ভর্তিতে বিশেষ ছাড় সহ শিক্ষার্থীদের জন্য চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজে যত সুবিধা
সোহেল আহমেদ, দৈনিক বরিশাল২৪.কম: দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিশাল একটি অংশেরই বসবাস সাধারনত গ্রামে। শহরের উন্নত জীবনব্যবস্থা অপেক্ষাকৃত গ্রামে কম। যে কারনেই সরকার ধনী গরীবের মধ্যে জীবন জীবীকার এ ব্যবধান কমাতে গ্রামকে শহর বানানোর ঘোষানা করেছে। শহরের মানুষের মতই গ্রামে বসবাসকারী নিম্ন আয়ের মানুষগুলো আধুনিক সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করবে এমন লক্ষ্ নিয়ে কাজ করছে সরকার।
শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারের সে লক্ষ বাস্তবায়নে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার লাখুটিয়া সড়ক সংলগ্ন চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজ। অসহায় খেটে খাওয়া অভিভাবকদের আষ্থার প্রতিক হিসেবে কলেজটি ইতিমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কি কি সুযোগ সুবিধা দিয়ে কলেজটি এমন সুনাম অর্জন করল তা অনুসন্ধানে গিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে বেশ কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অভিভাবকদের প্রতি কলেজে সন্তানদের ভর্তিতে উতসাহিত করেন।
কলেজের গভার্নিং বডির সভাপতি ইকবাল হোসেন তাপস গ্রামের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শহরের না গিয়ে শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য উতসাহিত করেন। চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজ থেকে কমপক্ষে ৬/৭ কিলোমিটার দূরে বরিশাল শহরে যাতায়াতে খরচের কথা চিন্তা করে প্রতিষ্ঠান এর সভাপতি আর্থিক ভাবে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে এই কলেজে পড়ার সুযোগ করতে শিক্ষকবৃন্দকে অনুরোদ করেন।
চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজ থেকে চতুর্দিকে ৬/৭ কিলোমিটারের মধ্যে আর কোন কলেজ না থাকায় এ অন্চলের বসবাসকারী মানুষদের কাছে প্রায় বাড়ির পাশেই কলেজটির অবস্থান। যেখানে শিক্ষার্থীরা পায়ে হেটে কলেজে আসা যাওয়া করতে পারছে।
ভর্তির সময়ে একজন শিক্ষার্থীর বাহিরে থেকে আবেদন করতে যে টাকা খরচ হচ্ছে কলেজে এর অনলাইন থেকে করলে একশ টাকা কম লাগছে।
শুধু তাই নয়, কলেজে কোন ধরনের ভর্তি বানিজ্য কিংবা ভর্তিপরবর্তি সময়ে অযৌক্তিক কোন অযুহাতে টাকা পয়সার নেয়া হয়না। অস্বচ্ছল, অসহায় , দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে অনেকরই বেতন অর্ধেক করে দেয়া হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনেই পড়াশুনাকরার সুযোগ করে দিচে্ছে কলেজ কতৃপক্ষ।
সরকাররে দেয়া উপবৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রেও রয়েছে দারুণ স্বচ্ছতা। কোন ধরণের প্রভাবকে প্রশ্রয় না দিয়ে অত্যন্ত নিরোপেক্ষতার সাথে যারা উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী তাদেরকেই বাছাই করা হয়। সরকারের নির্দিষ্ট কোটায় পুরণ হয়ে গেলে কোন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি বঞ্চিত হলে কলেজ কতৃপক্ষ নিজেদের গঠিত আর্থিক তহবিল থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অর্থ সহযোগীতা করে পড়াশুনা সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
কলেজ এর এমন নানা ধরনের সুযোগ সুবিধার কারনে গত কয়েক বছরের মধ্যে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসীত হচ্ছে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজ। এছাড়াও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাঠদান করিয়ে বরিশাল শিক্ষাবোর্ড এর কাছেও জনপ্রিয় একটি প্রতিষ্ঠানের নাম চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজ।
কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং কলেজ সংলগ্ন মেইন সড়কের লাখুটিয়ার বিশাল বাজার থাকায় সার্বিক নিরাপত্তায় সন্তুষ্ট হয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড গত বছর চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজটিকে জেএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সেন্টার প্রদান করে। শিক্ষাবোর্ডের সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো: আনোয়ারুল আজিম সে সময় কেন্দ্র পরিচালানায় খুশি হয়ে কলেজ কতৃপক্ষের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, কলেজ অধ্যক্ষ মোসাম্মাাত তাহমিনা আকতার দৈনিক বরিশাল২৪.কম-কে বলেন, আমাদের অভিজ্ঞ শিক্ষক প্যানেল সার্বক্ষনিক শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আন্তরিক। একজন শিক্ষার্থী একদিন প্রতিষ্টানে অনুপস্থিত থাকলে সাথে সাথে আমরা যোগাযোগ করে খোজ খবর নেই। ছেলে মেয়েদের নৈতিক শিক্ষা প্রদানেও আমাদের শিক্ষকবৃন্দ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে অধ্যক্ষ তাহমিনা বলেন, শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চেয়ে লেখাপড়ার মানউন্নয়নে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজ কোন অংশে পিছিয়ে নেই।












