বরিশালে তিন দফা দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
শামীম আহমেদ: বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছে। গতকাল দুপুর ২টা থেকে এ কর্মবিরতি শুরু করা হয়।
এর আগে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে জমা দেওয়া হয় ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সজল পান্ডে এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. তরিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত প্যাডে স্মারকলিপি ও কর্মবিরতিপত্র।
স্মারকলিপি ও কর্মবিরতিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট ৪-এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাসুদ খানের অনৈতিক ও হীন কর্মকা-ের জন্য তিন দফা দাবিসহ ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক পরিচালকের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হলো।
দাবিগুলো হলো- ডা. মাসুদ খানের দায়ের করা প্রহসনমূলক মিথ্যা মামলা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, সুষ্ঠু বিচার করতে হবে ডা. মাসুদ খানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো, সেই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে মানহানির বিচার করতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২১ অক্টোবর শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট ৪-এর রেজিস্ট্রার ডা. মো. মাসুদ খান, শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের সভাপতি সজল পান্ডে ও সাধারণ সম্পাদক ডা. তরিকুল ইসলামের নাম উল্লেখসহ আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে তার ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ এনে পরিচালকের কাছে অভিযোগ করেন। এর পরদিন ২২ অক্টোবর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মেডিক্যালের সামনে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগে পাল্টা অভিযোগ করেন ডা. মাসুদ খানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক একটি তদন্ত কমিটিও গঠন
করেন। এর কয়েকদিন পরে ডা. মাসুদ খান কোতোয়ালি থানায় ওই ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
মামলার খবর পেয়ে ২৯ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং কর্মবিরতির ডাক দেন। পরে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ, হাসপাতাল পরিচালক ও উপ-পরিচালকের হস্তক্ষেপে আড়াই ঘণ্টার আলোচনা শেষে রাত আড়াইটায় কর্মবিরতি থেকে সরে আসে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। সে সময় তারা কিছু আল্টিমেটামও বেঁধে দেয় কর্তৃপক্ষকে। সেগুলো পূরণ না করায় এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল দুপুর থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ঘোষণা দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। উল্লেখ্য, শেবাচিম হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় দেড়শ ইন্টার্ন চিকিৎসক দায়িত্বপালন করেন।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, দুপক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসা হয়েছিল। কিন্তু কোনো পক্ষই নিজ অবস্থান থেকে ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় সমঝোতা হয়নি। তবে সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।












