শিক্ষার্থীদের ঘরের কাজে বাবা-মাকে সহযোগিতা আহবান করলেন ইউএনও
সোহেল আহমেদ: চলমান করোনা ভাইরাসে বিশ্বেরমত বাংলাদেশেও দিশেহারা হয়ে পরেছে কর্মব্যস্ত সাধারন মানুষ। লকডাউনে বিচ্ছিন্ন এক একটি অঞ্চল, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা। অনেক দিন ধরেই বন্ধ রয়েছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় সরকার মানুষের নিরাপত্তায় নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় ক্ষতি না হয় সেজন্য টেলিভিশনের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের ব্যাবস্থাও করেছে। তবে অপেক্ষাকৃত গ্রামগঞ্জের শিক্ষার্থীরা অনেকটাই এই ক্লাস সম্পর্কে কম অবগত বলে ধারনা করা হচ্ছে। বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুকে শিক্ষার্থীদের টেলিভিশনের ক্লাসগুলো দেখার আহবান জানিয়েছেন বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের জনপ্রিয় উপজেলা নির্বাহী পিজুস চন্দ্র দে। একই সাথে তিনি পড়াশুনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাবা-মাকে ঘরের কাজে সহযোগীতা করার উপরও গুরুত্বারোপ করেন। নিচে পাঠকদের জন্য তার লেখাটি হুবহুব তুলে ধরা হলো:
সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,
শুভেচ্ছা জেনো। আশা করি ভালো আছো৷
তোমরা জানো, সারা বিশ্বের মতো মহামারী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী নানাবিধ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন৷ আর এজন্যেই তোমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
করোনা একটি সংক্রামক ভাইরাস যা কোন আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাঁশির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এই সময়ে তোমাদেরকে অবশ্যই নিজ নিজ বাড়িতে খুব সাবধানে থাকতে হবে। বারবার সাবান দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। নিশ্চয়ই আমাদের সকলের সচেতনতা আর মহান স্রষ্টার কৃপায় আমরা অতি দ্রুত এ বিপদ থেকে মুক্তি পাবো।
তোমাদের পড়াশুনার যেন কোন ক্ষতি না হয় সেজন্য সদাশয় সরকার টিভিতে সংসদ বাংলাদেশ চ্যানেলে “আমার ঘরে আমার স্কুল” ও “ঘরে বসে শিখি” নামে দুইটি চমৎকার প্রোগ্রাম চালু করেছেন৷ নিশ্চয়ই তোমরা এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক পাঠদান কার্যক্রম উপভোগ করতে পারছো। মনে রাখবে, তোমরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই নিজেদের উপযুক্ত মানুষরূপে গড়ে উঠতে হবে। আর নিজেকে উপযুক্তরুপে গড়ে তুলতে হলে লেখাপড়ার কোন বিকল্প নেই৷ তাই এই সুযোগে ঘরে বসে নিজের পড়াশুনাটা চালিয়ে যেতে হবে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি দেশ বিদেশের বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস, জীবনী, বিজ্ঞান ও ইতিহাসভিত্তিক বই পড়তে পারো। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও নিজের দেশ সম্পর্কে জানতে হবে। ঘরের কাজে বাবা-মাকে সহযোগিতা করতে হবে৷ আশা করি অতি শীঘ্রই এই সংকট কেটে যাবে আর তোমরাও খুব তাড়াতাড়ি তোমাদের ক্লাসে ফিরতে পারবে।
আবার তোমরা দলবেঁধে স্কুলে যাবে, লেখাপড়া করবে, বিকেলে মাঠে প্রাণভরে খেলাধুলা করবে; শীঘ্রই তোমাদের কলকাকলীতে মুখরিত হবে বাংলাদেশের প্রতিটি ক্যাম্পাস, এই প্রত্যাশায় —
একজন অভিভাবক;












