লকডাউনের প্রভাব নেই বেনাপোলে,পুলিশের কথা মানছেনা কেউ
ফারুক হাসান, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ লকডাউন ঘোষিত শার্শা উপজেলার সর্বত্র চলছে উৎসবের আমেজ। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে লোকজন। লকডাউনের ভাষা তাদের কাছে অচেনা। নূন্যতম কোন পরিবর্তন নেই বেনাপোল ও শার্শা নাভারন বাগআঁড়া এলাকার জনগনের মাঝে। দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে বাজারের অলি গলি। পুলিশের কথা কেউ শোনে না। পুলিশ লাঠি উচিয়ে ভয় দেখালেও সরে না মানুষ।
সেনা সদস্যদের দেখলে পালিয়ে গিয়ে আবার ফিরে এসে দখল করে নেয় রাস্তা। তবে সড়কের ইজিবাইক আর রিক্সাভ্যান চালকরা পুলিশ দেখে পালিয়ে গেলেও দুরে দাঁড়িয়ে পুলিশের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে তাঁরা। তাদের অভিযোগ, বাজার ভর্তি মানুষ কেনাকাটা করছে পুলিশ তাদের কিছু বলে যত দোষ গরীব রিক্সাভ্যান চালকদের।
দুপুর পর্য্যন্ত গলির মধ্য রিক্সাভ্যান চালিয়ে ১শ টাকা আয় হয় না, রিক্সাভ্যানের মহাজনদের দেব কি আমরা খাবো কি? একই অভিযোগ ইজিবাইক চালকদের। আবার এদিকে বাজারের অনেকেই বলছেন, তারা সরকার ঘোষিত ‘সাধারণ ছুটি’র সঙ্গে ‘লক ডাউন’ এর পার্থক্য খুঁজে পাননি। আগের মতই স্বাভাবিক নিয়মে চলছে বাজার ঘাট।
সকালে বেনাপোল বাজারে ঘুরে দেখা যায়, ঈদের আমেজ ঘটিয়ে লোকজন বাজারে কেনাকাটা করছে ও ঘুরে বেড়াচ্ছে।
লকডাউন ঘোষণার কারণে বাজারে মানুষের আনাগোনা তেমন কমেছে বলে দৃশ্যমান হয়নি।
লক ডাউনের কোন চিন্তা তাদের মধ্যে নেই। নেই কোন সামাজিক দূরত্ব। একে অপরের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আপন মনে কেনাকাটা করছে। করোনা কি সেটা যেন তাদের জানা নেই। আর করোনার প্রভাবে ভয়ংকর কিছু যে ঘটে যেতে পারে, সে ভাবনা তাদের মনে একটুও দাগ কাটেনি। পুলিশ পিকাপ বাজারময় টহল দিলেও, জনসাধারণের মাঝে কোন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও তৎপর অনেক বেশি থাকলেও বাজারের জনগন নির্বিকার। উপজেলা প্রশাসন ও বাজার কমিটির পক্ষ থেকে গণসচেতনতা মাইকিং করতে দেখা গেছে উপজেলার সবগুলো বাজারে। তারপরও থেমে নেই মানুষের সমাগম।
বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাজার কমিটির সাঃ সম্পাদক আলহাজ্ব বজলুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে সমগ্র যশোর ব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায়, গতকাল রবিবার ২৬ এপ্রিল এক জরুরি সভায় যশোর জেলাকে গত সোমবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লক ডাউন ঘোষণা করা হলেও মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না। বেনাপোল পৌরসভা সহ আশেপাশের গ্রামে মাইকিং করে জরুরী কাজ ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হবে না হবার জন্য প্রচারনা চালানো হচ্ছে। তবে জরুরী পরিসেবার মধ্যে চিকিৎসা সেবা, খাদ্য সরবারাহ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবস্থা চালু থাকবে।












