া সদকা এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করাও সদকা। আর চাশতের দুই রাকাত নামাজ এগুলোর পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়ে যায়।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭২০)

মানুষের শরীরে ৩৬০টি জোড় রয়েছে আর চাশতের সময় সূর্যোদয়ের প্রায় ১৫ মিনিট পর থেকে শুরু হয়ে জোহরের কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত থাকে।

৮. মসজিদে গিয়ে ফরজ নামাজ আদায় করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ফরজ নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে নিজ ঘর থেকে বের হয়, তার সওয়াব ইহরাম পরিহিত হাজির সওয়াবের মতো।’ আবু দাউদ, হাদিস : ৫৫৮)

৯. প্রথম কাতারে থাকার চেষ্টা করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথম কাতারের জন্য তিনবার এবং দ্বিতীয় কাতারের জন্য একবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। (ইবন মাজাহ, হাদিস : ৯৯৬)

১০. আজানের জবাব দেওয়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তারা (মুয়াজ্জিনরা) যা বলে, তোমরাও তা বলো। এরপর যখন শেষ করবে, তখন দোয়া করবে; তোমাকে তা দেওয়া হবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫২৪)

১১. হজ ও ওমরাহ করা অথবা অন্যকে এর জন্য সহযোগিতা করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পর পর হজ ও উমরা পালন করো। কারণ এগুলো দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮১০)

১২. মসজিদে ইলমের মজলিসে অংশগ্রহণ করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শুধু কোনো কল্যাণকর বিষয় শেখা বা শেখানোর উদ্দেশ্যে সকালে মসজিদের দিকে যায়, তার জন্য পূর্ণ হজ আদায়কারী ব্যক্তির সমান সওয়াব রয়েছে।’ (সহিহুত তারগিব, হাদিস : ৮৬; তাবারানি, হাদিস : ৭৪৭৩)

১৩. প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখে, তা যেন সারা বছর রোজা রাখার মতো।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৭৬২)

কারণ একটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ গুণ পর্যন্ত হতে পারে।

১৪. কোরআন তিলাওয়াত : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে। আর প্রতিটি নেকি ১০ গুণ করা হয়। আমি বলছি না যে ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মিম একটি অক্ষর।’’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৯১০)

১৫. বেশি সওয়াবের জিকির করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি বাক্য জিহ্বায় হালকা, মিজানে ভারী এবং রহমানের কাছে প্রিয় : ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৬৮২)

১৬. মুমিনদের জন্য ইস্তিগফার করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তার জন্য প্রত্যেক মুমিন পুরুষ ও নারীর বিনিময়ে একটি করে নেকি লিখে দেন।’ (সহিহুল জামি, হাদিস : ৬০২৬; তাবারানি, আল-মুজামুল কাবির ২৩/৩৭০)

১৭. মানুষের প্রয়োজন পূরণে সহযোগিতা করা : অন্যের কল্যাণে এগিয়ে আসা এবং অকল্যাণ থেকে নিজেকে বিরত রাখা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সালেম (রহ.) তাঁর বাবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। কাজেই সে তার ওপর নির্যাতন করবে না এবং তাকে অসহায় অবস্থায়ও ছেড়ে যাবে না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন মেটাবেন।

একইভাবে যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদ দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৯৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, ‘আমার কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে তার সঙ্গে হাঁটা আমার কাছে মসজিদে এক মাস ইতিকাফ করার চেয়েও প্রিয়।’ (সহিহুত তারগিব, হাদিস : ২৬২৩)

১৮. মৃত্যুর পরও যার সওয়াব অব্যাহত থাকে : কিছু আমল এমন আছে, যেগুলোর সওয়াব মানুষ মৃত্যুবরণ করার পরও অব্যাহত থাকতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘চার ব্যক্তির আমলের সওয়াব তাদের মৃত্যুর পরও চলতে থাকে : যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে সীমান্ত পাহারা দিতে গিয়ে মারা যায়; যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান শিক্ষা দেয় এবং তার দ্বারা আমল করা হয়, তার সওয়াব চলতে থাকে; যে ব্যক্তি কোনো সদকার ব্যবস্থা করে যায়, যত দিন তা থেকে উপকার নেওয়া হয় তত দিন তার সওয়াব চলতে থাকে; এবং যে ব্যক্তি এমন সৎ সন্তান রেখে যায়, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহুত তারগিব, হাদিস : ১১৪)

১৯. ইশরাকের নামাজ : ইশরাকের নামাজের বিশেষ ফজিলত রয়েছে।  রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করে, তারপর সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে বসে থাকে, এরপর দুই রাকাত নামাজ পড়ে, তার জন্য পূর্ণ হজ ও ওমরাহর সমান সওয়াব।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৫৮৬)

২০. সবরের ফজিলত : মহান আল্লাহ বলেন, ‘….ধৈর্যশীলদের অপরিমিত (অগণিত) পুরস্কার দেওয়া হবে।’ (সুরা : ঝুমার, আয়াত : ১০)

সুতরাং ছোট ও সহজ আমলকে কখনো তুচ্ছ মনে করা উচিত নয়। আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে সামান্য পরিশ্রমেও অনেক সওয়াব অর্জনের সুযোগ আছে।

প্রকাশক: মোসাম্মাৎ মনোয়ারা বেগম। সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা। সম্পাদক : শামিম আহমেদ যুগ্ন-সম্পাদক : মো:মনিরুজ্জামান। প্রধান উপদেষ্টা: মোসাম্মৎ তাহমিনা খান বার্তা সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম ।
প্রধান কার্যালয় : রশিদ প্লাজা,৪র্থ তলা,সদর রোড,বরিশাল।
সম্পাদক: 01711970223 বার্তা বিভাগ: 01764- 631157
ইমেল: sohelahamed2447@gmail.com
  কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ইতিবাচক ভুমিকা জরুরী   বরিশালে শ্রমিকদল নেতা রাজ্জাক সরদার আর নেই, শোকে স্তব্ধ ২নং কাশিপুর   রোহিঙ্গাদের চিরকাল বাস্তুচ্যুত রাখতে চায় না বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী   বাঁশির সুরে তুমুল জনপ্রিয় শেখ সোলায়মান এবার নিয়ে এলেন ‘মানব জীবন’   বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ডিআইজি আবু রায়হান সালেহ্   পাঁচ দেশি মাছে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে বেশি কই মাছে   গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় এগিয়ে চলছে দেশ-তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী   চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত   জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান   গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুখবর দিলো কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন   চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ   বরিশালে আস্থার নাম সমাজসেবার মানবিক মুখ সাজ্জাদ পারভেজ   জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী   ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ, দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন   বরিশালে বিস্ফোরণ: চিপসের প্যাকেটের আড়ালে ‘বুবি ট্র্যাপ’   নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন নিষিদ্ধ   ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ   আর্থিক সংকটে সাংবাদিক কাজী জাহিদ, বাবার জীবন বাঁচাতে চাইলেন সহযোগিতা   প্রবাসফেরত অসুস্থ জামালকে রাস্তার পা‌শে ফেলে গেল স্ত্রী-সন্তান   ১৩০ বছর বয়সী মায়ের খেয়াল রাখেন ১০০ বছরের মেয়ে!