ডেঞ্জার ফিফটিনে বাংলাদেশ - দৈনিক বরিশাল ২৪ দৈনিক বরিশাল ২৪ডেঞ্জার ফিফটিনে বাংলাদেশ - দৈনিক বরিশাল ২৪

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ২৪, ২০২০ ৩:২৬ অপরাহ্ণ
A- A A+ Print

ডেঞ্জার ফিফটিনে বাংলাদেশ

৫৯

অনলাইন নিউজঃ মহামারী করোনা ভাইরাসে বেসামাল গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশেও প্রতিদিন বাড়ছে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে মানুষ। সাধারণ জনগণের পাশাপাশি জরুরি সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী কেউই বাদ যাচ্ছে না এই মহামারীর করাল গ্রাস থেকে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজ থেকে আগামী ১৫ দিন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ১৫ দিন করোনা তার শক্তির হিংস তা প্রকাশ করতে পারে, যদি না দেশবাসী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের সমীক্ষা অনুসরণ করলে বাংলাদেশের জন্য এই ১৫ দিন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ভয়াবহ উপদ্রুত সব ক’টি দেশেই দেখা গেছে করোনা প্রথম ধরা পড়ার দুই মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এরপর ধীরে ধীরে এর প্রকোপ কমতে থাকে। আগামী ৬ মে বাংলাদেশে ৬০ দিন হবে।

অর্থাৎ ‘ডেঞ্জার পিরিয়ড’ বা অতিবিপৎকাল এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। যার বাকি রয়েছে আরো ১৩ দিন। এই দিনগুলো সতর্ক হয়ে চললে বাংলাদেশে করোনা সামাল দেয়া অনেকখানি সম্ভবপর হবে।

এদিকে বাংলাদেশের অতিবিপৎকাল নিয়ে বর্তমান দিনগুলোর বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছেন করোনার বিপর্যয়ের মধ্যেও মাঠে কাজ করা স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা বলছেন, আগামী ১৩ দিন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এই ক’দিনের মধ্যে অধিকাংশ বোরো ধান কাটা শেষ হবে। এর মধ্যে বন্যা না হলে দেশে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা নেই।

এ সময়ের মধ্যে দেশের সব কোভিক হাসপাতাল (জেলা পর্যায় ও বসুন্ধরাসহ) পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করবে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষণার কিট পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে। সচিবদের মাধ্যমে সব জেলার সব গ্রামে পুরোদমে খাদ্য সহায়তা ছড়িয়ে যাবে বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এই দিনগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে সরকারও কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে নতুন করে বাড়ানো হয়েছে সরকারি ছুটি। আগামী ৫ মে পর্যন্ত এই ছুটি চলবে। তাই আগামী এই কয়েকটি দিন ঘরে বসে শুধুই অপেক্ষা করতে হবে দেশবাসীকে। ৬ মে’র পরই বোঝা যাবে প্রকৃত অবস্থা। তবে দেশবাসী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে এই কয়েকটি দিন কষ্ট স্বীকার করে ঘরে থাকলে করোনা ঝুঁকি কমে আসতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দেশের প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই ভাইরাসে মারা গেছে ১২৭ জন। আর মোট শনাক্তের সংখ্যা চার হাজার ১৮৬ জন। এদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজন মারা গেছেন। একই সময়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন ৪১৪ জন।

নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ১৬ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ১০৮ জন। দিন দিন এর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় দফায় দফায় বাড়ানো হয় সরকারি ছুটি। একের পর এক লকডাউন করে দেয়া হয় বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও গ্রাম। রাজধানীতেও লকডাউন করে দেয়া হয় বিভিন্ন এলাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের জন্য করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আগামী ৬ মে পর্যন্ত প্রতিটি দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ এখন সংক্রমণের দিক থেকে চতুর্থ স্তরে প্রবেশ করেছে। ভাইরাসটি কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়লেও সেটি এখনো ক্লাস্টার আকারে রয়েছে। সংক্রমণের প্রথম স্তর বলা হয়ে থাকে যখন দেশে কোনো রোগী শনাক্ত না হয়।

দ্বিতীয় স্তর বলা হয়, যখন বিদেশ ফেরতদের মাধ্যমে রোগী শনাক্ত হয়। তৃতীয় স্তর হচ্ছে সীমিত আকারে সমাজে রোগটি ছড়িয়ে পড়া। বাংলাদেশ এসব স্তর অতিক্রম করে এখন চতুর্থ স্তরে আছে। তাই আগামী দিনগুলো খুবই সাবধানে থাকতে হবে বলে মনে করছেন তারা।

আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, বিভিন্ন এলাকায় এখন ‘ক্লাস্টার’ বা গুচ্ছ আকারে ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তাই এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাড়িতে অবস্থান করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও সাধারণ ছুটি বাড়ানো এবং বিভিন্ন এলাকা লকডাউন করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলো স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে জনসমাজকে সম্পৃক্ত করে এবং কমিউনিটির নেতৃত্বকে প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত করে নিজেদের সমস্যা নিজেদেরই পরিবর্তন করার দায়িত্ব দিলে পরিস্থিতির একটা নাটকীয় পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করেন আইইডিসিআরের উপদেষ্টা মোশতাক হোসেন। কোয়ারেন্টাইন সফল করার জন্য পদক্ষেপ এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পদক্ষেপ নিয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার বেশকিছু দেশ করোনার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে বলেও জানান তিনি।

তবে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস রোধ করতে শুধু প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্ব দিয়ে লকডাউন বা কোয়ারেন্টাইন পালন নিশ্চিত করা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

মোশতাক হোসেন বলেন, লকডাউন বা কোয়ারেন্টাইনের মধ্যে রোগী দ্রুত শনাক্ত করে তাকে আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া, তার আশপাশের মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে নেয়ার মতো পদক্ষেপের পাশাপাশি আশপাশের কমিউনিটিকেও সংযুক্ত করতে হবে। মৃদু সংক্রমণ হয়েছে যাদের মধ্যে, তাদের ও তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিতে হবে স্থানীয় জনসমাজের মাধ্যমে।

তা না করে প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করলে তা অনেকটা পুলিশি ব্যবস্থা হয়ে যাবে; আর সে রকম হলে জনগণ সেটাকে মন থেকে মেনে নিতে পারবে না। ফলে ঘটবে পালিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা। একই রকম মন্তব্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়ারও।

তিনি বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন যে করোনা পজিটিভ হলে তাদের তুলে নিয়ে আইসোলেশন কেন্দ্রে রাখা হবে এবং তাদের বাড়ি লকডাউন করে দেয়া হবে। তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেতিবাচক আচরণ করা হবে এবং তাদের বর্জন করা হবে। এজন্য তারা কোভিড-১৯ পরীক্ষায় আগ্রহী নন। এমনকি, তাদের মধ্যে কিছু চিকিৎসকের কাছে এলেও তারা চিকিৎসার ইতিহাস এবং তাদের অবস্থান গোপন করেন। আমাদের এই সমস্যা সমাধান করা দরকার। তা না হলে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আমাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। কারণ এই ব্যক্তিদের করোনা শনাক্ত হবে না এবং তাদের পরিবারের সদস্য ও তাদের সংস্পর্শে আসা অন্য ব্যক্তিদের মধ্যে এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে থাকবে। তাই আগামী দিনগুলোতে যদি কেউ স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক দূরত্বের নিয়মগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ না করে তবে তারা এতে সংক্রমিত হতে পারে। তবে তাদের এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত নয়। কারণ ৮০ শতাংশ মানুষ কেবল বিচ্ছিন্ন হয়ে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করে হাসপাতালে না গিয়েই সুস্থ হতে পারেন।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘চিকিৎসার ইতিহাস এবং করোনা ভাইরাসজনিত লক্ষণ গোপন করায় ওইসব রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে কিছু চিকিৎসক ও নার্স সংক্রমিত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর ও নরসিংদীর মতো করোনা ভাইরাস হটস্পট থেকে আগত অনেক রোগীও তাদের ঠিকানা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন। তারা বলেন যে তারা বগুড়া বা অন্যান্য জেলা থেকে এসেছেন, যেখানে সংক্রমণ হার এখনো খুব কম। এটি খুব উদ্বেগজনক। এমনটি অব্যাহত থাকলে আমাদের স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। আমাদের চিকিৎসক ও নার্সরা যদি পরীক্ষা না করা রোগীদের সেবা দিয়ে সংক্রমিত হন, তাহলে রোগীদের চিকিৎসা করবে কে? এটি একটি নতুন সংকট সৃষ্টি করবে।’

