লকডাউনের সুযোগে চট্টগ্রামে রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে প্লট - দৈনিক বরিশাল ২৪ দৈনিক বরিশাল ২৪লকডাউনের সুযোগে চট্টগ্রামে রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে প্লট - দৈনিক বরিশাল ২৪

প্রকাশিতঃ জুন ০৮, ২০২০ ৬:২২ অপরাহ্ণ
A- A A+ Print

লকডাউনের সুযোগে চট্টগ্রামে রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে প্লট

৫৭

আব্দুল করিম, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: লকডাউন ও সরকারি অফিস বন্ধ থাকার সুযোগে দেদারসে পাহাড় কাটা চলছে নগরীর আকবরশাহ থানার জঙ্গল ছলিমপুর ও জঙ্গল লতিফপুরের মিরপুর আবাসিক এলাকায়।

দুই মাস ধরে রাতের আঁধারে কৌশলে পাহাড় কেটে প্লট তৈরি করা হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয়রা।এলাকাবাসী জানায়, দুই মাস ধরে চলছে পাহাড় কাটা। প্রতিদিন রাতে ১৫-২০ জন শ্রমিক দিয়ে কাটানো হচ্ছে পাহাড়। রাতে আঁধারেই ট্রাক ও ডাম্পার দিয়ে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পাহাড় কাটার মাটি ট্রাক ও ডাম্পারে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে।জঙ্গল ছলিমপুর ও জঙ্গল লতিফপুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জঙ্গল লতিফপুর সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কাটা হচ্ছে। তার সঙ্গে রয়েছে তার ভাই, ভাগ্নে বিশ্ব কলোনির মহিউদ্দিন।

কামাল উদ্দিনের একাধিক আত্মীয়স্বজনের বসতি রয়েছে জঙ্গল ছলিমপুর ও লতিফপুরে। পাহাড় কাটায় জড়িত রয়েছে জঙ্গল ছলিমপুরের আবদুল কাইয়ুম ও জঙ্গল লতিফপুরের মফিজুর রহমান। প্রত্যেকের নেতৃত্বে রয়েছে কিশোর বাহিনী। প্রশাসন থেকে শুরু করে কেউ পাহাড় কাটায় বাধা দিতে গেলে কিশোর বাহিনীর সদস্যরা বাধা সৃষ্টি করে।

অনেক সময় ত্রাস সৃষ্টি করে।দেখা যায়, দক্ষিণ খুলশীর জাহেদ হোসেনের পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে কাটা হয়েছে। জাহেদের নামে একটি সাইনবোর্ডও টাঙানো রয়েছে। খরিদা সূত্রে জাহেদ পাহাড়ের মালিক হিসেবে এই সাইনবোর্ড টাঙানো রয়েছে।লকডাউন ও সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর প্রশাসনিক কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ রয়েছে।

পাহাড় কাটা নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের অভিযান বন্ধ থাকার সুযোগে জঙ্গল ছলিমপুর ও জঙ্গল লতিফপুরে দেদারসে চলছে পাহাড় কাটা। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় প্রভাবশালীরা পাহাড় কেটে প্লট তৈরি করছে। ঘর নির্মাণ ও জায়গা বিক্রি করে চলেছে। এতে পাহাড় পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পাহাড় কাটা বন্ধ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও করোনাভাইরাস সংকটের কারণে তা অনেকটা বন্ধ রয়েছে। সেই সুযোগে নির্বিঘ চলছে পাহাড় কাটা।এলাকাবাসী জানায়, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটার পর চলতি বর্ষার বৃষ্টি বিভিন্ন স্থানে ধস সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড় ধসে বড় দুর্ঘটনা না ঘটলেও অনেক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাহাড় কাটা ও পাহাড় ধসের ছলিমপুরের ছড়াটি ভরাট হয়ে গেছে। এতে বৃষ্টি পানি পড়লেই নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে পানি ওঠে যায়।পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের এক উপ-পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে কার্যক্রম অনেকটা শিথিল হয়ে পড়েছে। এই সুযোগ পাহাড় কাটা হতে পারে।

