সিরিজ জয় বাংলাদেশের
অনলাইন নিউজঃ সিলেট টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচে ব্যাট ও গ্লাভস হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন লিটন দাস। অন্যদিকে দুই টেস্ট জুড়েই ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ সিরিজসেরারপুরস্কার উঠেছে মুশফিকুর রহিমের হাতে।
প্রথম টেস্টে রান না পাওয়া লিটন দাসের ওপর একটা অদৃশ্য চাপ ছিল। সিলেটের প্রথম ইনিংসে দল যখন মাত্র ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে, তখন ক্রিজে আসেন তিনি। এরপর টেল-এন্ডারদের নিয়ে লড়াই করে ১৫৯ বলে ১৬টি চার ও ২টি ছক্কায় খেলেন ১২৬ রানের ইনিংস। তার এই সেঞ্চুরিতেই ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসেও দলের বিপর্যয়ে ৯২ বলে ৬৯ রানের আরেকটি ইনিংস খেলেন তিনি। দুই ইনিংস মিলিয়ে ব্যাট হাতে ১৯৫ রান করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে ৪টি চমৎকার ক্যাচ নেন লিটন।
পুরস্কার নেওয়ার পর নিজের ইনিংসটি নিয়ে লিটন বলেন, ‘গত দুই ইনিংসে আমি কোনো রান পাইনি, তাই যখন উইকেটে গিয়েছিলাম তখন কোনো চাপ ছিল না। কিন্তু হুট করেই কিছু উইকেট পড়ে গেল এবং আমি কিছুটা দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলাম যে এখন কী করা উচিত। তখন আমি অধিনায়কের সাথে কথা বলি এবং ও আমাকে পজিটিভ ক্রিকেট খেলার পরামর্শ দেয়। তাই আমি কেবল নিজের শক্তির ওপর ভরসা রাখার চেষ্টা করেছি। দুই-তিনটি চার মারার পর আমার মনে হলো এটা টেস্ট ক্রিকেট, তাই আমার কিছুটা সময় নেওয়া উচিত। তাছাড়া আকাশে বৃষ্টির একটা সম্ভাবনা ছিল, তাই ভাবলাম আমি যদি অন্তত ১০ থেকে ১৫ ওভার ব্যাটিং করে যেতে পারি, তবে ম্যাচের চিত্রটাই বদলে যাবে।’
টেল-এন্ডারদের নিয়ে ব্যাটিং প্রসঙ্গে লিটন বলেন, ‘আমি সিঙ্গেলস না নিয়ে ডট বল খেলে স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখছিলাম, যেন টেল-এন্ডাররা সুরক্ষিত থাকে। অন্য প্রান্তের ব্যাটাররা যতক্ষণ নিরাপদে থাকবে, আমিও ততক্ষণ নিরাপদ, এটাই ছিল ভাবনা।’
এটি ক্যারিয়ারের সেরা সেঞ্চুরি কি না এমন প্রশ্নে লিটনের উত্তর, ‘সম্ভবত। লেজের সারির ব্যাটারদের সাথে ব্যাটিং করা সহজ নয়, কারণ সব ফিল্ডার তখন বাউন্ডারি লাইনের বাইরে থাকে। তাছাড়া প্রথম দিনের উইকেটটা সহজ ছিল না এবং আউটফিল্ডও বেশ ধীরগতির ছিল।’
মিরপুর টেস্টে ফিফটি করার পর সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩৩ বলে ১৩৭ রানের রেকর্ড গড়া এক ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম। এই ইনিংসের পথেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এছাড়াও মুমিনুলকে টপকে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ (১৪টি) সেঞ্চুরির মালিক হন। দুই টেস্টের চার ইনিংস মিলিয়ে ২৫৩ রান করে সিরিজের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হিসেবে সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেন তিনি।
পুরস্কার হাতে উচ্ছ্বসিত মুশফিক নিজের চেয়ে সতীর্থ লিটনের সেঞ্চুরিকেই এগিয়ে রাখলেন। তিনি বলেন, ‘এই পুরস্কার অনেক বড় প্রাপ্তি, তবে কৃতিত্ব পুরো দলের। সততার সাথে বললে, প্রথম ইনিংসে লিটনের সেঞ্চুরিটা ছিল অসাধারণ। ওটাই আমাদের ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল এবং ড্রেসিংরুমের আবহ বদলে দিয়েছিল। আমরা সবাই তার জন্য লড়তে চেয়েছিলাম।’
ক্যারিয়ারের শেষ সময়েও এমন ক্ষুধার্ত থাকার রহস্য জানিয়ে মুশফিক বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি এখনো সুস্থ আছি এবং নিজের দেশের হয়ে খেলছি এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। কেউ চাইলেই তো আর দেশের হয়ে খেলার সুযোগ সহজে পেয়ে যায় না। এটার জন্য আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, যোগ্যতা অর্জন করতে হবে এবং মাঝমাঠে সেই পরিশ্রমের প্রমাণ দিতে হবে। আমি এখন আমার জীবনটা ভীষণ উপভোগ করছি, সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ।’