তিনি গণমাধ্যমকে মানুষের লক্ষণ গোপন করার প্রবণতা পরিবর্তনে এবং পরীক্ষার জন্য উৎসাহ দিতে সচেতনতা তৈরি করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস মহামারীর জেরে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ লাখ এবং মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গত মঙ্গলবারও ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৮০৪ জনসহ গোটা পৃথিবীতে প্রাণ গেছে ৭ হাজারের বেশি মানুষের। প্রতিদিনই বাড়তে থাকা মৃত্যুর এই বিভীষিকার মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেন, সামনের দিনগুলোয় যদি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়, তাহলে সেটি আরো বেশি ধ্বংসাত্মক হতে পারে।

এদিকে করোনা মহামারীর মধ্যেই বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোয় লকডাউন তুলে নেয়ার যে প্রস্ততি শুরু হয়েছে তা নিয়ে আবারও সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংস্থাটি বলছে, পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নেই যারা দাবি করতে পারে তারা নিরাপদ। সরকারগুলোর উচিত মহামারীর গতিবিধি বুঝে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা, তাই সতর্কতা অবলম্বন করেই লকডাউন তুলতে হবে।

দৈনিক বরিশাল ২৪

ডেঞ্জার ফিফটিনে বাংলাদেশ

শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২০ ৩:২৬ অপরাহ্ণ
৫৯

অনলাইন নিউজঃ মহামারী করোনা ভাইরাসে বেসামাল গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশেও প্রতিদিন বাড়ছে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে মানুষ। সাধারণ জনগণের পাশাপাশি জরুরি সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী কেউই বাদ যাচ্ছে না এই মহামারীর করাল গ্রাস থেকে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজ থেকে আগামী ১৫ দিন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ১৫ দিন করোনা তার শক্তির হিংস তা প্রকাশ করতে পারে, যদি না দেশবাসী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের সমীক্ষা অনুসরণ করলে বাংলাদেশের জন্য এই ১৫ দিন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ভয়াবহ উপদ্রুত সব ক’টি দেশেই দেখা গেছে করোনা প্রথম ধরা পড়ার দুই মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এরপর ধীরে ধীরে এর প্রকোপ কমতে থাকে। আগামী ৬ মে বাংলাদেশে ৬০ দিন হবে।

অর্থাৎ ‘ডেঞ্জার পিরিয়ড’ বা অতিবিপৎকাল এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। যার বাকি রয়েছে আরো ১৩ দিন। এই দিনগুলো সতর্ক হয়ে চললে বাংলাদেশে করোনা সামাল দেয়া অনেকখানি সম্ভবপর হবে।

এদিকে বাংলাদেশের অতিবিপৎকাল নিয়ে বর্তমান দিনগুলোর বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছেন করোনার বিপর্যয়ের মধ্যেও মাঠে কাজ করা স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা বলছেন, আগামী ১৩ দিন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এই ক’দিনের মধ্যে অধিকাংশ বোরো ধান কাটা শেষ হবে। এর মধ্যে বন্যা না হলে দেশে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা নেই।

এ সময়ের মধ্যে দেশের সব কোভিক হাসপাতাল (জেলা পর্যায় ও বসুন্ধরাসহ) পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করবে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষণার কিট পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে। সচিবদের মাধ্যমে সব জেলার সব গ্রামে পুরোদমে খাদ্য সহায়তা ছড়িয়ে যাবে বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এই দিনগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে সরকারও কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে নতুন করে বাড়ানো হয়েছে সরকারি ছুটি। আগামী ৫ মে পর্যন্ত এই ছুটি চলবে। তাই আগামী এই কয়েকটি দিন ঘরে বসে শুধুই অপেক্ষা করতে হবে দেশবাসীকে। ৬ মে’র পরই বোঝা যাবে প্রকৃত অবস্থা। তবে দেশবাসী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে এই কয়েকটি দিন কষ্ট স্বীকার করে ঘরে থাকলে করোনা ঝুঁকি কমে আসতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দেশের প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই ভাইরাসে মারা গেছে ১২৭ জন। আর মোট শনাক্তের সংখ্যা চার হাজার ১৮৬ জন। এদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজন মারা গেছেন। একই সময়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন ৪১৪ জন।

নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ১৬ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ১০৮ জন। দিন দিন এর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় দফায় দফায় বাড়ানো হয় সরকারি ছুটি। একের পর এক লকডাউন করে দেয়া হয় বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও গ্রাম। রাজধানীতেও লকডাউন করে দেয়া হয় বিভিন্ন এলাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের জন্য করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আগামী ৬ মে পর্যন্ত প্রতিটি দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ এখন সংক্রমণের দিক থেকে চতুর্থ স্তরে প্রবেশ করেছে। ভাইরাসটি কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়লেও সেটি এখনো ক্লাস্টার আকারে রয়েছে। সংক্রমণের প্রথম স্তর বলা হয়ে থাকে যখন দেশে কোনো রোগী শনাক্ত না হয়।

দ্বিতীয় স্তর বলা হয়, যখন বিদেশ ফেরতদের মাধ্যমে রোগী শনাক্ত হয়। তৃতীয় স্তর হচ্ছে সীমিত আকারে সমাজে রোগটি ছড়িয়ে পড়া। বাংলাদেশ এসব স্তর অতিক্রম করে এখন চতুর্থ স্তরে আছে। তাই আগামী দিনগুলো খুবই সাবধানে থাকতে হবে বলে মনে করছেন তারা।

আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, বিভিন্ন এলাকায় এখন ‘ক্লাস্টার’ বা গুচ্ছ আকারে ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তাই এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাড়িতে অবস্থান করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও সাধারণ ছুটি বাড়ানো এবং বিভিন্ন এলাকা লকডাউন করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলো স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে জনসমাজকে সম্পৃক্ত করে এবং কমিউনিটির নেতৃত্বকে প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত করে নিজেদের সমস্যা নিজেদেরই পরিবর্তন করার দায়িত্ব দিলে পরিস্থিতির একটা নাটকীয় পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করেন আইইডিসিআরের উপদেষ্টা মোশতাক হোসেন। কোয়ারেন্টাইন সফল করার জন্য পদক্ষেপ এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পদক্ষেপ নিয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার বেশকিছু দেশ করোনার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে বলেও জানান তিনি।

তবে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস রোধ করতে শুধু প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্ব দিয়ে লকডাউন বা কোয়ারেন্টাইন পালন নিশ্চিত করা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

মোশতাক হোসেন বলেন, লকডাউন বা কোয়ারেন্টাইনের মধ্যে রোগী দ্রুত শনাক্ত করে তাকে আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া, তার আশপাশের মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে নেয়ার মতো পদক্ষেপের পাশাপাশি আশপাশের কমিউনিটিকেও সংযুক্ত করতে হবে। মৃদু সংক্রমণ হয়েছে যাদের মধ্যে, তাদের ও তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিতে হবে স্থানীয় জনসমাজের মাধ্যমে।

তা না করে প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করলে তা অনেকটা পুলিশি ব্যবস্থা হয়ে যাবে; আর সে রকম হলে জনগণ সেটাকে মন থেকে মেনে নিতে পারবে না। ফলে ঘটবে পালিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা। একই রকম মন্তব্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়ারও।

তিনি বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন যে করোনা পজিটিভ হলে তাদের তুলে নিয়ে আইসোলেশন কেন্দ্রে রাখা হবে এবং তাদের বাড়ি লকডাউন করে দেয়া হবে। তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেতিবাচক আচরণ করা হবে এবং তাদের বর্জন করা হবে। এজন্য তারা কোভিড-১৯ পরীক্ষায় আগ্রহী নন। এমনকি, তাদের মধ্যে কিছু চিকিৎসকের কাছে এলেও তারা চিকিৎসার ইতিহাস এবং তাদের অবস্থান গোপন করেন। আমাদের এই সমস্যা সমাধান করা দরকার। তা না হলে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আমাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। কারণ এই ব্যক্তিদের করোনা শনাক্ত হবে না এবং তাদের পরিবারের সদস্য ও তাদের সংস্পর্শে আসা অন্য ব্যক্তিদের মধ্যে এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে থাকবে। তাই আগামী দিনগুলোতে যদি কেউ স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক দূরত্বের নিয়মগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ না করে তবে তারা এতে সংক্রমিত হতে পারে। তবে তাদের এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত নয়। কারণ ৮০ শতাংশ মানুষ কেবল বিচ্ছিন্ন হয়ে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করে হাসপাতালে না গিয়েই সুস্থ হতে পারেন।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘চিকিৎসার ইতিহাস এবং করোনা ভাইরাসজনিত লক্ষণ গোপন করায় ওইসব রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে কিছু চিকিৎসক ও নার্স সংক্রমিত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর ও নরসিংদীর মতো করোনা ভাইরাস হটস্পট থেকে আগত অনেক রোগীও তাদের ঠিকানা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন। তারা বলেন যে তারা বগুড়া বা অন্যান্য জেলা থেকে এসেছেন, যেখানে সংক্রমণ হার এখনো খুব কম। এটি খুব উদ্বেগজনক। এমনটি অব্যাহত থাকলে আমাদের স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। আমাদের চিকিৎসক ও নার্সরা যদি পরীক্ষা না করা রোগীদের সেবা দিয়ে সংক্রমিত হন, তাহলে রোগীদের চিকিৎসা করবে কে? এটি একটি নতুন সংকট সৃষ্টি করবে।’