তবে অভিযোগের পর পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।বাসিন্দারা জানায়, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাবশালীরা পাহাড় কাটা হচ্ছে। এ নিয়ে প্রভাবশালীরা ঘর নির্মাণ করে ভাড়া ও জায়গা বিক্রিও করে আসছেন। দখল-কর্তৃত্ব বজায় রাখা ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে প্রভাবশালীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে অনেকবার।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ১১ জুন পাহাড়ধসে নগরীতে একদিনে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর তৎকালীন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে শক্তিশালী পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি পাহাড়ধসের ২৮টি কারণ নির্ধারণ ও ৩৬ সুপারিশমালা প্রণয়ন করে।

এতে পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোরভাবে বলা হয়েছে। কিন্তু ২০০৭ সাল থেকে এখনো সেই সুপারিশমালা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বন্ধ হচ্ছে না পাহাড় কাটা।

দৈনিক বরিশাল ২৪

লকডাউনের সুযোগে চট্টগ্রামে রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে প্লট

সোমবার, জুন ৮, ২০২০ ৬:২২ অপরাহ্ণ
৫৭

আব্দুল করিম, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: লকডাউন ও সরকারি অফিস বন্ধ থাকার সুযোগে দেদারসে পাহাড় কাটা চলছে নগরীর আকবরশাহ থানার জঙ্গল ছলিমপুর ও জঙ্গল লতিফপুরের মিরপুর আবাসিক এলাকায়।

দুই মাস ধরে রাতের আঁধারে কৌশলে পাহাড় কেটে প্লট তৈরি করা হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয়রা।এলাকাবাসী জানায়, দুই মাস ধরে চলছে পাহাড় কাটা। প্রতিদিন রাতে ১৫-২০ জন শ্রমিক দিয়ে কাটানো হচ্ছে পাহাড়। রাতে আঁধারেই ট্রাক ও ডাম্পার দিয়ে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পাহাড় কাটার মাটি ট্রাক ও ডাম্পারে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে।জঙ্গল ছলিমপুর ও জঙ্গল লতিফপুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জঙ্গল লতিফপুর সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কাটা হচ্ছে। তার সঙ্গে রয়েছে তার ভাই, ভাগ্নে বিশ্ব কলোনির মহিউদ্দিন।

কামাল উদ্দিনের একাধিক আত্মীয়স্বজনের বসতি রয়েছে জঙ্গল ছলিমপুর ও লতিফপুরে। পাহাড় কাটায় জড়িত রয়েছে জঙ্গল ছলিমপুরের আবদুল কাইয়ুম ও জঙ্গল লতিফপুরের মফিজুর রহমান। প্রত্যেকের নেতৃত্বে রয়েছে কিশোর বাহিনী। প্রশাসন থেকে শুরু করে কেউ পাহাড় কাটায় বাধা দিতে গেলে কিশোর বাহিনীর সদস্যরা বাধা সৃষ্টি করে।

অনেক সময় ত্রাস সৃষ্টি করে।দেখা যায়, দক্ষিণ খুলশীর জাহেদ হোসেনের পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে কাটা হয়েছে। জাহেদের নামে একটি সাইনবোর্ডও টাঙানো রয়েছে। খরিদা সূত্রে জাহেদ পাহাড়ের মালিক হিসেবে এই সাইনবোর্ড টাঙানো রয়েছে।লকডাউন ও সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর প্রশাসনিক কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ রয়েছে।