তিনি গণমাধ্যমকে মানুষের লক্ষণ গোপন করার প্রবণতা পরিবর্তনে এবং পরীক্ষার জন্য উৎসাহ দিতে সচেতনতা তৈরি করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস মহামারীর জেরে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ লাখ এবং মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গত মঙ্গলবারও ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৮০৪ জনসহ গোটা পৃথিবীতে প্রাণ গেছে ৭ হাজারের বেশি মানুষের। প্রতিদিনই বাড়তে থাকা মৃত্যুর এই বিভীষিকার মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেন, সামনের দিনগুলোয় যদি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়, তাহলে সেটি আরো বেশি ধ্বংসাত্মক হতে পারে।

এদিকে করোনা মহামারীর মধ্যেই বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোয় লকডাউন তুলে নেয়ার যে প্রস্ততি শুরু হয়েছে তা নিয়ে আবারও সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংস্থাটি বলছে, পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নেই যারা দাবি করতে পারে তারা নিরাপদ। সরকারগুলোর উচিত মহামারীর গতিবিধি বুঝে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা, তাই সতর্কতা অবলম্বন করেই লকডাউন তুলতে হবে।

প্রকাশক: মোসাম্মাৎ মনোয়ারা বেগম। সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা। সম্পাদক : শামিম আহমেদ যুগ্ন-সম্পাদক : মো:মনিরুজ্জামান। প্রধান উপদেষ্টা: মোসাম্মৎ তাহমিনা খান বার্তা সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম ।
প্রধান কার্যালয় : রশিদ প্লাজা,৪র্থ তলা,সদর রোড,বরিশাল।
সম্পাদক: 01711970223 বার্তা বিভাগ: 01764- 631157
ইমেল: sohelahamed2447@gmail.com
  ৭ নভেম্বর: বাংলাদেশের নিজের পথ খুঁজে নেওয়ার দিন   বরিশালের জনপ্রিয় কবি ফরিদ উদ্দিনের ‘চন্দ্রদ্বীপ’   মেয়েদের জমি লিখে দেওয়ায় ৮০ বছরের বৃদ্ধের ঘরে তালা   ছেলেদের স্পর্শে আপত্তি, মেয়েদের ক্ষেত্রে ছাড়? সামাজিক বৈষম্যের চিত্র   এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন   সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের রাস্তায় পেলে গ্রেপ্তার উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পারলে অভিভাবকদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে : ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী   এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, শুরু হতে পারে ২ ডিসেম্বর   বরিশাল প্রেসক্লাবের নতুন সদস্য পদ পেলেন ১১ সাংবাদিক   হালিশহর মডেল স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নতুন সভাপতি জাকের হোসেন সম্পাদক আশ্রাফ আলী   বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনই শিক্ষার্থীরা পাবে নতুন বই: শিক্ষামন্ত্রী   বরিশালে যুবদলের উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসুচি অনুষ্ঠিত   বরিশালে বাসচাপায় কাতার প্রবাসী নিহত   বর্ণিল আয়োজনে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত   ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু   ‘এই জার্সিটাই ছিল আমার জীবন, এত ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ’   কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে রাজনীতিবীদদের ইতিবাচক ভুমিকা জরুরী   বরিশালে শ্রমিকদল নেতা রাজ্জাক সরদার আর নেই, শোকে স্তব্ধ ২নং কাশিপুর   রোহিঙ্গাদের চিরকাল বাস্তুচ্যুত রাখতে চায় না বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী   বাঁশির সুরে তুমুল জনপ্রিয় শেখ সোলায়মান এবার নিয়ে এলেন ‘মানব জীবন’   বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ডিআইজি আবু রায়হান সালেহ্