পাহাড় কাটা নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের অভিযান বন্ধ থাকার সুযোগে জঙ্গল ছলিমপুর ও জঙ্গল লতিফপুরে দেদারসে চলছে পাহাড় কাটা। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় প্রভাবশালীরা পাহাড় কেটে প্লট তৈরি করছে। ঘর নির্মাণ ও জায়গা বিক্রি করে চলেছে। এতে পাহাড় পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পাহাড় কাটা বন্ধ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও করোনাভাইরাস সংকটের কারণে তা অনেকটা বন্ধ রয়েছে। সেই সুযোগে নির্বিঘ চলছে পাহাড় কাটা।এলাকাবাসী জানায়, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটার পর চলতি বর্ষার বৃষ্টি বিভিন্ন স্থানে ধস সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড় ধসে বড় দুর্ঘটনা না ঘটলেও অনেক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাহাড় কাটা ও পাহাড় ধসের ছলিমপুরের ছড়াটি ভরাট হয়ে গেছে। এতে বৃষ্টি পানি পড়লেই নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে পানি ওঠে যায়।পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের এক উপ-পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে কার্যক্রম অনেকটা শিথিল হয়ে পড়েছে। এই সুযোগ পাহাড় কাটা হতে পারে।

তবে অভিযোগের পর পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।বাসিন্দারা জানায়, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাবশালীরা পাহাড় কাটা হচ্ছে। এ নিয়ে প্রভাবশালীরা ঘর নির্মাণ করে ভাড়া ও জায়গা বিক্রিও করে আসছেন। দখল-কর্তৃত্ব বজায় রাখা ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে প্রভাবশালীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে অনেকবার।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ১১ জুন পাহাড়ধসে নগরীতে একদিনে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর তৎকালীন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে শক্তিশালী পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি পাহাড়ধসের ২৮টি কারণ নির্ধারণ ও ৩৬ সুপারিশমালা প্রণয়ন করে।

এতে পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোরভাবে বলা হয়েছে। কিন্তু ২০০৭ সাল থেকে এখনো সেই সুপারিশমালা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বন্ধ হচ্ছে না পাহাড় কাটা।

প্রকাশক: মোসাম্মাৎ মনোয়ারা বেগম। সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা। সম্পাদক : শামিম আহমেদ যুগ্ন-সম্পাদক : মো:মনিরুজ্জামান। প্রধান উপদেষ্টা: মোসাম্মৎ তাহমিনা খান বার্তা সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম ।
প্রধান কার্যালয় : রশিদ প্লাজা,৪র্থ তলা,সদর রোড,বরিশাল।
সম্পাদক: 01711970223 বার্তা বিভাগ: 01764- 631157
ইমেল: sohelahamed2447@gmail.com
  সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের রাস্তায় পেলে গ্রেপ্তার উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পারলে অভিভাবকদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে : ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী   এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, শুরু হতে পারে ২ ডিসেম্বর   বরিশাল প্রেসক্লাবের নতুন সদস্য পদ পেলেন ১১ সাংবাদিক   হালিশহর মডেল স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নতুন সভাপতি জাকের হোসেন সম্পাদক আশ্রাফ আলী   বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনই শিক্ষার্থীরা পাবে নতুন বই: শিক্ষামন্ত্রী   বরিশালে যুবদলের উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসুচি অনুষ্ঠিত   বরিশালে বাসচাপায় কাতার প্রবাসী নিহত   বর্ণিল আয়োজনে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত   ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু   ‘এই জার্সিটাই ছিল আমার জীবন, এত ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ’   কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে রাজনীতিবীদদের ইতিবাচক ভুমিকা জরুরী   বরিশালে শ্রমিকদল নেতা রাজ্জাক সরদার আর নেই, শোকে স্তব্ধ ২নং কাশিপুর   রোহিঙ্গাদের চিরকাল বাস্তুচ্যুত রাখতে চায় না বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী   বাঁশির সুরে তুমুল জনপ্রিয় শেখ সোলায়মান এবার নিয়ে এলেন ‘মানব জীবন’   বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ডিআইজি আবু রায়হান সালেহ্   পাঁচ দেশি মাছে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে বেশি কই মাছে   গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় এগিয়ে চলছে দেশ-তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী   চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত   জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান   গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুখবর দিলো কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন